ডা চন্দ্রগুপ্ত

২২ তম পর্বের পর…..

ওদের কথার মাঝখানে একজন এস.আই, পাঁচ-ছ’জন পুলিস নিয়ে কলেজের সামনে থেকে ভিড় হাটাতে বলল। পুলক খেয়ালই করেনি হাতের ইশারাতে প্রণব বসু কখন ঐ এস.আই কে এখানে আসতে বলেছে। পুলক কিন্তু প্রণব বসুর পাশ ছাড়ছে না।

পরিস্থিতি বেগতিক হতে পারে সেটা আন্দাজ করে কানাই প্রায় প্রণব বসুর গা ঘেঁসে দাঁড়ালো।

—এটা ঠিক হচ্ছে না প্রণব দা, অধৈর্য্য হয়ে বলে উঠল পুলক—আরে, এত উত্তেজিত হচ্ছে কেন পুলক, তুমি তো ঠিক বলেছ। আইন বলছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান যতক্ষণ পুলিশকে না ডাকবে ততক্ষণ ওরা ভেতরে ঢুকতে পারবে না,। ব্যাস, ঢুকবে না ভেতরে।তবুও হাল ছাড়ল না পুলক। প্রণব বসুর চিড়ে ভেজানো কথায় ওর বিশ্বাস হয় না। মনের অস্বস্তি মুখে ফুটে উঠছে। কিন্তু পরিস্থিতি হাতের মুঠোতে রাখতে চায় প্রণব বসু। মৃন্ময় কয়াল কলেজ নির্বাচনের নমিনেশনের ওপর তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নির্ভর করছে। তাই বিরোধী পক্ষের কনফিডেন্স বজায় রাখার জন্যে প্রণবদা বলল, ‘পুলক, আমাদের দলটা কিন্তু গণতন্ত্রের ওপরে দাঁড়িয়ে, এবং রাজ্য চালাই গণতন্ত্র মেনে। — আরে বাবা পুলিশ এসেছে ল্-এন্ড অর্ডার দেখতে, আসুক, ক্ষতি কি।’লেবার পার্টির এই পাকা মাথার নেতার কথায় পুলক শান্ত হলেও লেবার পার্টির অন্য জোন থেকে আসা ছেলেরা হঠাৎ শ্লোগান তুলল—“শাসক-পুলিশ অশুভ আঁতাত দূর হটো”, শাসকের গুণ্ডা পুলিশের কালো হাত ভেঙে দাও, গুড়িয়ে দাও।” —প্রগতিশীল দলের ছেলেরা একবার ও দেখল না যে শ্লোগান কোথা থেকে আসছে এবং কারা দিচ্ছে, তারাও এই শ্লোগানে যোগ দিল।

ক্রমশ…..