শমিত মন্ডল
পঞ্চম পর্বের পর…..
হঠাৎ ওর মনে পড়ে নিতাই কোনও কোনও রাতে একটা বয়াম থেকে কী যেন খেত। মহাদেব কবিরাজ তৈরি করে দিয়েছিল। মোদক না কী যেন নাম। সেই সব রাতে নিতাই বেশ—। এখনও আছে খানিকটা। একই সঙ্গে কৌতুক ও যৌনতাড়সে তাড়িত হয় কেতকী। একটা ছোট হাতায় তুলে ওই থকথকে মন্ড পাগলকে খেতে দেয়। পাগল একটু একটু করে খায় সবটা। কেতকী দ্রুত ঘরের কাজ সেরে ফেলে। তারপরে এককাঁড়ি জামাকাপড় ক্ষারে ভিজিয়ে রাখে। সারারাত ভিজে এগুলো খারাপ হয়ে যেতে পারে। কিন্তু তাতে ওর কী? এতক্ষণ ভিজে থাকার ফলে সকালে এগুলো অল্প আয়াসেই পরিষ্কার হবে। কাজ করলে কি হবে কেতকীর মন পড়ে থাকে পাগলের দিকে। কেতকী বুঝতে পারে, ওর
শরীরের ছমছমামি! ঘরের ছিটকিনি বন্ধ করে ও। পাগলের কাছে আসে। দেখে, চিত হয়ে শুয়ে আছে পাগল। কেতকী শিয়রের প্রদীপটিকে এক ফুঁয়ে নিভিয়ে দিয়ে পাগলের বুকে ঝাঁপিয়ে পড়ে। প্রদীপ নেভালে কী হবে— ভাঙাচোরা দেওয়ালের ফাঁক দিয়ে প্রচুর চাঁদের আলো ঢুকে ওদের দুজনের শরীরে লুটোপুটি খায়।
পাগল এখন অনেকটাই সুস্থ। এদিক সেদিক গেলে পথ চিনে আবার বাড়ি ফিরতে পারে। কেতকীর কথার জবাবে কখনও হুঁ-হাঁ করে জবাব দেয়। কিন্তু মাঝেমাঝেই কেমন উদাস দৃষ্টিতে নদীর ওপারের আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে। বিড়বিড় করে কী যেন বলে!
ক্রমশ….
