ওয়েব ডেস্ক; ২৮ জানুয়ারি : এদিন মুম্বাই-বারামতী রুটে যাত্রার সময়ে মেসার্স ভিএসআর ভেঞ্চার প্রাইভেট লিমিটেডের ভিটি-এসএসকে নামে নিবন্ধিত একটি লার্জেট ৪৫ বিমান বারামতী বিমান বন্দরে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। বিমানটিতে দু জন বিমানকর্মী সহ মোট ৫ জন যাত্রী ছিলেন। এঁদের অন্যতম হলেন মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার। দুর্ঘটনায় ৫ যাত্রীরই মৃত্যু হয়েছে।

প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত তথ্য :

 মেসার্স ভিএসআর ভেঞ্চার্স একটি নন শিডিউল্ড অপারেটর, পারমিট নাম্বার ০৭/২০১৪
 প্রাথমিক এওপি জারি করা হয়েছিল ২১.৪.২০১৪ তারিখে
 এওপি শেষ বার নবীকরণ করা হয় ৩.০৪.২০২৩ তারিখে, ২৪.৪.২০২৮ পর্যন্ত এর বৈধতা ছিল
 বহরে বিমানের সংখ্যা- ১৭
 ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এ ডিজিসিএ-এর সর্বশেষ বিধিবদ্ধ নিরীক্ষা করায়। এতে লেভেল ১-এর কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি
 ১৪.৯.২০২৩ তারিখে কোম্পানির একটি লার্জেট ৪৫ বিমান মুম্বাই বিমান বন্দরে অবতরণের সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এএআইবি এই দুর্ঘটনার তদন্ত করছে।

২৬.১.২০২৬ তারিখে বিমানের বিশদ তথ্য :

 বিমান নথিবদ্ধকরণ সংখ্যা- ভিটিএসএসকে
 নির্মাণের বছর- ২০১০
 নথিবদ্ধকরণের শংসাপত্র- ২৭.১২.২০২২
 উড়ানের শংসাপত্র জারির তারিখ- ১৬.১২.২০২১
 এআরসি জারির তারিখ- ১০.৯.২০২৫ বৈধতার সময়সীমা ১৪.৯.২০২৬ পর্যন্ত
 টিএসএন/সিএসএন- ৪৯১৫:৪৮/৫৮৬৭
 শেষ এআরসি-র পর সময় (আকাশে ওড়ার যোগ্যতার পর্যালোচনা)- ৮৫:৪৯ ঘণ্টা

ইঞ্জিনের বিশদ তথ্য

ইঞ্জিনের ধরণ- TFE731-20BR
বাঁ দিকের ইঞ্জিন ঘণ্টা/সাইকেল- ৪৯১৫:৪৮/৫৯৬৫
ডান দিকের ইঞ্জিন ঘণ্টা/সাইকেল- ৪৫২৬:৪৪/৫৪২৬

বিমান কর্মী সংক্রান্ত তথ্য

প্রধান পাইলট- এটিপিএল প্রাপক
বিমান ওড়ানোর অভিজ্ঞতা- ১৫০০ ঘণ্টারও বেশি
শেষ শারীরিক পরীক্ষার তারিখ- ১৯.১১.২০২৫, বৈধ ১৯.৫.২০২৬ পর্যন্ত
শেষ আইআর/পিপিসি-র তারিখ- ১৮.৮.২০২৫

সহকারী পাইলট- সিপিএল প্রাপক
বিমান ওড়ানোর অভিজ্ঞতা- প্রায় ১৫০০ ঘণ্টা
শেষ শারীরিক পরীক্ষার তারিখ- ১২.৭.২০২৫, বৈধ ২৪.৭.২০২৬ পর্যন্ত
শেষ আইআর/পিপিসি-র তারিখ- ২২.৭.২০২৫

দুর্ঘটনার আগের ধারাবাহিক ঘটনা

 বারামতী একটি অনিয়ন্ত্রিত বিমান ঘাঁটি, এর তথ্য সরবরাহ করেন বারামতী ফ্লাইং ট্রেনিং অর্গানাইজেশনের প্রশিক্ষক/পাইলটরা। এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলে যে ব্যক্তি ছিলেন, তাঁর বিবৃতি অনুসারে ঘটনাক্রম নিচে দেওয়া হল :

 ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ভিআই-এসএসকে বিমান প্রথম ৮.১৮ মিনিটে বারামতীর কাছে আসে।

 বিমানটির পরবর্তী সাড়া মেলে বারামতীর ৩০ নটিক্যাল মাইল কাছে। তারা পুণে অ্যাপ্রোচের আওতামুক্ত হয়। পাইলটের বিবেচনা অনুসারে তাদের অবতরণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।

 বিমান কর্মীরা বাতাস এবং দৃশ্যমানতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে জানানো হয় যে বাতাস শান্ত রয়েছে এবং দৃশ্যমানতা প্রায় ৩০০০ মিটার পর্যন্ত।

 এরপর বিমানটি রানওয়ে ১১-তে নামতে চায়। তবে রানওয়ে তাদের দৃষ্টিগোচর হয়নি। তারা চারপাশে ঘোরার সিদ্ধান্ত নেয়।

 এই ঘোরাঘুরির পর বিমানটির অবস্থান জানতে চাওয়া হয়, বিমান কর্মীরা জানান, তাঁরা রানওয়ে ১১তে নামার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

 রানওয়ে তাঁদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে কি না জানতে চাওয়া হলে বিমান কর্মীরা বলেন, এখনও তা দৃষ্টি সীমার মধ্যে আসেনি। এলেই তাঁরা জানাবেন। কয়েক সেকেন্ড পরেই তাঁরা জানান রানওয়ে দেখা গেছে।

 বিমানটিকে ৮.৪৩ মিনিটে রানওয়ে ১১তে নামার অনুমতি দেওয়া হয়, কিন্তু বিমান কর্মীরা এর কোনও জবাব দেননি।

 এর পরই ৮.৪৪ মিনিটে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল থেকে রানওয়ে ১১-র প্রান্তে আগুনের শিখা দেখা যায়। জরুরি পরিষেবাগুলিকে দ্রুত দুর্ঘটনা স্থলে পাঠানো হয়।

 বিমানের ধ্বংসাবশেষ রানওয়ে ১১-র বাঁ পাশে পড়ে থাকতে দেখা যায়।

এএআইবি এই দুর্ঘটনার তদন্তভার হাতে নিয়েছে। এএআইবি-র মহানির্দেশক দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছচ্ছেন। পরবর্তী তথ্য পাওয়া গেলেই তা জানানো হবে।