ওয়েব ডেস্ক; ৯ আগস্ট : ভারত সরকার স্পষ্টভাবে জানাতে চায় যে:
ব্যবহারকারীদের জন্য কোনো মাশুল নেই: পেমেন্ট বা অর্থ প্রদানকারী গ্রাহকদের কোনো লেনদেন-জনিত মাশুল দিতে হবে না।

পি-টু-পি লেনদেন বিনামূল্যে: ব্যক্তি-থেকে-ব্যক্তি সব লেনদেন বিনামূল্যে অব্যাহত থাকবে।

ব্যবসায়ীদের জন্য নামমাত্র এমডিআর : যখনই এমডিআর চার্জ চালু করা হবে, তা কেবল নির্দিষ্ট সীমার ওপরের কিছু ব্যবসায়িক লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে এবং এর হার হবে নামমাত্র – যা ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের এমডিআর-এর তুলনায় অনেক কম।

ইউপিআই-এর মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের করা অধিকাংশ লেনদেনই বিনামূল্যে থাকবে। এমডিআর চালু করা হলেও তা কেবল নির্দিষ্ট সীমার ওপর ভিত্তি করেই ধার্য করা হবে; সবার ওপর ঢালাওভাবে এটি আরোপ করা হবে না।

সংসদে ‘ট্যাক্সেশন অ্যান্ড আদার লজ (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ পাস হওয়ার পর – যার মাধ্যমে ‘পেমেন্ট অ্যান্ড সেটলমেন্ট সিস্টেমস অ্যাক্ট, ২০০৭’-এর ১০এ ধারা সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে – এনপিসিআই-এর নেতৃত্বাধীন “ইউপিআই অ্যান্ড সার্ভিসেস স্টিয়ারিং কমিটি” এমডিআর (যদি আদৌ চালু করা হয়) সংক্রান্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

‘পেমেন্ট অ্যান্ড সেটলমেন্ট সিস্টেমস অ্যাক্ট’ কেন সংশোধন করা হচ্ছে?

‘পেমেন্ট অ্যান্ড সেটলমেন্ট সিস্টেমস অ্যাক্ট’ (পিএসএস অ্যাক্ট)-এর সাম্প্রতিক সংশোধনীটি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে; কেউ কেউ ভুলবশত মনে করছেন যে সাধারণ ব্যবহারকারীদের ওপর মাশুল আরোপের জন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, এই সংশোধনীটি এমন একটি সহায়ক ব্যবস্থা যা ইউপিআই-এর দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং উদীয়মান ঝুঁকির বিরুদ্ধে সক্ষমতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে।

ইউপিআই-এর প্রবৃদ্ধি : লেনদেনের পরিমাণ দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পাওয়ায় সাইবার নিরাপত্তা, জালিয়াতি প্রতিরোধ এবং পরিকাঠামোগত ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য ও ধারাবাহিক উন্নয়নের প্রয়োজন রয়েছে।

বাজার সম্প্রসারণ : আরও বেশি কোম্পানিকে তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণে উৎসাহিত করার মাধ্যমে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন, যার জন্য একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ রাজস্ব মডেল বা আয়ের ব্যবস্থার দরকার।

স্বয়ংসম্পূর্ণতা : প্রবৃদ্ধির পরবর্তী ধাপের জন্য কেবল ভর্তুকির ওপর নির্ভর করা টেকসই নয়। ইউপিআই যাতে শক্তিশালী, সর্বজনীন এবং ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকে, তা নিশ্চিত করার জন্য একটি ভারসাম্যপূর্ণ কাঠামো প্রয়োজন।

ভুল ধারণা বা অপপ্রচারের বিষয়ে স্পষ্টীকরণঃ

কিছু সংবাদমাধ্যমে এমন ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, বাহ্যিক প্রভাবের কারণে নীতিগত পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এই ধারণাটি ভিত্তিহীন, সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং বিভ্রান্তিকর। যদি বাহ্যিক চাপ কোনো কারণ হতো, তবে সরকার ২০১৬ সালে ইউপিআই চালু করত না, কিংবা ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ব্যবসায়ী ও সাধারণ নাগরিক – উভয়ের জন্যই এটি বিনামূল্যে ব্যবহারের ব্যবস্থা করত না এবং এটিকে বিশ্বের বৃহত্তম রিয়েল-টাইম ইন্টারঅপারেবল (পরস্পর-সংযুক্ত) পেমেন্ট সিস্টেমে পরিণত করত না।

তাই, এই সংশোধনীটিকে সরকারের বৃহত্তর লক্ষ্যের প্রেক্ষাপটে দেখা উচিত। সেই লক্ষ্য হলো – ভারতের ডিজিটাল পেমেন্ট পরিকাঠামোকে টেকসই, প্রতিযোগিতামূলক ও উদ্ভাবনী রাখা এবং দেশের দ্রুত বর্ধনশীল ডিজিটাল অর্থনীতির চাহিদা পূরণে সক্ষম করে তোলা।

সত্যটি অত্যন্ত সহজ: ইউপিআই ভারতের নিজস্ব উদ্ভাবন। সরকার নাগরিকদের জন্য এটি বিনামূল্যে রাখার পাশাপাশি আগামী কয়েক দশক ধরে এর স্থায়িত্ব বা কার্যকারিতা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

প্রবৃদ্ধির পরবর্তী ধাপ

ভারত এখন ডিজিটাল পেমেন্ট প্রবৃদ্ধির পরবর্তী ধাপের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। গ্রামীণ ও আধা-শহর এলাকায় ইউপিআই-এর প্রসার ঘটাতে এবং এর প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বজায় রাখতে, ইউপিআই ইকোসিস্টেমকে অবশ্যই স্বয়ংসম্পূর্ণ ও সাশ্রয়ী হতে হবে। পিএসএস আইনের এই সংশোধনীটি একটি দূরদর্শী পদক্ষেপ, যার লক্ষ্য হলো ইউপিআই-কে একটি নিরাপদ, সাশ্রয়ী, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত পেমেন্ট সিস্টেম হিসেবে সমৃদ্ধ হতে সহায়তা করা।

উপসংহার:

ভারত সরকার পুনরায় নিশ্চিত করছে যে:

নাগরিকদের জন্য ইউপিআই বিনামূল্যে থাকবে।

নাগরিকদের দৈনন্দিন লেনদেনের ওপর কোনো মাশুল বা চার্জ ধার্য করা হবে না।

ভবিষ্যতে কোনো এমডিআর ধার্য করা হলে তা হবে নামমাত্র এবং শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কিছু ব্যবসায়িক লেনদেনের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে।

ইউপিআই ভারতের প্রধান ডিজিটাল উদ্ভাবন হিসেবে তার অবস্থান ধরে রেখেছে এবং বিশ্বজুড়ে এর প্রসার ঘটছে।

২০১৬-১৭ সালে চালুর পর থেকে, ইউনিফাইড পেমেন্টস ইন্টারফেস (ইউপিআই) ভারতের ডিজিটাল অর্থনীতিকে বিশ্বের অন্যতম অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গতিশীল পেমেন্ট ইকোসিস্টেমে রূপান্তরিত করেছে। রিয়েল-টাইম ও ইন্টারঅপারেবল পেমেন্টের ক্ষেত্রে একটি সাহসী পরীক্ষা হিসেবে যা শুরু হয়েছিল, তা আজ একটি বৈশ্বিক মানদণ্ডে পরিণত হয়েছে; এটি প্রতি মাসে শত শত কোটি লেনদেন সম্পন্ন করছে এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে ইউপিআই বিশ্বের বৃহত্তম রিয়েল-টাইম পেমেন্ট সিস্টেমে পরিণত হয়েছে – শুধুমাত্র জুলাই ২০২৬-এই এটি ২৯.৯ লক্ষ কোটি টাকা মূল্যের ২,৩৬৬ কোটি লেনদেন সম্পন্ন করেছে। ইউপিআই এখন ১১টি অন্যান্য দেশেও চালু হয়েছে এবং আরও অনেক দেশ এতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ইউপিআই হলো ভারতীয়দের দ্বারা, ভারতীয়দের জন্য গড়ে তোলা একটি জাতীয় সাফল্য। গত এক দশক ধরে সরকার এর প্রচার ও অর্থায়নের মাধ্যমে একে বিকশিত করেছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত রাখবে। নাগরিকদের অনুরোধ করা হচ্ছে যেন তাঁরা শুধুমাত্র অর্থ মন্ত্রক, রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া এবং এনপিসিআই-এর দেওয়া সরকারি তথ্যের ওপর নির্ভর করেন এবং কোনোভাবেই যাচাই না করা বার্তা বা তথ্য অন্যদের কাছে না পাঠান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *