ওয়েব ডেস্ক; ২৯ জানুয়ারি : ব্যয় এবং বিনিয়োগের ডবল ইঞ্জিনে চালিত হয়ে ২৬ অর্থবছরে ভারতের জিডিপি বৃদ্ধি ৭.৪ শতাংশ বৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। সমীক্ষায় বলা হয়েছে ২৭ অর্থবছরে প্রকৃত জিডিপি বৃদ্ধি হতে পারে ৬.৮ থেকে ৭.২ শতাংশ। ২৬ অর্থবছরে জিডিপি-তে চূড়ান্ত প্রাইভেট কনজাম্পশন এক্সপেনডিচার (পিএফসিই)-এর ভাগ ৬১.৫ শতাংশে পৌঁছোতে পারে বলে প্রথম আগাম পূর্বাভাসে বলা হয়েছে। ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি ২৬ অর্থবছরে বৃদ্ধির সহায়ক হতে পারে বিনিয়োগও। গ্রস ফিক্সড ক্যাপিটাল ৩০ শতাংশ হওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

সমীক্ষায় বলা হয়েছে কৃষি এবং সংশ্লিষ্ট পরিষেবা ২৬ অর্থবছরে বাড়তে পারে ৩.১ শতাংশ হারে। শিল্প ক্ষেত্রেও শক্তিশালী হওয়ায় ইঙ্গিত দিচ্ছে উৎপাদন শিল্প যা ২৬ অর্থবছরের প্রথমার্ধে বেড়েছে ৮.৪ শতাংশ হারে, যা ৭.০ শতাংশের পূর্বাভাসের তুলনায় বেশি। ২৬ অর্থবছরে শিল্প ক্ষেত্রও আশা করা হচ্ছে বাড়তে পারে ৬.২ শতাংশ হারে।

অর্থনৈতিক সমীক্ষায় সরবরাহের দিক দিয়ে বলা হয়েছে বৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি থেকে যাবে পরিষেবা। ২৬ অর্থবছরের প্রথমার্থে পরিষেবার জন্য গ্রস ভ্যালু অ্যাডেড (জিভিএ) বেড়েছে ৯.৩ শতাংশ হারে। গোটা অর্থবছরেই যার বৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল ৯.১ শতাংশ।

অর্থনৈতিক সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে অর্থনীতিতে চাহিদা ভিত্তিক বৃদ্ধি মুদ্রাস্ফীতিকে সহজ করেছে। ফলে বেড়েছে প্রকৃত ক্রয় ক্ষমতা। সমীক্ষায় বলা হয়েছে ঘরোয়া চাহিদা এবং মূলধন গঠনের গতি ২৬ অর্থবছরে গতিপ্রাপ্ত হয়েছে সঠিক মুদ্রানীতি রণকৌশলের জন্য। আন্তর্জাতিক ব্যবসার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তার বাতাবরণের মধ্যে পণ্য ও পরিষেবা সহ ভারতের মোট রপ্তানি ২৫ অর্থবছরে পৌঁছেছে রেকর্ড ৮২৫.৩ বিলিয়ন ডলারে। ২৬ অর্থবছরে যে গতি ধরে রাখা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। আমেরিকা অতিরিক্ত শুল্ক চাপানো সত্বেও ২০২৫-এর এপ্রিল থেকে ডিসেম্বরে পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ২.৪ শতাংশ। পাশাপাশি পরিষেবা রপ্তানি বেড়েছে ৬.৫ শতাংশ। ২০২৫-এর এপ্রিল থেকে ডিসেম্বরে পণ্য আমদানি বেড়েছে ৫.৯ শতাংশ। নিয়ন্ত্রণমূলক কাঠামোয় উল্লেখযোগ্য সংস্কারে কাজ করেছে লেবার কোডের রূপায়ণ যা মজুরি, কর্মসুরক্ষা এবং সামাজিক নিরাপত্তার রক্ষাকবচ হিসেবে প্রতিভাত হয়েছে। ২৬ অর্থবছরে সারা বিশ্বে অর্থনীতিতে যে টালমাটাল অবস্থা লক্ষ্য করা গেছে সরকার সেই সঙ্কটকে সুযোগ হিসেবে নিয়ে বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম জিএসটি ন্যাশানাইজেশন, নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা শিথিলকরণ এবং সর্ব ক্ষেত্রেই বাধ্যবাধ্যকতার সরলীকরণ।

সমীক্ষায় বলা হয়েছে আন্তর্জাতিক পরিবেশ যেহেতু টালমাটাল শ্লথতা অবশ্যম্ভাবী হলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা এবছর সম্পূর্ণ হতে পারে, যা বাইরের অনিশ্চয়তা অনেকটাই কমাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এরই পাশাপাশি ব্রিটেন, ওমান এবং নিউ জিল্যাণ্ডের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এবং ৩ বছর আলোচনার পর সম্প্রতি স্বাক্ষরিত ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি পরিস্থিতি আরও সহজ করতে পারে।