ওয়েব ডেস্ক; ২৭ আগস্ট: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর প্রথম কর্মসূচিগুলির অন্যতম প্রধানমন্ত্রী জনধন যোজনা (পিএমজেডিওয়াই)-এর যে সূচনা করেছিলেন ২৮ অগাস্ট ২০১৪-য়, তার ১২ বছর পূর্ণ হল। পিএমজেডিওয়াই-এর এই ১২ বছর প্রত্যক্ষ করেছে ভারতের আর্থিক পটচিত্রের এক রূপান্তর এবং এই কর্মসূচিটি সারা বিশ্বের আর্থিক অন্তর্ভুক্তির আলোকবর্তিকা হয়ে উঠেছে। বিশ্বের বৃহত্তম আর্থিক অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ হিসেবে পিএমজেডিওয়াই সকল ভারতীয়ের জন্য ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার নতুন অর্থ তৈরি করে চলেছে।

অর্থমন্ত্রক প্রান্তিক ও অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া ক্ষেত্রকে সাহায্য দিতে দায়বদ্ধ, তার শক্তিশালী আর্থিক অন্তর্ভুক্তির কর্মসূচিগুলি এবং সেগুলি পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে। পিএমজেডিওয়াই নিশ্চিত করেছে, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নেই এমন প্রত্যেক বয়ঃপ্রাপ্ত ব্যক্তির যাতে অন্তত একটি অ্যাকাউন্ট থাকে, যার ন্যূনতম ব্যালেন্স রাখার ধরাবাঁধা নেই এবং কোনো চার্জও দিতে হয় না।

প্রত্যেকটি অ্যাকাউন্টে পাওয়া যায় বিনামূল্যে ডেবিট কার্ড, ২ লক্ষ টাকার দুর্ঘটনা বীমা। উৎসাহ দেওয়া হয় ডিজিটাল লেনদেনে এবং আর্থিক নিরাপত্তায়। অ্যকাউন্টহোল্ডাররা শর্তাধীনে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ওভারড্রাফ্টের সুবিধাও পেতে পারেন।

পিএমজেডিওয়াই অ্যাকাউন্টগুলি অসংগঠিত ক্ষেত্রের লক্ষ লক্ষ শ্রমিকের মধ্যে জীবন ও দুর্ঘটনা বীমা প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে, জনসুরক্ষা কর্মসূচির মাধ্যমে, যেমন পিএম জীবন জ্যোতি বীমা যোজনা এবং পিএম সুরক্ষা বীমা যোজনা।

এই উপলক্ষ্যে কেন্দ্রীয় অর্থ প্রতিমন্ত্রী শ্রী পঙ্কজ চৌধুরি বলেছেন “২০১৪-র ২৮ অগাস্ট মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করেছিলেন আর্থিক অন্তর্ভুক্তির জাতীয় লক্ষ্যের, যা জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী জনধন যোজনা (পিএমজেডিওয়াই)নামে। আজ আমি খুশি যে, প্রধানমন্ত্রী জনধন যোজনা (পিএমজেডিওয়াই)-র দ্বাদশ বার্ষিকী উদযাপন হচ্ছে। শুধু ৫৯ কোটির বেশি অ্যাকাউন্ট খোলার, ৩.১৭ লক্ষ কোটি টাকার ডিপোজিট অথবা বিনামূল্যে ৪১.২৯ কোটি রূপে কার্ড দেওয়ার হিসেবে আমাদের পিএমজেডিওয়াই-কে দেখা উচিত নয়, বরং দেখা উচিত দেশের ব্যাঙ্কিং এবং আর্থিক পটচিত্রের রূপান্তরের হিসেবে, যেখানে আর্থিক পরিষেবা প্রদান করা হচ্ছে সমাজের শেষতম মানুষটিকে-দরিদ্রের মধ্যে দরিদ্রতমকে- চটজলদি কোনো মধ্যস্থতা ছাড়াই।”

পিএমজেডিওয়াই-তে অ্যাকাউন্টের ৭৮% খোলা হয়েছে গ্রামীণ অথবা আধা শহর এলাকায় এবং মোটামুটি ৫০% অ্যাকাউন্টের মালিক মহিলারা, যার থেকে বোঝা যায় এই কর্মসূচিতে কাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। দেশের দূরতম প্রান্তে বসবাসকারী পিছিয়ে পড়া শ্রেণিকে আনা হচ্ছে সরকারি আর্থিক ক্ষেত্রের আওতায়।

পিএমজেডিওয়াই ক্ষমতায়ন ঘটিয়েছে লক্ষ লক্ষ মানুযের, বিশেষ করে প্রান্তিক শ্রেণির যাতে ব্যাঙ্কিং এবং আর্থিক পরিষেবার সুবিধা পেয়ে তাঁরা নিজেদের আর্থ সামাজিক পরিস্থিতির উন্নতি করতে পারেন। অ্যাকাউন্ট থাকার কারণে সাধারণ মানুষ বীমা এবং পেনশনের সুবিধা পাচ্ছে। প্রতিটি জেলায়, প্রতিটি রাজ্যে নিরন্তর অভিযানের মাধ্যমে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা গেছে প্রায় ১০০%। বীমা এবং পেনশন কর্মসূচি যাদের বেশি দরকার, তাদের তা পাওয়ার পথ প্রশস্ত হয়ে গেছে।

দ্বাদশ বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আমি সারা দেশে ব্যাঙ্কার এবং নিযুক্ত বিজনেস করেসপন্ডেন্টদের প্রশংসা করি, পিএমজেডিওয়াই কর্মসূচিকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়ে এটিকে বিশালভাবে সফল করার জন্য।”

জনধন- আধার- মোবাইল (জেএএম)এই তিনটি, যার কেন্দ্রে আছে পিএমজেডিওয়াই, তা আর্থিক সহায়তা সরাসরি পৌঁছে দিতে নিশ্ছিদ্র পদ্ধতি হিসেবে প্রমানিত হয়েছে। জেএএম-এর মাধ্যমে সরকার কল্যাণমূলক সুবিধাগুলি সাফল্যের সঙ্গে সরাসরি পৌঁছে দিচ্ছে অনগ্রসর মানুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে কোনোরকম বিলম্ব এবং মধ্যস্থতা ছাড়াই।

২০২৬ সালের ১৯ অগাস্ট পর্যন্ত পিএমজেডিওয়াই অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ৫৯.০৯ কোটি যার ৫৫.৭ শতাংশ (৩২.৯২ কোটি) অ্যাকাউন্টের মালিক মহিলারা এবং ৭৭.৮ শতাংশ (৪৫.৯৫ কোটি) জনধন অ্যাকাউন্ট গ্রাম এবং আধা শহর অঞ্চলে।

২০২৬ সালের ১৯ অগাস্ট পর্যন্ত পিএমজেডিওয়াই অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছে ৩.১৭ লক্ষ কোটি টাকা। গত ১২ বছরে অ্যাকাউন্টের সংখ্যা বেড়েছে ২.৩ গুণ, ডিপোজিট বেড়েছে ১২.৮ গুণ।

অ্যাকাউন্ট প্রতি গড় ডিপোজিটের পরিমাণ ৫ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকা। গত ১২ বছরে এই গড় বেড়েছে ৩.৪ গুণ।

৪১.২৯ কোটি রূপে কার্ড দেওয়া হয়েছে পিএমজেডিওয়াই অ্যাকাউন্ট হোল্ডারদের।

পিএমজেডিওয়াই-এর সাফল্য এসেছে নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা, নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা রাখা, সরকারি- বেসরকারি অংশীদারিত্ব এবং আধারের মতো ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার যুক্ত করার জন্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *