ওয়েব ডেস্ক; ১৮ এপ্রিল : ভারত এক গুরুতর স্বাস্থ্য সংকটের মুখোমুখি, কারণ সব বয়সের মধ্যে স্থূলত্বের হার বাড়ছে, ফলে ডায়বেটিস, কার্ডিওভাস্কুলার অসুখ এবং ক্যান্সারে অল্পবয়সে মারা যাওয়ার ঘটনা আতঙ্কিত হওয়ার মত বেড়ে গেছে। ন্যাশনাল ফ্যামিলি হেলথ সার্ভে (NFHS-5) অনুযায়ী প্রায় ২৪ % মহিলা আর ২২.৯% পুরুষ এখন স্থূলকায় শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।

ভারতের পথপ্রদর্শক গাট হেলথ ব্র্যান্ড দ্য গুড বাগ লঞ্চ করেছে এমন এক যুগান্তকারী বৈজ্ঞানিক দ্রবণ, যা ওজন কমানোর জগতের ছক ভেঙে দিতে তৈরি। দ্য গুড বাগের অ্যাডভান্সড মেটাবলিক সিস্টেম হল প্রাকৃতিক GLP-1 বিজ্ঞানের সাম্প্রতিকতম উন্নতি, যা ওজন কমানোর এক সুস্থায়ী ও বিজ্ঞানচালিত সমাধান জোগায়। এই সাফল্য বৈজ্ঞানিকভাবে অনুমোদিত হয়েছে। ক্লিনিকাল ট্রায়ালের তথ্যে ১২.০১% ওজন কমেছে বলে দেখা যাচ্ছে, কোমরের মাপ কমেছে ৯.৬৪% আর ৯০ দিনের মধ্যে BMI কমেছে ১২.১৪%।

কেশব বিয়ানি, কো-ফাউন্ডার অফ দ্য গুড বাগ, বললেন “অত্যাধুনিক গাট মাইক্রোবায়োম গবেষণার মাধ্যমে তৈরি অ্যাডভান্সড মেটাবলিক সিস্টেম হল ক্লিনিকালি পরীক্ষিত প্রোবায়োটিক্স ও প্রিবায়োটিক্সের এক মিশ্রণ, যা স্থূলতার সমস্যার সমাধান করে প্রাকৃতিক GLP-1-কে সক্রিয় করে। অথচ এতে সাধারণত ওজন কমানোর ড্রাগগুলোর যেসব পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়ে থাকে সেগুলো হয় না। বৈজ্ঞানিক ক্লিনিকাল ট্রায়ালের মাধ্যমে অনুমোদিত এই প্রোডাক্ট লঞ্চের মধ্যে দিয়ে আমরা বিশ্বে অভূতপূর্ব এমন এক উদ্ভাবনীমূলক দ্রবণ দিতে পেরে গর্বিত যা ৯০ দিনের মধ্যে ১২% পর্যন্ত ওজন কমিয়ে দেয়। গাট হেলথের পথপ্রদর্শক হিসাবে আমরা গাট বায়োম কম্পোজিশনে ভারসাম্যহীনতাকে চিহ্নিত করেছিলাম স্থূলত্বের মৌলিক কারণ হিসাবে এবং বহুবছরের গবেষণা ও উন্নয়ন চালিয়েছি এমন একটা দ্রবণ তৈরি করতে যা শেষপর্যন্ত প্রাকৃতিকভাবে ওজন কমাতে GLP-1 আর GIP বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। আমাদের জন্যে এ এক বড় বৈজ্ঞানিক সাফল্য যা আবিষ্কৃত, উন্নীত ও নির্মিত হয়েছে ভারতে এবং সারা পৃথিবীতে ওজন সামলানোর প্রক্রিয়ার ভোল বদলে দেবে।”

সাধারণভাবে মনে করা হয় যে ফার্মাসিউটিকাল GLP-1 অ্যাগনিস্টগুলোর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয় এবং সেগুলো যাঁরা সেবন করেন তাঁরা ওগুলোর উপরে নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। দ্য গুড বাগের অ্যাডভান্সড মেটাবলিক সিস্টেম প্রাকৃতিকভাবে শরীরের GLP-1-এর মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, অন্ত্রে দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ কমায়। ফলে খিদে নিয়ন্ত্রিত হয় এবং কিছু খাওয়ার প্রবল ইচ্ছা কমে যায়, যা শেষপর্যন্ত সুস্থায়ী ওজনে পৌঁছতে এবং বাঞ্ছিত স্বাস্থ্য পেতে সাহায্য করে। স্বাস্থ্য পরিচর্যায় যুক্ত পেশাদারদের বিশ্বস্ত এই প্রোডাক্ট ওজন সামলানোর এক সুস্থায়ী ও প্রাকৃতিক পথ দেখায়। দ্য গুড বাগ এই প্রোডাক্টকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সমেত আন্তর্জাতিক বাজারে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছে।

ডঃ এম কে এন মনোহর, সিনিয়ির কনসালট্যান্ট অ্যাট মণিপাল হসপিটালস, এবং এই ট্রায়ালের প্রধান পরীক্ষক, বললেন, “যেসব ক্লিনিকাল ট্রায়াল করা হয়েছে সেগুলোর ফলাফল কেবল পরিসংখ্যানগতভাবেই তাৎপর্যপূর্ণ নয়, ক্লিনিকালিও সদর্থক। এই প্রোডাক্ট এই মুহূর্তে যেসব ড্রাগ পাওয়া যায় তার মধ্যে সেরাগুলোর সঙ্গে তুলনীয়। যা সবচেয়ে চোখে পড়ার মত ফল সেটা হল খাওয়ার প্রবল ইচ্ছা কমে যাওয়ার আর আগের চেয়ে ভাল খিদে মিটে যাওয়ার রিপোর্ট আমরা পেয়েছি। ৯০ শতাংশের বেশি মানুষ জানিয়েছেন যে তাঁদের খাওয়ার প্রবল ইচ্ছা কমেছে; ৯৫% বলেছেন খিদে প্রশমিত হয়েছে। এটা কৃত্রিম GLP-1 ড্রাগে যা ঘটে থাকে তার সমান। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, কোনো উল্লেখযোগ্য খারাপ প্রভাব জানা যায়নি। এবং ট্রায়ালে খিদে, খিদে মিটে যাওয়া এবং উৎসাহের মাত্রায় উন্নতি দেখা গেছে।”

তিনি আরও বলেন “স্থূলতা একটা নিঃশব্দ মহামারী হয়ে দাঁড়িয়েছে, যার গতি বাড়িয়ে দিয়েছে কোভিড। জীবনযাত্রার পরিবর্তন আর অস্ত্রোপচারের মত বেদনাদায়ক চিকিৎসার মধ্যে বিরাট ব্যবধান রয়েছে। বৈজ্ঞানিক প্রমাণ ক্রমশই বেশি বেশি করে মেটাবলিক স্বাস্থ্য আর সুস্থায়ী ওজনে পৌঁছতে প্রধান বিষয় হিসাবে গাট মাইক্রোবায়োমকে চিহ্নিত করছে। কৃত্রিম হস্তক্ষেপে প্রায়ই অনিচ্ছাকৃত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কিন্তু দ্য গুড বাগের উৎকৃষ্ট গবেষণালব্ধ প্রোবায়োটিক ফর্মুলেশন গাট ব্যাকটেরিয়া আর শরীরের মেটাবলিজমের প্রাকৃতিক সমন্বয়কে কাজে লাগায়।”

মাসে ২০০০ টাকা অথবা তিন মাসে ৫০০০ টাকা মূল্যে দ্য গুড বাগের এই দ্রবণ অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও খুচরো দোকানগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে। গবেষণাচালিত কার্যকারিতা ও স্বচ্ছতার উপর জোর দেওয়ার মাধ্যমে দ্য গুড বাগ সামগ্রিক সুস্থতায় গাট হেলথের ভূমিকা একেবারে পালটে দিচ্ছে।

প্রভু কার্তিকেয়ন, কো-ফাউন্ডার অফ দ্য গুড বাগ, বললেন “আমরা কেবল হজমজনিত স্বাস্থ্য নয়, মেটাবলিক স্বাস্থ্য, মহিলাদের স্বাস্থ্য আর কগনিটিভ সুস্থতার উপরেও মাইক্রোবায়োম বিজ্ঞানের প্রভাব স্বীকার করি। মাইক্রোবায়োমে গবেষণা যত গভীরে যাচ্ছে, তত স্বাস্থ্য পরিচর্যার এক নতুন দিক খুলে যাচ্ছে। আমরা তার সম্ভাবনাগুলো কাজে লাগাতে দায়বদ্ধ। আমরা ক্রমাগত উন্নত প্রোবায়োটিক উদ্ভাবনের মধ্যে দিয়ে ক্রেতাদের জন্যে স্বাস্থ্য সমাধান তৈরি করার চেষ্টা চালিয়ে যাই। আমাদের নতুন লঞ্চ করা প্রোডাক্টের দেশের স্থূলতা সংক্রান্ত ছবিটাকে প্রভাবিত করার বিপুল সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছি।”

স্থূলতা স্বাস্থ্য নিয়ে বড়সড় দুশ্চিন্তার কারণ হিসাবে উঠে এসেছে। এই কারণে সম্প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীজি এক স্থূলতাবিরোধী অভিযান লঞ্চ করেছেন। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিকাল রিসার্চ (ICMR)-এর তথ্য অনুযায়ী ১৮০ মিলিয়নের বেশি ভারতীয়কে ২০২১ সালে অতিরিক্ত ওজনসম্পন্ন বা স্থূলকায় শ্রেণিতে ফেলা হয়েছে। এই সমীক্ষা বলছে সংখ্যাটা ২০৫০ সালের মধ্যে ৪০০ মিলিয়নে পৌঁছে যেতে পারে। এই সমীক্ষার ফল দ্য গুড বাগের মত কার্যকরী, ক্লিনিকালি প্রমাণিত এবং সাধ্যের মধ্যে থাকা দ্রবণের জরুরি প্রয়োজন আরও বেশি করে দেখিয়ে দিল।