ওয়েব ডেস্ক; ২১ অক্টোবর : কৃষি ও কৃষক কল্যাণ এবং গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান বলেছেন যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দূরদর্শী নেতৃত্বে ভারতীয় কৃষকরা কেবল ‘অন্নদাতা’ (খাদ্য সরবরাহকারী) হিসেবেই পরিচিত হবেন না, বরং সৌরশক্তি গ্রহণের মাধ্যমে তাঁরা সত্যিকার অর্থে ‘অন্নদাতা ও উর্জদাতা’ (খাদ্য ও শক্তি সরবরাহকারী) উভয় হিসেবেই আবির্ভূত হবেন। বুধবার নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে তিন দিনব্যাপী ৭ম এগ্রিভোল্টাইকস বিশ্ব সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে মূল বক্তা হিসেবে ভাষণ দিতে গিয়ে শ্রী চৌহান বলেন যে, কৃষির সঙ্গে সৌরশক্তির সমন্বয় কৃষকদের জন্য বিশ্বব্যাপী কল্যাণ এবং বৃহত্তর অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির এক নতুন পথ খুলে দিচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, এগ্রিভোল্টাইকস নীতি এমনভাবে তৈরি করতে হবে যাতে এটি দেশের ৮৫ শতাংশ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের জমিতে কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে এবং এই প্রযুক্তির সুফল যেন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন এমন মানুষের কাছে পৌঁছায়।

অনুষ্ঠানস্থলে সমবেত বিপুল সংখ্যক কৃষকসহ ভারত ও বিদেশ থেকে আগত প্রতিনিধিদের স্বাগত জানিয়ে কেন্দ্রীয় কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান ব্যাখ্যা করেন যে, এগ্রিভোল্টাইকস প্রযুক্তির মাধ্যমে মাটির উপরে সৌর প্যানেল থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে, এবং একই সাথে মাটির নিচে ফসলের বৃদ্ধিও অব্যাহত থাকবে। সহজ ও পরিচিত ভাষায় এই ধারণাটি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি এটিকে এমন একটি মডেল হিসেবে বর্ণনা করেন যা উভয় জগতের সেরা সুবিধা প্রদান করে। একই জমি কৃষি ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ব্যবহারের বহুবিধ সুবিধা বোঝাতে তিনি হিন্দি প্রবাদ ‘আম কে আম অউর গুঠলিয়োঁ কে দাম’ এবং ‘হিং লাগে না ফিতকারি, রং ভি চোখা’-র উদাহরণ দেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রচলিত প্রবাদটি ছিল ‘রহিমান পানি রাখিয়ে’ (জল সংরক্ষণ করুন), কিন্তু আধুনিক যুগের চাহিদা হলো ‘রহিমান বিজলি রাখিয়ে’ (বিদ্যুৎ সংরক্ষণ করুন), কারণ বিদ্যুৎ ছাড়া আধুনিক জীবন ও কৃষি স্থবির হয়ে পড়বে। তিনি বলেন, তাই কৃষিকাজের সঙ্গে শক্তি উৎপাদনকে একীভূত করা কৃষকদের স্বার্থে গ্রহণীয় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *