ওয়েব ডেস্ক; ৫ মার্চ : লোকসভা নির্বাচন প্রায় দোর গড়ায়। এখনো পর্যন্ত নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হয়নি কিন্তু রাজ্যে এই নির্বাচনকে ঘিরে ইতিমধ্যেই কিন্তু তোরজোড় শুরু হয়ে গিয়েছে। ২০২৪ লোকসভা নির্বাচন যাতে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয় সে বিষয়ে কোমর বেঁধে নামতে চলেছে নির্বাচন কমিশন। মঙ্গলবার কলকাতায় সাংবাদিক সম্মেলনে চিফ ইলেকশন কমিশনার অফ ইন্ডিয়া রাজীব কুমারের কথায় তা স্পষ্ট হয়।
আর্থিক দুর্নীতি অথবা ভোটের কাজে নগদ অর্থের ব্যবহার নিয়ে বহুবার বিভিন্ন রাজনৈতিক দল অভিযোগ এনেছেন। ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে এই আর্থিক দুর্নীতি নিয়ে বেশ কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে নির্বাচন কমিশন। এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে রাজীব কুমার স্পষ্ট করে দেন যে যে কোন ভাবেই ভোটের কাজে বেআইনি নগদের ব্যবহারকে বন্ধ করতে হবে। এর সাথে হিংসার কোন জায়গা নেই নির্বাচনে সে কথাও স্পষ্ট করে দেন তিনি।
নজর রাখা হবে আন্ত: রাজ্য এবং তার সাথে আন্তর্জাতিক বর্ডার গুলোতে।
সূত্রের খবর বিগত নির্বাচন গুলিতে নগদ অর্থ যে পরিমাণ বাজেয়াপ্ত হয়েছে সেই বিষয়কে মাথায় রেখেই নির্বাচন কমিশন এবার ইডি কে এবিষয়ে দ্বায়িত্ব দিচ্ছে।
মাদক পদার্থের উপর বিশেষভাবে নজর দেওয়া হবে যাতে সেগুলি কোনভাবেই বর্ডার থেকে পাচার করা না হয়। এবং সেই বিষয়ে সমস্ত আধিকারিকদের সতর্কতা করে দেওয়া হচ্ছে। রাজ্যের সমস্ত হেলিপ্যাড এবং এয়ারপোর্টে নজরদারি চলবে।
জেলাশাসক এবং আধিকারিকদের এই ভোটের কাজে নিরপেক্ষতা বজায় রাখার জন্য কমিশনের তরফ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যে বিষয়টি নিয়ে বহুবার বিরোধীরা সুর চড়িয়েছেন হয়েছেন তা হল ছাপ্পা ভোট। এ দিন সাংবাদিক সম্মেলনে কমিশন ছাপ্পা ভোট নিয়ে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানায়। ছাপ্পা ভোটের ক্ষেত্রে কাউকে যদি কাউকে ধরা হয় সেক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান রাজিব কুমার।
ভোটিং মেশিন গুলি ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
কেন্দ্রীয় বাহিনীর কোথায় বহাল হবে সেই বিষয়ে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক তার সাথে কেন্দ্রীয় অবজারভার এবং রাজ্যের পুলিশ নোডাল অফিসার সিদ্ধান্ত নেবেন। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো ভোট পরবর্তী হিংসা সেই বিষয়েও কমিশনার জানান এক্ষেত্রে জেলাশাসক , এসপি এবং অন্যান্য আধিকারিকদের সাথে বৈঠকে কোনোভাবেই যাতে হিংসা না ছড়ায় সেই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার জন্য কমিশন জানিয়েছেন।
এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে কমিশনার রাজীব কুমার ভোটার হেল্পলাইন, সিভিজিল এবং তার সাথে সুবিধা পোর্টালের কথা উল্লেখ করেন। কমিশনের এর কাছে কোন অভিযোগ আসলে সেই অভিযোগ কে ১০০ মিনিটের মধ্যে প্রতিনিধিরা পৌঁছে তার ওপর কাজ শুরু হবে বলে আশ্বস্ত করেন রাজীব কুমার।
উল্লেখ্য রাজ্যে ইতিমধ্যেই বেশ কিছু কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী এসে পৌঁছেছে এবং তারা এলাকা টহল শুরু করে দিয়েছে। হিংসাকে যেকোন ভাবেই বরদাস্ত করবে না কমিশন সে কথা রীতি মতন স্পষ্ট।
