কলকাতা, ১২ জানুয়ারি : বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘বঙ্গদর্শন’ এক যুগান্তকারী নাম। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সম্পাদনায় এই পত্রিকার যে ‘নবপর্যায়’ সূচিত হয়েছিল, তার গুরুত্ব আজও অনেকের কাছে অজানাই রয়ে গেছে। সেই ঐতিহাসিক অভাব পূরণ করতে ১১ জানুয়ারি কলকাতার আইটিসি রয়্যাল বেঙ্গল-এ আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করল গবেষক ডঃ শিবানী বন্দ্যোপাধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাগ্রন্থ ‘রবিকরে নবরূপে বঙ্গদর্শন’।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বঙ্কিমচন্দ্রের আদর্শকে পাথেয় করেই ‘বঙ্গদর্শন’-কে সর্বকালের সাহিত্যের আদর্শ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, রবীন্দ্রনাথ তাঁর জীবনের দীর্ঘ সময় এই পত্রিকার সম্পাদনায় ব্যয় করলেও, ইতিপূর্বে একে নিয়ে কোনো পূর্ণাঙ্গ গবেষণাগ্রন্থ প্রকাশিত হয়নি। ডঃ শিবানী বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই গ্রন্থটি সেই শূন্যস্থান পূরণ করল। মোট চৌদ্দটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত এই বইটিতে বঙ্কিম-সম্পাদিত পত্রিকার প্রতি রবীন্দ্রনাথের দৃষ্টিভঙ্গি এবং নবপর্যায়ের ‘বঙ্গদর্শন’-এর ঐতিহাসিক বিবর্তন বিস্তারিতভাবে আলোচিত হয়েছে।
উল্লেখ্য, গবেষক ডঃ শিবানী বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯৮৬ সালে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট উপাধি লাভ করেন। বিশিষ্ট রবীন্দ্র-বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক অমিত্রসূদন ভট্টাচার্যের তত্ত্বাবধানে ও পরমর্শে এই গবেষণাপত্রটি শেষ পর্যন্ত গ্রন্থরূপ পেল। এই বিশেষ মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে অনুষ্ঠান মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন একঝাঁক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। তাঁদের মধ্যে ছিলেন:

  • নৃসিংহ প্রসাদ ভাদুড়ী (বিশিষ্ট লেখক ও পুরাণ বিশেষজ্ঞ)
  • দেবাশিস চন্দ (লেখক ও শিল্পকলা বিশেষজ্ঞ)
  • ডঃ কুশাগ্রাধি ঘোষ (পরিচালক, ইনস্টিটিউট অফ ফিটাল মেডিসিন)
  • দেবাঞ্জন মণ্ডল ও সঞ্চারী মণ্ডল (কর্ণধার, রয় অ্যান্ড মার্টিন)
    গবেষক তাঁর এই কৃতিত্বের পেছনে অধ্যাপক অমিত্রসূদন ভট্টাচার্য এবং স্বর্গীয় জীবেন্দ্র সিংহ রায় মহাশয়ের অবদানের কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন। পাশাপাশি সুবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের উৎসাহেই এই দীর্ঘ গবেষণা আলোর মুখ দেখল। বাংলা সাহিত্য অনুরাগীদের জন্য এই গ্রন্থটি রবীন্দ্র-চর্চার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।