ওয়েব ডেস্ক; ২৪ এপ্রিল :
ভারত প্রিমিয়াম আয়ের ভিত্তিতে বিশ্বের দশম বৃহত্তম বীমা বাজার।
অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫-২৬ অনুযায়ী, গৃহস্থালির আর্থিক সম্পদে বীমা ও পেনশন তহবিলের অংশ ২০১৮-১৯ অর্থবর্ষের ২৮.৬% থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ২৯.৬% পৌঁছেছে।
২০২৫ সালের সংশোধিত বীমা আইনের মাধ্যমে বীমা ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের সীমা ১০০% করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জীবন জ্যোতি বীমা যোজনায় ২৬.৮৮ কোটি নাম নথিভুক্ত হয়েছে এবং ১০.৪৫ লক্ষ দাবির অর্থ প্রদান করা হয়েছে (ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত)।
ভূমিকা
একটি শক্তিশালী অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি সুরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বীমা আর্থিক সুরক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষার একটি প্রধান ভিত্তি। ব্যক্তি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট প্রিমিয়ামের বিনিময়ে ঝুঁকি বীমা সংস্থার কাছে হস্তান্তর করে। এর ফলে, অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতেও সঞ্চয় শেষ না করে আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব হয়।
ভারতে বীমা সামাজিক সুরক্ষা জোরদার এবং আর্থিক স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। স্বাস্থ্য ব্যয় বৃদ্ধি, জীবিকার অনিশ্চয়তা এবং অর্থনৈতিক ঝুঁকি বীমার প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ভারতের বীমা নিয়ন্ত্রক ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ২০৪৭ সালের মধ্যে “সবার জন্য বীমা” লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
বীমা ক্ষেত্রের কার্যকারিতা
২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ভারতের বীমা ক্ষেত্র ধারাবাহিক বৃদ্ধি বজায় রেখেছে। বাজার অংশীদারিত্ব ১.৮%। বীমা প্রবেশ হার ৩.৭%। জীবন বীমা ২.৭% এবং অ-জীবন বীমা ১ ।
এই সময়ে ৪১.৮৪ কোটি পলিসি জারি হয়েছে। প্রিমিয়াম সংগ্রহ হয়েছে মোট ১১.৯৩ লক্ষ কোটি টাকা। দাবি নিষ্পত্তি হয়েছে মোট ৮.৩৬ লক্ষ কোটি টাকা। মোট সম্পদ ব্যবস্থাপনার পরিমাণ ৭৪.৪৪ লক্ষ কোটি টাকা।
গৃহস্থালির আর্থিক সম্পদে বীমার ভূমিকা বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি আর্থিক সচেতনতার উন্নতির নির্দেশ দেয়।
বীমার ধরনধারণ
জীবন বীমা মৃত্যু, অক্ষমতা, দুর্ঘটনা এবং অবসর সংক্রান্ত ঝুঁকিতে আর্থিক সুরক্ষা দেয়।
জীবন বীমা ব্যতীত সম্পত্তি, ব্যবসা ও অন্যান্য ক্ষতির ক্ষেত্রে আর্থিক সহায়তা প্রদান করে। এর মধ্যে স্বাস্থ্য, মোটর, গৃহ, অগ্নি, ভ্রমণ ও কৃষি বীমা অন্তর্ভুক্ত।
নীতি ও নিয়ন্ত্রক সংস্কার
সংশোধিত বীমা আইন ২০২৫
এই আইনের মাধ্যমে বীমা ক্ষেত্রে একাধিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের সীমা ১০০% করা হয়েছে।
ব্যবসা পরিচালনা সহজ করতে এককালীন নিবন্ধন চালু হয়েছে। শেয়ার হস্তান্তরের অনুমোদন সীমা ১% থেকে ৫% করা হয়েছে।
পলিসিগ্রাহকদের সুরক্ষা জোরদার করতে জরিমানার সর্বোচ্চ সীমা ১ কোটি টাকা থেকে ১০ কোটি টাকা করা হয়েছে।
জিএসটি ছাড়
২০২৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর থেকে জীবন ও স্বাস্থ্য বীমা পলিসির উপর পণ্য ও পরিষেবা কর ছাড় দেওয়া হয়েছে। এর ফলে প্রিমিয়াম কমেছে এবং সাধারণ মানুষের জন্য বীমা আরও সাশ্রয়ী হয়েছে।
স্বাস্থ্য বীমায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন
মোরাটোরিয়াম সময়সীমা আট বছর থেকে কমিয়ে পাঁচ বছর করা হয়েছে। মোট ৩০ দিনের পর্যালোচনা সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
পলিসি নবীকরণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
প্রিমিয়াম প্রদানে বিলম্ব হলে নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়া হয়েছে।
প্রধান বীমা সুরক্ষা প্রকল্প
প্রধানমন্ত্রী জীবন জ্যোতি বীমা যোজনা
২০১৫ সালে শুরু। মোট ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জীবন বীমা কভারেজ প্রদান করে। বার্ষিক প্রিমিয়াম ৪৩৬ টাকা।
প্রধানমন্ত্রী সুরক্ষা বীমা যোজনা
দুর্ঘটনা বীমা প্রকল্প। বার্ষিক প্রিমিয়াম ২০ টাকা। মৃত্যু বা সম্পূর্ণ অক্ষমতায় ২ লক্ষ টাকা কভারেজ।
আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা
২০১৮ সালে শুরু। প্রতি পরিবারকে বছরে মোট ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত স্বাস্থ্য আওতা প্রদান করে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৪৩.৫২ কোটি কার্ড তৈরি হয়েছে।
কর্মচারী রাষ্ট্র বীমা প্রকল্প
এই প্রকল্পে অসুস্থতা, মাতৃত্ব, অক্ষমতা এবং কর্মস্থল দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে সুরক্ষা দেওয়া হয়। ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত ১৪.৯১ কোটি সুবিধাভোগী এর সুবিধা পেয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা যোজনা
২০১৬ সালে শুরু। প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষেত্রে কৃষকদের আর্থিক সুরক্ষা দেয়। ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত ১,৯৪,৫০৫.৯ কোটি টাকা দাবি পরিশোধ করা হয়েছে।
উপসংহার
ভারতের বীমা ক্ষেত্র দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। নীতি সংস্কার, প্রযুক্তি ব্যবহার এবং সামাজিক প্রকল্পের মাধ্যমে বীমা আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়েছে।
এই উদ্যোগগুলি আর্থিক সুরক্ষা বাড়াচ্ছে এবং সমাজের সব স্তরের মানুষের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। “সবার জন্য বীমা” লক্ষ্য বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি আত্মনির্ভর ও সুরক্ষিত ভারতের ভিত্তি তৈরি হচ্ছে।
