শমিত মন্ডল
দুদিন টানা বর্ষণের পরে আজ ঝলমলে রোদ। তাই কেতকী -ধোপানি ক্ষার- সিদ্ধ জামা কাপড়ের স্তূপ নিয়ে চলেছে নদীর ঘাটে। সঙ্গে তার হাবা ছেলে গণেশ। বয়স সাত বছর, তবু ভাল করে কথা বলতে পারে না। ছেলেটি থপথপ করে হাঁটে, মুখ দিয়ে লালা গড়ায়। এদিকে বছর দুয়েক হলো কেতকীর বর নিতাই ঘরছাড়া। তুচ্ছ কথা-কাটাকাটি তাতেই —। একথা ঠিক যে কেতকী মুখরা আর নিতাই ছিল ন্যাতানো ধাঁচের মানুষ। দাশু গোয়ালা কুমারহট্টের গঙ্গার ঘাটে নিতাইকে নাকি দেখেছে। সঙ্গে এতটুকুনি বউ। দীর্ঘশ্বাস ফেলে কেতকী।
ভাদ্দুড়ে গুমোট, সঙ্গে চড়া রোদ। নদীর এই ঘাটে একটুও ছায়া নেই। কিছু দূরে একলা একটা পিটুলি গাছ। তার তলায় গণেশ বসে কাদামাটি নিয়ে খেলছে। রোদের হাত থেকে বাঁচার জন্য গায়ে জড়ানো গামছাটা মাথায় জড়িয়ে নেয় কেতকী। ওর ওই মূর্তি দেখে গণেশ খিলখিল করে হাসে। ক্ষারের ধকে ক্ষয়ে যাওয়া পাটায় কাপড় আছড়ায়। এতগুলো কাপড়— হাঁপ ধরে যায় ওর। এবারে নদীর জলে ধুতে হবে। কোমরে হাত রেখে একটু জিরিয়ে নেয় কেতকী। তখনই ও দেখতে পায় দেহটিকে। জল ঘেঁষে, কাদামাটিতে দেহের ওপরের দিক কোনরকমে আটকে আছে। হয়তো এখুনি স্রোতের টানে ভেসে যাবে। দুদিনের বৃষ্টিতে নদীস্রোত এখন যথেষ্ট শক্তিশালী। মানুষটা যদি বেঁচে থাকে। কেতকী তাড়াতাড়ি দেহটির কাছে পৌঁছতে চায়, কিন্তু কোমর পর্যন্ত ভেজা শাড়ি বাদ সাধে। ভেজা শাড়ির পাড় পায়ে আটকে যায়। কেতকী শাড়িটা উঁচু করে কোমরে গুঁজে নেয়। হ্যাঁ, এবারে বেশ সুবিধা হচ্ছে। দৌড়ে ও দেহটির কাছে পৌঁছয়। কাদায় মুখ গুঁজে দেহটি পড়ে আছে। তাই জীবিত না মৃত বোঝা যাচ্ছে না। ভারী দেহটির তলায় হাত গলিয়ে অনেক কষ্টে চিত করে ফেলে ও।
ক্রমশ…….
