শমিত মন্ডল

২ য় পর্বের পর……

মাটিতে লুটিয়ে প্রণাম করতে বাধ্য হয়েছিল কেতকী।

কী বিচ্ছিরি চাহনি লোকটার! পুরো সময়টা ওর বুকের দিকে তাকিয়ে ছিল। এবার যদি

আংটির জন্য ধরা পড়ে ওকে একেবারে চিবিয়ে খাবে! হঠাৎ লোকটার ডান হাঁটু কেঁপে ওঠে। লোকটা অস্পষ্ট ভাবে কী যেন বলে। কেতকী লোকটার কপালে হাত রাখে। লোকটার চোখের পাতা কাঁপে। বলে- বউ, অ সোনা বউ। কেতকী লজ্জা পায়। মাগো, এই সুন্দর মানুষ ওকে বউ বলে ভাবছে! অত সৌভাগ্য কি মুখপোড়া ভগবান ওর কপালে লিখবে! কেতকীর ঘর কাছেই। নদীর উঁচু ঢাল বেয়ে উঠলেই জেলেপাড়া। পাড়ার এ প্রান্তে নদীর দিকে ওর এক কামরার ভাঙাচোরা ঘর। কিন্তু এখন, এতখানি ঢাল উজিয়ে একা ও এই দশাসই মানুষটাকে নিয়ে যাবে কী করে? তার আগে এই উদোম লোককে একটা কাপড়-টাপড় পরাতে হয়। জামা-কাপড়ের স্তূপ থেকে একটা ধুতি বেছে নিয়ে অনেক কষ্টে লোকটার কোমরে একপাক জড়াতে পারে। লোকটা বিরক্তিসূচক আওয়াজ করে। কেতকী এদিক সেদিক দেখে। সাধু মাঝির ছেলে সদা ওই তো উঁচু পাড় ধরে যাচ্ছে। কেতকী ওকে ডাকে। সব শুনে সদা ছুটে যায় জেলেপাড়ায়। আরও দু’চারজনকে ডেকে আনে। সবাই মিলে ধরাধরি করে লোকটাকে পৌঁছে দেয় কেতকীর ঘরে। নদী থেকে একটা জ্যান্ত লোক কুড়িয়ে পেয়েছে কেতকী— এ সংবাদে সমস্ত জেলেপাড়া আজ কেতকীর ঘরে ভিড় করে।

ক্রমশ……..