শমিত মন্ডল
চতুর্থ পর্বের পর থেকে
ভগমান যখন জুটিয়ে দিলেন তখন…
কেতি: চুপ কর আবাগি। নিজের আবোধ ছেলেরে নিয়ে বাঁচি না আবার এক অবোধ সোয়ামি নিয়ে মরি আরকি। সখি: নারে, লোকটা ত’রে খুব ভালবাসে। আমি এসে থেকে দেখতেছি ত’র পিছে
পিছে ঘুরত্যাসে।
কেতি: ধুস, সে তো খাওয়ার লোভে। সারাদিন খাই খাই। সখি: খাই খাই তো করবেই— যা জোয়ান চেহারা! আমারই বলে লোকটারে দেখে গা ছমছম করত্যাসে, আর তুই তো কতদিন সোয়ামি ছাড়া! এই আগুন নিয়ে একঘরে
থাকিস কী করে কেতি?
কেতি: আমার পোড়া কপালের তরে দেহটাও যেন ঘুমায়ে থাকে রে সই! আজ চাঁদ উঠেছে বটে একখানা। হাওয়া ছেড়েছে বেশ। বিকেলের আলোচনার জন্যই কিনা কেতকী যেন আজ কিছুটা চঞ্চল। সখি রাইধনির মতো ওর শরীরও যেন ‘ছমছম’ করছে। কেতকী চাঁদের আলোয় ভিজে ভিজে নদীতে যায়। সঙ্গে থাকে পাগল। নদীস্রোতে ডুবে ডুবে অনেক ক্ষণ ও স্নান করে। রিঠাফল সিদ্ধ করা জল দিয়ে ওর অযত্নের চুল পরিষ্কার করে। নদী পারের কোমল মাটি দিয়ে ওর অঙ্গমার্জনা করে। পাগলের জলে খুব ভয়। হয় তো ডুবে যাওয়ার স্মৃতি এখনও জাগরূক। কিন্তু কেতকী আজ ছাড়ল না। পাগলকেও পরিচ্ছন্ন করল। ওরা দুজন আবারও চাঁদের আলোয় ভিজে ভিজে ঘরে ফিরল।
জেলেপাড়ার মানুষদের পরিশ্রম করে জীবিকা নির্বাহ করতে হয়। সন্ধের পরেই এরা রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। কেতকী সবাইকে নিয়ে খেয়ে নিল। গণেশ ঘুম চোখে খাচ্ছিল, খাওয়া শেষ হতেই ঘুমিয়ে পড়ল।
মোড়ল- বাড়ির ধোওয়া কাপড়গুলো ভাঁজ করছিল দুজন। হ্যাঁ, পাগলকে দিয়ে আজকাল কিছু কিছু কাজ করায় কেতকী। হোক না পাগল, জোয়ান মানুষ বসে বসে খাবে এটা ভাল দেখায় না। কেতকী ভাবল, পাগলকে আজ একটু বাজিয়ে দেখা যাক। কাপড় ভাঁজ করার সময় ও ইচ্ছা করেই পাগলের গায়ে বারবার গা ঠেকায়। ওর দৃঢ় স্তনদুটিকে কায়দা করে পাগলের শরীরে ছোঁয়ায়। কিন্তু দুঃখের বিষয় পাগলের কোনও ভাবান্তর হয় না। উল্টে, এই সমস্ত কলাকৌশলের ফলে কেতকীনিজেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
ক্রমশ……..
