গার্গী সিনহা
১২ তম পর্বের পর…..
বিকল্প আধুনিক উপাদানে অর্থাৎ ইট-পাথর-বালি-সিমেন্টের পাকা বাড়ি তৈরির প্রাথমিক ব্যয় তুলনায় বেশি হলেও এগুলি অনেক বেশি টেকসই এবং আকর্ষণীয়, সর্বোপরি জনমানসে এগুলি ব্যক্তির আর্থিক সংগতিবৃদ্ধির তথা সামাজিক স্তর বা প্রতিপত্তির (Social Status) প্রতীক; যদিও পরিবেশ তথা বিপর্যয় মোকাবিলার প্রশ্নে এইসব বহুতল বিশিষ্ট পাকাবাড়ির গ্রহণযোগ্যতা যথেষ্ট কম। কিন্তু বাইরে থেকে আরোপিত বিশ্বায়নের জোয়ারপুষ্ট এইদেশে সামগ্রিকভাবে কি গণমানসে কি প্রশাসনে পরিবেশ প্রসঙ্গ বরাবরই উপেক্ষিত অবহেলিত বিষয়। এঅবস্থায় নব্যপ্রজন্মের দেশজ মানুষদের কাছে যে তাদের একান্তভাবেই স্ব-অর্জিত বাস্তুতান্ত্রিক-সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার দেশজ গৃহনির্মাণশৈলী ব্রাত্য হয়ে পড়বে, সেটা অস্বাভাবিক নয়, হয়ত বা অপ্রত্যাশিতও নয়। ফলে দেশজ গৃহনির্মাণে পারদর্শী পূর্ববর্তী প্রজন্মের মানুষদের মৃত্যুর পর তাদের সাথে সাথে হারিয়ে যাচ্ছে ডুয়াসের দেশজ গৃহনির্মাণশৈলীও। এবিষয়ে সরকারী ঔদাসীন্যও উল্লেখযোগ্য। ডুয়ার্সের অরণ্যস্থিত বনবস্তি ও সংলগ্ন অঞ্চলে বিভিন্ন সরকারী গৃহনির্মাণ প্রকল্পেও দেশজ মানুষদের জন্য তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে কংক্রীটের দেশলাইবাক্স বাড়ি। অর্থনৈতিক অবস্থায় উন্নতির সাথে সাথে দেশজ মানুষেরা কংক্রীটের একতলা বা বহুতলানির্মাণের পাশাপাশি বর্ষায় বৃষ্টির জল-কাদায় থেকে বাঁচার জন্য গৃহসংলগ্ন খোলা জায়গাকেও মুড়ে দিচ্ছেন বালি-সিমেন্টের আবরণে।
ক্রমশ…..
