ডা চন্দ্রগুপ্ত

২ য় পর্বের পর…..

আজ মেট্রোর প্রায় পঁচাশি শতাংশ মানুষের ঘাড় নিচের দিকে। না কেউ ঘুমোচ্ছেন না, মোবাইল নিয়ে কেউ খেলছেন, কেউ টেক্সট করছেন। ফলে খুব একটা গল্প বা কলরব হচ্ছে না। অন্য সব দিনগুলোতো হয়তো এমনই থাকে। কিন্তু আমরা আমাদের হাসি-তামাশা, খোশগল্পে এতই ব্যস্ত থাকি যে চারদিকে কি হচ্ছে সেদিকে নজর দেওয়ার সময়ই থাকে না।

রবীন্দ্র সরোবর মেট্রো স্টেশনে নেমে বাইরে এসে বেশ ভালো লাগছিল। আমি যে গেট থেকে বেরোলাম তার বিপরীতে ভবানী সিনেমা হল করোনার জন্য বন্ধ রয়েছে। কিন্তু তার সামনে খাবারের দোকানে অন্যান্য দিনের মতো ভিড় করে আছে বিভিন্ন বয়সী মানুষজন। বহুদিন পর এখানে আসলাম, গেটের মুখে একটা এনজিওর দুই-তিনজন মহিলা পুরুষ থ্যালাসেমিয়া বাচ্চার চিকিৎসার জন্য টাকা সংগ্রহ করছে। ওদের পাশ কাটিয়ে হিন্দি স্কুলের কাছাকাছি গিয়ে দাঁড়ালাম। যাতে এক নম্বর বাসটা পাওয়া যায়, আমাকে যেতে হবে ই-ই ডি এফ, অর্থাৎ যোধপুর পার্ক।

যেখানে আমি দাঁড়িয়ে ছিলাম, ঠিক পেছনেই একটা ঝালমুড়ি আলু কাবলির দোকান। মাথার উপরে একটা লাল-নীল রঙের বড় ছাতা লাগিয়ে দোকানদার ভালোই ব্যবসা চালাচ্ছে। অনেক বছর থেকেই ব্যবসা করছে এখানে, আমিও খেয়েছি। একটা কম বয়সী মেয়ে দাঁড়িয়ে থেকে ঝাল মুড়ি বানাচ্ছে। আর একটা ঝালমুড়ির ঠোঙা ওই দোকানের একটা বোতলের উপরে রাখা আছে। তার থেকে তিন-চার ফুট দূরে এক ভদ্রলোক দাঁড়িয়ে আছেন। দেখে আভিজাত্যপূর্ণ মনে হল, কানে একটা মোবাইল নিয়ে খুব জোরে জোরে ইংরেজিতে কিছু লেকচার দিচ্ছেন। মানে সব মিলিয়ে পরিবেশটা বেশ আকর্ষণীয় লাগছে আমার। বাস আসার আগে মানুষের বিভিন্ন রকম কার্যক্রমগুলো দেখতে থাকলাম।

ক্রমশ…..