ডিজিটাল;প্রশান্ত ডোম : যুগের সাথে তাল মিলিয়ে সবাই আমরা দৌড়ে চলেছি। একবার পেছনে তাকিয়ে দেখছি না কাকে ছেড়ে গেলাম, কাদের অস্তিত্ব এবং সদুপদেশকে অস্বীকার করলাম। খুব তাড়াতাড়ি উপরে ওঠার দৌড়ে সবাই এগিয়ে চলেছি। কিন্তু সময় আমাদের শিখিয়েছে, তাড়াতাড়ি করে আর যাই হোক বড় সফলতা আসে না। যদিও বা আসে সেটি ক্ষণিকের। আর এই ক্ষণিকের সফলতাকে ধরে রাখতে গিয়ে আমরা এক নকল দুনিয়ায় চলে যাই নিজের ই অজান্তে।

এভাবেই আমাদের মধ্যে হতাশা কাঙ্খিত জায়গায় পৌঁছাতে না পারার জন্য। হতাশা সামনের প্রতিযোগীদের থেকে এগিয়ে যেতে না পারার জন্য। হতাশা খুব তাড়াতাড়ি আর্থিকভাবে সচ্ছল না হতে পারার। এর ফলে জীবন সম্বন্ধে আমাদের মধ্যে একটা তীব্র বিষাদ তৈরি হচ্ছে। সাম্প্রতিককালের ঘটে যাওয়া বিভিন্ন সেলিব্রেটিদের আত্মহত্যার ঘটনা গুলো একেবারেই অপ্রাসঙ্গিক নয়। বরং এই ইঁদুর দৌড়ে পিছিয়ে পড়ার হতাশাই এর জন্য দায়ী। প্রশ্ন আসতে পারে এর থেকে বাঁচার উপায় কি?

জীবনবোধ এবং তার মূল্যায়ন থেকে যদি আমরা শিক্ষা নিই, তাহলে বুঝতে পারবো যে মানসিক স্থিরতা একমাত্র আমাদের এই মরণ ফাঁদ থেকে বের করে আনতে পারবে।

বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে সোশ্যাল মিডিয়াতে দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন ক্ষেত্রে পুরস্কারের জন্য প্রলোভন। সেখানে যেমন সাম্মানিক ডক্টরেট ডিগ্রী প্রদান রয়েছে, তেমনি রয়েছে বিভিন্ন ভারি ভারি নামের পুরস্কারের কথা। যেই মুহুর্তে আপনি তাদের এই প্রলোভনে পা দেবো, তারা আপনার থেকে এক বিরাট পরিমাণের অর্থমূল্য দাবী করবে। সে ক্ষেত্রে কম সময়ের মধ্যে বিখ্যাত হয়ে যাবার প্রলোভনে পা দিয়ে অনেকেই হয়ত সর্বস্বান্ত হবেন।

আমরা ভবতে চাইছি না যে অতি সহজে এবং কম সময়ে কখনোই শ্রেষ্ঠ হওয়া যায় না। আমাদের এই তাড়াতাড়ি করে নামি ব্যক্তি, প্রচুর অর্থ উপার্জন করা, এই মানসিকতাকে মাথায় রেখে কিছু অসাধু মানুষ এক কারবার তৈরি করে ফেলেছে। হয়তো অদূর ভবিষ্যতে দেখা যাবে সামাজিক মাধ্যমে চলতে থাকা প্রচারের জন্য আরও অনেকে আত্মহত্যা করছে অথবা নিজের ঘরের সম্পত্তি বিক্রি করছে অথবা বাড়ির বড়দের ঠকিয়ে পয়সা আত্মসাৎ করে সম্মান কেনার জন্যে দৌড়োচ্চে।

এখনো সময় রয়েছে। রাজ্য সরকার বা কেন্দ্রীয় সরকার যদি সতর্ক হয় তাহলে এই ধরনের ঘটনাগুলো থেকে সাধারণ মানুষকে তারা ফেরাতে পারবে। তবেই খুব শিঘ্রই ব্যবস্থা নিতে হবে। নয়তো সাইবার ক্রাইমে একের পরে এক অভিযোগ জমা পড়বে। তাই এগিয়ে আসুক সরকার আইনের গেড়োতে বেঁধে ফেলুক অসাধু চক্রকে।
ছবি: অঞ্জন সরকার