ডিজিটাল; ১ সেপ্টেম্বর: জওহরলাল নেহরু সেন্টার ফর অ্যাডভান্স সায়েন্টিফিক রিসার্চ (জেএনসিএএসআর) প্রতিষ্ঠানের আইএসিএস প্রাক্তনী ও তার পড়ুয়ারা বাতাস থেকে জল বের করার একটি যন্ত্র তৈরি করেছেন। তিনি ভারতীয় অ্যাসোসিয়েশন ফর কাল্টিভেশন অফ সায়েন্সের প্রাক্তনী ২০২২ সালে এই প্রতিষ্ঠান থেকে জৈব রসায়ন নিয়ে তিনি পিএইচডি করেছেন। ডঃ তাপস কুমার মাজি জেএনসিএএসআর – এর রসায়ন ও পদার্থ বিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক। ২০১৯ সালে রসায়ন বিজ্ঞানের জন্য তিনি ও তাঁর পড়ুয়ারা শান্তিস্বরূপ ভাটনগর পুরস্কার পান। তাঁরা বাতাস থেকে জল বের করার একটি নতুন যন্ত্র তৈরি করেছেন।

জীবন ও মৃত্যুকে আলাদা করার ক্ষেত্রে অন্যতম প্রাকৃতিক সম্পদ হ’ল জল। দুর্ভাগ্যবশত বিশ্বের মোট জনসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশই তীব্র জল সমস্যার সম্মুখীন। ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের প্রায় ৫০ শতাংশ জনগণ তীব্র জল সঙ্কটের সম্মুখীন হবেন বলে মনে করা হচ্ছে। বাণিজ্যিকভাবে চাষের জন্য প্রকৃতি থেকে যে জল পাওয়া যায়, তার মাত্র ৬০-৭০ শতাংশ ব্যবহৃত হয়।

শুষ্ক এলাকায় সৌরশক্তি ব্যবহার করে কম আর্দ্রতা রয়েছে, এমন জায়গায় বায়ু থেকে জল নিষ্কাশন করা হচ্ছে। কিন্তু সমস্যাটি হ’ল – কোনও বিশেষ ভৌগোলিক অবস্থানে সঙ্কট সীমাবদ্ধ থাকে না। জনসংখ্যা, শিল্প ক্ষেত্র, জলবায়ু পরিবর্তন, জল দূষণ সহ অন্যান্য বেশ কিছু বিষয়ের উপর এটি নির্ভর করে।

অধ্যাপক মাঝি ও তাঁর অন্যান্য সহকারী গবেষকরা এমন একটি যন্ত্র তৈরি করেছেন, যার সাহায্যে বাতাস থেকে জল নিষ্কাশন করা যায়। এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘ইন্ডোর অ্যাটমোস্ফেয়ারিক ওয়াটার হার্ভেস্টার’। এটি স্পঞ্জের মতো বাতাস থেকে জলকণা শুষে নেয়। ঐ যন্ত্রে অসংখ্য ছিদ্র রয়েছে। প্রথম যে জলবিন্দু ঐ যন্ত্রে ঢোকে, সেটিই আবার তার পরের জলবিন্দুটিকে টেনে আনে। অত্যাধিক আর্দ্রতায় এই যন্ত্রের সাহায্যে পর্যাপ্ত জল সংগ্রহ করা যায়। আপেক্ষিক আর্দ্রতার হার ৯০-৯৫ শতাংশের মধ্যে থাকলে জল সংগ্রহ হয় সর্বোচ্চ হারে। এই গবেষণাপত্রটি জার্মানীর অ্যাডভান্সড্‌ ফাংশনাল মেটিরিয়ালস্‌ শীর্ষক বিজ্ঞান পত্রিকায় প্রকাশ হয়েছে।