ডিজিটাল; ৪ সেপ্টেম্বর: ভারত সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রক এক অভাবনীয় উদ্যোগ নিয়েছে। দেশে এই প্রথম তৈরি হচ্ছে ‘রাতের আকাশ অভয়ারণ্য’। আগামী তিন মাসের মধ্যে লাদাখে এটি তৈরি করা হবে।
প্রস্তাবিত এই অন্ধকার আকাশ সংরক্ষণটি চারথাং সংরক্ষিত অঞ্চলের হানলে-তে গড়ে তোলা হচ্ছে। এটি ভারতের মহাকাশ পর্যটনকে আরও উৎসাহ দেবে এবং বিশ্বের উচ্চতম স্থানে অবস্থিত একটি পর্যটন ক্ষেত্রের অন্যতম হয়ে উঠবে। ইনফ্রা-রেড ও গামা-রে টেলিস্কোপের মাধ্যমে এটি দেখা যাবে।
স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও ভূ-বিজ্ঞান মন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী ডঃ জিতেন্দ্র সিং একথা জানান। জাতীয় রাজধানীতে লাদাখের উপ-রাজ্যপাল আর কে মাথুরের সঙ্গে বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত হয়।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান, সম্প্রতি কেন্দ্রশাসিত প্রশাসন লাদাখ স্বায়ত্তশাসিত পার্বত্য বিভাগ পরিষদ এবং ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ অ্যাস্ট্রো ফিজিক্স-এর মধ্যে এই ত্রিপাক্ষিক চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, এই স্থানটি স্থানীয় পর্যটন ও অর্থনীতির উন্নতিতে সহায়ক হবে।
ডঃ জিতেন্দ্র সিং বলেন, এই কাজের সঙ্গে যুক্ত সকলে রাতের আকাশকে অযাচিত আলোর দূষণ থেকে রক্ষা করার জন্য কাজ করছেন। এর ফলে বিজ্ঞানীরা রাতের আকাশের প্রাকৃতিক পরিবেশকে যথাযথভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। লাদাখের শীতলতম মরু অঞ্চলে অবস্থিত হানলে এই কাজের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত স্থান। এখানে সাধারণ মানুষের কোনো আনাগোনা নেই। শুষ্ক আবহাওয়ার জন্য সারা বছরই পরিষ্কার আকাশ দেখতে পাওয়া যায়।
ডঃ জিতেন্দ্র সিং বলেন, কেন্দ্রীয় লেদার রিসার্চ ইনস্টিটিউট-এর আধিকারিক ও বিজ্ঞানীদের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল এ বছরের শেষ নাগাদ এই অঞ্চলটি পরিদর্শন করবেন।
‘লেহ বেরী-র বাণিজ্যিক চাষ শুরু হওয়ায় ডঃ জিতেন্দ্র সিং লাদাখ প্রশাসনের প্রশংসা করেন। শৈত্য মরু অঞ্চলের জন্য লেহ বেরী একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ খাদ্যসামগ্রী।
মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২০১৮ সালের লাদাখ সফরের সময় যে লক্ষ্য স্থির করেছিলেন, সেই অনুযায়ী স্থানীয় উদ্যোগপতিরা কৃষি ও অন্যান্য উদ্যোগের মাধ্যমে কাজের সুযোগ পাচ্ছেন। ডঃ জিতেন্দ্র সিং লাদাখের উপ-রাজ্যপালকে বলেন, লাদাখে শিক্ষা মেলার জন্য আগামী বছর থেকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রক একটি বড় প্যাভেলিয়ন তৈরি করবে।
