দেবাঞ্জন দাস; ওয়েব ডেস্ক; ১০ জানুয়ারি: মহামারী পরবর্তী সময়ে যে বিষয় সবচেয়ে বেশি মানুষকে প্রভাবিত করেছে তা হল মানুষিক স্বাস্থ্য। শুধুমাত্র ছাত্র-ছাত্রী কিংবা শিশুদের ক্ষেত্রে নয় এই মানসিক স্বাস্থ্যের প্রভাব কিন্তু লক্ষ্য করা গেছে বড়দের ওপর।
ডাক্তার- বিশেষজ্ঞ সবাই কিন্তু এই বিষয়ে নিয়ে বেশ চিন্তিত। অনেকে আবার মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছেও এই বিষয়ে মতামত নিচ্ছেন। এমনই এক প্রেক্ষাপটে একটি স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবি ‘চৌকাঠ পেরিয়ে’ তৈরি করলেন পরিচালক ড: তন্বী চৌধুরী। পেশায় তিনি অধ্যাপিকা হলেও ছবি তৈরি এবং সমাজকে নিয়ে ছবি তৈরি কিন্তু তার অন্যতম আবেগ বলা যেতে পারে।
ছবির প্রেক্ষাপট অনুযায়ী ছবির অন্যতম মূল চরিত্র ডাক্তার ‘ A ‘, যিনি একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ। আমেরিকা নিবাসী একজন মহিলার কাছে তিনি ভারতের করোনা পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে অনলাইনে সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন। তার সাথে ডাক্তার A এর বাড়িতে উপস্থিত হওয়া বেশ কিছু চরিত্র। যারা জীবনের প্রতি মুহূর্তে বিভিন্ন বাধা, কষ্ট ভেঙে যাওয়া বিভিন্ন সম্পর্ক গুলির সম্মুখীন হয়েছেন। একাধারে দেখতে গেলে সমস্ত চরিত্রই মানষিক স্বাস্থ্যের অবক্ষয়ের শিকার ।
সমাজের নিচু স্তর থেকে উঁচুস্তরের প্রত্যেকটি স্তরের মানুষের চরিত্র রয়েছে এই ছবিতে।
যেমন- ট্যাক্সিচালক আব্দুল চাচা, উঁচুস্তরের এবং জীবিকার কারণে মানসিক ভাবে ভেঙে পড়া ডাক্তার বিষ্ণু সিং, খ্যাতনামা ফ্যাশন ডিজাইনার মাহি, সনামধন্য নৃত্যশিল্পী সুহাসিনী, যশ নামক এক শিল্পী ও তার সংগীতশিল্পী বন্ধু ড্যানিয়েল।

ছবির প্রত্যেকটি চরিত্র যারা ডাক্তার A এর বাড়িতে এসেছেন অনলাইনে এক সাক্ষাৎকার দেওয়ার জন্য। সেই সাক্ষাৎকারের আগে নিজেরা কি কি তথ্য তুলে ধরবেন সংক্ষিপ্ত সময়ে সেই বিষয়ে নিজেদের মধ্যে একটু আলাপ-আলোচনা করে নিচ্ছেন। সেই আলাপ আলোচনার সূত্রেই প্রত্যেকেই নিজে নিজের জীবনের ফেলে আসা সময় বিভিন্ন অপমান কিছু সুখের কিছু দুঃখের স্মৃতি তুলে ধরেছেন।


ছবিতে রয়েছে বিভিন্ন সম্পর্কের টানা পড়েন। সম্পর্ক ভাঙার গল্প, অনিচ্ছা থাকলেও সেই জিনিসকে নিয়ে এগিয়ে চলার গল্প। সমাজের চোখে যে সম্পর্ক অনৈতিক সেই গল্প ফুটিয়ে তুলেছেন পরিচালক তন্বী চৌধুরী। এই ইন্দো-ওয়েস্টার্ন ছবিটিতে অভিনয় করেছেন ঋষভ বসু, অনাংশা বিশ্বাস, শতাক্ষী নন্দী, শংকর দেবনাথ, রিয়ান ঘোষ, পলাশ চতুর্বেদী, অপরাজিতা ইয়োলমো এবং পারমিতা সেন।

ছবিটিতে বোস্টনের বহু মানুষের অবদান অনস্বীকার্য। যেমন ফিলোমেলা ব্যান্ডটির সমস্ত সদস্য বোস্টন নিবাসী এবং সমস্ত মানুষ ভারত থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করে বোস্টনে কর্মরত। তাদের মধ্যে আই আই টির প্রাক্তনীও আছেন। তাদেরই অবদানে ছবিটির গান “শেষ ইচ্ছে” সুমর্যাদায় পেশ করা গেছে।

ছবিটি দক্ষিণ কলকাতার একটি ক্যাফেতে দেখানো হয়, উপস্থিত অভিনেতা, পরিচালক তথাগত মুখার্জী ছবিটির পরিচয় করিয়ে দেন দর্শকের সামনে। তিনি জানান ইন্ডিপেন্ডেন্ট ছবির জন্য তারা সব সময় ভাবছেন ও এই ধরণের ছবিকে মানুষের সামনে আরও বেশী করে তুলে ধরতে চান।