ওয়েব ডেস্ক; অর্পিতা পাত্র: নলেন গুড় ভালোবাসে না এমন বাঙালি খুঁজে পাওয়া খুবই মুশকিল। শীতকালের জন্য বাঙালির সারা বছর হাপিত্যেশ করে থাকার একটা বড় কারণ হল এই নলেন গুড়। স্বাদ আর সুমধুর গন্ধে ভরপুর এই নলেন গুড় আসলে খেজুর গুড় বা খেজুরের রস। ঠান্ডায় বাঙালির অন্যতম প্রিয় খাবার নলেন গুড়। পিঠেপুলি, নলেন গুড়ের সাথে রুটি হোক কিংবা গুড়ের রসগোল্লা, গুড়ের পায়েস, মোয়া,নাড়ু,সন্দেশ- আয়েশ করে খাওয়াটাই একটা আলাদা মাত্রা এনে দেয়। শুধু স্বাদেই বা সুমিষ্ট গন্ধেই নয়, গুড় কিন্তু পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ। চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক এই নলেন গুড়ের উপকারিতা সম্পর্কে—
১) লিভার থেকে ক্ষতিকারক টক্সিন দূর করে ঝরেঝরে ও রোগমুক্ত রাখতে সহায়ক এই নলেনগুড়।নতুন গুড় অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট এবং মিনারেলসমৃদ্ধ হওয়ায় ফুসফুস থেকে মিউকাস বের করে শ্বাসযন্ত্রকে পরিষ্কার রাখে এবং শরীর প্রতিদিন ডিটক্স করতেও সহায়তা করে।
২) নলেন গুড় হজম ক্ষমতা বাড়িয়ে পেট পরিষ্কার রাখে। কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো গুরুতর সমস্যায় দারুণ ভাল কাজ করে এই নতুনগুড়।
৩) সোনালী রঙের গুড়ের মধ্যে থাকা জিঙ্ক ও সেলেনিয়াম শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে এবং রোগ সংক্রমণ রোধ করে।
৩) হিমোগ্লোবিনের অভাবে রক্তাল্পতায় ভুগলে কিংবা আয়রনের ঘাটতি হলে গুড় খাওয়া যেতে পারে কারণনলেন গুড়ে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ আয়রন, যা আয়রন ঘাটতি মেটাতে কিছুটা সক্ষম।
৪) প্রিমেনস্ট্রুয়াল সিনড্রোম বা পিএমএস সমস্যায় কমবেশি প্রায় সমস্ত মহিলারাই ভোগেন, তাই প্রতিদিন নিয়ম করে যদি অল্প পরিমাণ গুড় খাওয়া যায় তবে শরীরে হরমোনের সমতা ভালোভাবে বজায় থাকে এবংহ্যাপি হরমোনের বৃদ্ধি ঘটে ।
৫) শীতকালে শরীরের বিভিন্ন জয়েন্টে ব্যথা বেড়ে যায় যেটি খুবই কষ্টদায়ক। তাই ক্যালশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামে ভরপুর সোনালী নলেন গুড় এই সমস্যা সমাধানে সহায়তা করে।
৬) গুড় শরীরের বিপাক ক্রিয়ার হার বৃদ্ধি করে এবং তাপ উৎপাদন করে ফলস্বরূপ শীতকালে শরীর গরম থাকে।
বিঃ দ্র – কোনো খাবারই কখনো অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া উচিত নয়। নলেন গুড় উচ্চ ক্যালোরি সমৃদ্ধ হওয়ায় ডায়াবেটিক পেশেন্টেরা অবশ্যই পুষ্টিবিদদের পরামর্শ নিয়ে শরীরের চাহিদা অনুযায়ী গুড় খেতে পারেন।
