শুভাবরি ওয়েব ডেস্ক, ৩০ জানুয়ারি, কলকাতা: ১৭৬০ সাল। এর ঠিক তিন বছর আগে নবাব সিরাজউদ্দৌলা পলাশীর প্রান্তরে ক্লাইভের কাছে পরাজয় স্বীকার করে মৃত্যুবরণ করেন। কিন্তু বাঙালির মনে ব্রিটিশ শাসনের শুরুর দিকে সেটি শেষ করে দেওয়ার জন্য আন্দোলন শুরু করেছিল ফকিররা এই ১৭৬ সালে। এই আন্দোলনকারী ফকির বা শাহরা ছিলেন মাদারিয়ার সুফি ঘরানার অনুসারী। এই সুফি ঘরানা সপ্তদশ শতাব্দীর দ্বিতীয় ভাগে শাহ সুলতান সুরীয়া বুরহানার নেতৃত্বে বাংলায় প্রসার লাভ করে।

অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত সুফি ফকির তথা শাহেরা খানকাহ বা আখড়ায় বাস করতেন। এই ফকির বিদ্রোহের সংগঠক ও নেতা ছিলেন মাদারিয়ার তরিকার সুফি সাধক মজনু শাহ। ইতিহাস বলে, ১৭৬০ সালে মজনু শাহ তার অনুসারীদের নিয়ে বিহারের মধুপুর জঙ্গলে গা ঢাকা দেন। পরে ১৭৮৫ সালে তিনি মহাস্থানগড় অভিমুখে তিনি অগ্রসর হন এবং যুদ্ধে পরাজিত হন।

কিন্তু পরবর্তীকালে তিনি পূর্ববঙ্গ এবং উত্তরবঙ্গে যৌথভাবে আক্রমণ পরিচালনা পরিকল্পনা নেন। কিন্তু ১৭৮৬ সালে কালেশ্বর এলাকার লেফটেন্যান্ট ব্রেনানের বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে মজনু শাহে অনুসারীরা বিপুল সংখ্যায় নিহত হন। অনুমান করা যায় এই যুদ্ধে তিনি নিজেও আহত হয়ন এবং ১৭৮৮ সালে ২৬ শে জানুয়ারি মৃত্যুমুখে পতিত হন।

যদিও বর্তমান শাহ কমিউনিটি থেকে দাবি করা হয় যে প্রায় চার দশ অবধি বিদ্রোহ চলতে থাকে। কোন কোন অংশে দাবি করা হয় এই বিক্ষিপ্ত আন্দোলনের অংশ ১৮২৫ থেকে ১৮৩০ অব্দি বর্তমান বাংলাদেশের ময়মনসিংহ শেরপুর অঞ্চলে “পাগলপন্থী আন্দোলন” নামে পরিচিত ছিল। সেই সময়ের নেতৃত্ব দেন টিপু শাহ।

ইতিহাস ধীরে ধীরে আমাদের স্মৃতি থেকে সরে যাচ্ছে। সম্প্রতি অল ইন্ডিয়া শাহ-সাই কমিটির একটি প্রচারিত পত্রে এই বিস্মৃত ইতিহাসটি সমুখে আসে।
(ছবি: উইকিপিডিয়া)