ওয়েব ডেস্ক: ক্যান্সার রোগ নিয়ে রয়েছে অনেক ভুল ধারণা। ডা. আরতি ব্যানার্জি মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন এর প্রেসিডেন্ট এবং এমএস অঙ্কো সার্জেন, ডা. জহর মজুমদার সেই সম্পর্কে জানান,
” ক্যান্সার হয়েছে বলেই তিনি মারা যাবেন এই যে ধারণা সেটা কিন্তু অনেকাংশে ভুল। আমাদের কাছে অনেক ক্যান্সার রোগী চিকিৎসা করাতে আসেন তাদেরকে আমরা বেশিরভাগ সময়ে আশ্বস্ত করতে পারি যে আগামীকাল আপনি ক্যান্সার রোগের জন্য মারা যাবেন না, যদি তারা সঠিক সময়ে আসেন । এক্ষেত্রে নিউরোলজিক্যাল এবং কার্ডিয়াক সমস্যা যদি থেকে থাকে তাহলে তাও কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।”
তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে ক্যান্সারের চিকিৎসা হচ্ছে এবং খুব ভালোভাবেই তা এগোচ্ছে। সঠিক সময় যদি একজন ক্যান্সার রোগী চিকিৎসা করান তাহলে তিনি অবশ্যই সুস্থ হয়ে যান। অনেক ক্যান্সার লুকিয়ে আছেন যারা সঠিক সময় চিকিৎসা পাওয়ার ফলে সুস্থ হয়ে আজ সাধারণভাবেই জীবন যাপন করছেন। তবে ক্যান্সারের চিকিৎসা শুধুমাত্র রোগী নয় সম্পূর্ণ পরিবারের একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে।”

কিছু কিছু সময় দেখা যায় যে যদি কোন মানুষের ক্যান্সার হয় তাহলে তাদের থেকে অনেকেই দূরত্ব বজায় রাখেন সেই বিষয় নিয়ে ডাক্তার জহর মজুমদার জানান, “আমাদের কাছে অনেক সময় বহু পেশেন্ট আসেন এবং তার পরিবারের লোক বলেন যে রোগীকে কিছুটা আইসোলেট করে আমরা রেখেছি। মনে রাখতে হবে ক্যান্সার রোগের সাথে যে বিভিন্ন ছোঁয়াচে রোগের সম্পর্ক সেই ভাবে নেই বিশেষ ক্ষেত্র বিশেষে। হা কিছু ক্ষেত্রে যেমন হেপাটাইটিস বি, সি এছাড়া এইচআইভি রিলেটেড যদি সমস্যা হয় তাহলে সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়। কিন্তু ক্যান্সার রোগীর সাথে একসঙ্গে থাকা হলে সেই রোগের চিকিৎসা খুব ভাল রকম ভাবেই কিন্তু হয়। একজন ক্যান্সার রোগীর সাথে আমরা কতটা ভালো ব্যবহার করছি তার ওপর কিন্তু চিকিৎসা অনেকটাই নির্ভর করে।”

ডা. আরতি ব্যানার্জি মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের সম্পাদক সুপ্রিয় ব্যানার্জি বহু বছর ধরে ক্যান্সার রোগের সচেতনতা নিয়ে বিভিন্ন সচেতন শিবির করে আসছেন। তিনি বলেন, “এখনো অনেকের মধ্যে ক্যান্সারের বিভিন্ন কারণ এবং অনেক ভুল ধারণা রয়েছে এই রোগ নিয়ে। সেই ধারণা গুলি আমাদের আস্তে আস্তে ঝেড়ে ফেলতে হবে। একজন ক্যান্সার রোগীকে সুস্থ করে তোলার জন্য শুধুমাত্র ডাক্তারবাবু নয় পরিবার একটা বড় ভূমিকা কিন্তু পালন করে। আমাদের ফাউন্ডেশন বিগত দিনে যেমন ভাবে এই রোগের সচেতনতা নিয়ে কাজ করে এসেছে ঠিক তেমনভাবেই আগামী দিনগুলি কাজ করবে। বর্তমান প্রজন্ম অর্থাৎ স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের আমরা এই রোগ নিয়ে সচেতনতা শিবির করব।”