ওয়েব ডেস্ক; কলকাতা, ৭ মার্চ : যেখানে সারা শহর দেখছে অ্যাডেনো ভাইরাস অনেক শিশুর প্রাণ কেড়ে নিল, তখন মেডিকার উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরল এক শিশু, সৌজন্যে ইকমো সাপোর্ট। গত এক মাস ধরে অ্যাডেনো ভাইরাসের জন্য তীব্র নিউমোনিয়ায় ভোগা পাঁচ বছরের আরভ সুমনকে মেডিকার কার্যকরী ইকমো এবং কার্ডিও-পালমোনারি ক্রিটিক্যাল কেয়ার টিম সুস্থ করে তোলে। ভাইরাল নিউমোনিয়ার জন্য আরভের দুটো ফুসফুসই ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। মেডিকার ইকমো টিমের নেতৃত্বে ছিলেন ডঃ দীপাঞ্জন চ্যাটার্জি, যিনি ইকমো ফিজিশিয়ান এবং মেডিকা সুপার স্পেশালিটি হসপিটালে ক্রিটিক্যাল কেয়ার স্পেশালিস্ট হিসেবে রয়েছেন। ধীরে ধীরে আরভের ফুসফুসের অবস্থার উন্নতি হয় এবং ১৮ দিন পর ইকমো সাপোর্ট থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং গত ২ই মার্চ হসপিটাল থেকে রিলিজ করা হয়।
পাঁচ দিন ধরে সর্দি জ্বরে ভুগছিল আরভ। এর সাথে গত ২৯ শে জানুয়ারি শ্বাসকষ্ট শুরু হয় তার নিউ আলিপুরের ফ্ল্যাটে। শুরুর থেকেই চিকিৎসার মধ্যে থাকলেও তার স্বাস্থ্য অবস্থার অবনতি হতে থাকে। এই অবস্থায় আরভের বাবা মা তাকে নিকটবর্তী নার্সিং হোমে ভর্তি করেন। সেখানে অক্সিজেন সাপোর্ট দেওয়ার পরেও দেখা যায় যে অক্সিজেন স্যাচুরেশন লেভেল কমতেই থাকছে। এই অবস্থায় নার্সিং হোমের তরফ থেকে পরামর্শ দেওয়া হয় তাকে ই এম বাইপাসের কাছে একটি প্রাইভেট হসপিটালে ভর্তি করানোর জন্য যেখানে বিশেষজ্ঞ পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট রয়েছে। হসপিটালে সর্বাধিক ভেন্টিলেশন সাপোর্ট দেওয়ার সত্ত্বেও দেখা যায় যে শিশুর অক্সিজেন স্যাচুরেশনের কোন উন্নতি হয়নি। এই অবস্থায় ৩০শে জানুয়ারি রাত দুটোর সময় ওই প্রাইভেট হসপিটালের পক্ষ থেকে মেডিকার ইকমো টিমের সাথে যোগাযোগ করা হয় পেডিয়াট্রিক ইকমো সাপোর্টে শিশুকে ভর্তি নেওয়ার জন্য।
ইকমো টিম দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয় এবং ভাইরাল প্যানেল টেস্ট পরীক্ষার ফলে নিশ্চিত হওয়া যায় অ্যাডেনো ভাইরাস ও রাইনো ভাইরাস সম্পর্কে। এছাড়া শিশুটির স্ট্রেপটোককাস নিউমোনিয়াতে আক্রান্ত হয়েছিল, যার ফলে পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছিল। শিশুটিকে ভি ভি ইকমো (ভেনো ভেনাস ইকমো) সাপোর্ট দেওয়া হয়। প্রাথমিক ভাবে সামাল দেওয়ার পর ট্রাকিওস্টমি (একটি পদ্ধতি যার মাধ্যমে গলার সামনে গর্ত করা হয় যাতে ট্রাকিয়াতে একটি টিউব ঢোকানো যায় শ্বাস প্রশ্বাসের জন্য) করা হয়। ১৮ দিনের জীবন মৃত্যুর লড়াইয়ের পর ইকমো সাপোর্ট সরিয়ে নেওয়া হয়। তারপর আরো সাত দিন পর যখন স্যাচুরেশন লেভেল, স্বাভাবিক হয়, অক্সিজেন সাপোর্ট খুলে নেওয়া হয়।
প্রায় এক মাসের উপর হসপিটালে ভর্তি থাকার পর, গত ২ই মার্চ শিশুটিকে ডিসচার্জ করা হয় এবং পরিবার ও কাছের মানুষদের সাথে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যায়।
ডঃ দীপাঞ্জন চ্যাটার্জি, যিনি ইকমো টিমকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, জানান,” মেডিকা একমাত্র হসপিটাল যেখানে সবচেয়ে আধুনিক পেডিয়াট্রিক ইকমো ব্যবস্থা রয়েছে, যা অনেক শিশুর প্রাণ বাঁচাতে পারে, যারা অ্যাডেনো ভাইরাসের আক্রমণে নাজেহাল। ইকমোর সাহায্যে এখন আরভ সম্পূর্ণ সুস্থ। ওর পরিস্থিতি সঙ্কটজনক ছিল, কারণ ভাইরাসের আক্রমণে দুটো ফুসফুসই আক্রান্ত হয়েছিল। এর ফলে অক্সিজেন সাপোর্ট থাকার সত্ত্বেও শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। তবে পেডিয়াট্রিক ইকমোর সাহায্যে ধীরে ধীরে ফুসফুসের উন্নতি হয় এবং শ্বাস প্রশ্বাস স্বাভাবিক হয়। তবে এই ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়া সম্ভব হয়েছে কারণ দ্রুত আনা গিয়েছে, সময়মত ইকমোর ব্যবহার করা গিয়েছে এবং অত্যাধুনিক ক্রিটিক্যাল কেয়ারের সুবিধা পাওয়া গিয়েছে। আমরা আরভের পরিবারের কাছে কৃতজ্ঞ তাদের সাহায্য এবং সহযোগিতার জন্য এই কঠিন লড়াইয়ের মধ্যে।”
আর উদয়ন লাহিড়ী, ডিরেক্টর, মেডিকা সিনার্জি প্রাইভেট লিমিটেড, বলেন, “বিশ্বের এই অংশে মেডিকার সবচেয়ে বড় ECMO প্রোগ্রাম রয়েছে। চিকিৎসা জরুরী অবস্থার সময় লোকেদের সাহায্য করতে এবং সাহায্য করতে পেরে আমরা ধন্য মনে করি। আমরা শিশুটির খুব সুখী এবং সুস্থ জীবন কামনা করি।”
মেডিকা সব সময়ই বিশ্বাস করে এসেছে বিশ্ব মানের ক্রিটিক্যাল কেয়ার এবং ইকমোর মত অঙ্গপ্রতঙ্গ সাহায্যকারী চিকিৎসা বা হার্ট/ফুসফুস প্রতিস্থাপনের মত পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে, যা সামগ্রিক ভাবে পূর্ব ভারতে চিকিৎসা পরিষেবা প্রদানে বিপ্লব এনেছে।