ওয়েব ডেস্ক; ৬ জুলাই: কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী ভুপেন্দ্র যাদব ১০৮ তম ভারতীয় প্রাণীতত্ত্ব সর্বেক্ষণ দিবস উপলক্ষে কলকাতায় তিনদিন ব্যাপী উদযাপনের সূচনা করেছেন। অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী অশ্বিনী কুমার চৌবে, বন বিভাগের মহানির্দেশক ও বিশেষ সচিব চন্দ্র প্রকাশ গোয়েল, ভারতীয় প্রাণীতত্ত্ব সর্বেক্ষণের অধিকর্তা ডঃ ধৃতি বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বোটানিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার অধিকর্তা ডঃ আশিহো আসোসি মাও উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শ্রী যাদব ১০৮টি গৌরবময় বছর অতিক্রম করার জন্য ভারতীয় প্রাণীতত্ত্ব সর্বেক্ষণকে অভিনন্দন জানান। ১০৮ সংখ্যার তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, এটি একটি জপমালায় গণনা করা ১০৮টি পুনরাবৃত্তির এক চক্রকে বোঝায়, যার মধ্যে শব্দ, কম্পন এবং অর্থ রয়েছে। সংখ্যাটিকে তিনি সংস্কৃত বর্ণমালার ৫৪টি বর্ণে বিভক্ত করে দেখান, যার প্রতিটির মধ্যে একটি করে পুরুষ ও স্ত্রী বৈশিষ্ট্য রয়েছে।

যাদব বলেন, আমাদের নিজেদের রক্ষা করার তাগিদেই প্রাণী জগতের বৈচিত্র্যকে রক্ষা করতে হবে। মানুষ যে প্রকৃতির থেকেও বড় – এমন ভুল ধারণাকে জলবায়ু পরিবর্তন ভেঙে খান খান করে দিয়েছে। বিশিষ্ট নৃতত্ত্ববিদ এডুয়ার্ডো কন-এর দেওয়া একটি উদাহরণের উল্লেখ করে তিনি বলেন, অরণ্য মনে করে, গাছেরা পরিবেশের সঙ্গে কথা বলে। কীটপতঙ্গ প্রতিরোধের জন্য তাদের কাছে বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। গান্ধীজিকে উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, ‘প্রকৃতিতে প্রত্যেকের প্রয়োজন মেটানোর মতো যথেষ্ট সম্পদ রয়েছে’। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় কীটনাশক ডিডিটি আবিষ্কারের উল্লেখ করে শ্রী যাদব বলেন, বিশিষ্ট জীববিজ্ঞানী ও সংরক্ষণবাদী রাচেল কারসন ১৯৫৮ সালে তাঁর বই ‘সাইলেন্স স্প্রিং’-এ এই কীটনাশক, পরিবেশের কতটা ক্ষতি করছে সে সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করেছেন।

যাদব বলেন, প্রকৃতিকে রক্ষা করে আমরা কোনও অনুগ্রহ করছিনা, বরং নিজেদের প্রয়োজনেই আমাদের প্রকৃতিকে রক্ষা করতে হবে। এই প্রসঙ্গে তিনি কেরালার সাইলেন্ট ভ্যালি ন্যাশনাল পার্ক, অরুণাচল প্রদেশের নামদাফা ব্যাঘ্র সংরক্ষণ, নীলগিরি ও গ্রেট নিকোবরের বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভের মতো বিভিন্ন সংরক্ষিত অঞ্চলের উল্লেখ করে ভারতীয় প্রাণীতত্ত্ব সর্বেক্ষণের উদ্যোগের প্রশংসা করেন। বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ আইনে সংস্কারের সময় ভারতীয় প্রাণীতত্ত্ব সর্বেক্ষণ যে ভূমিকা পালন করেছিল, তারও উল্লেখ করেন তিনি।

কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী অশ্বিনী কুমার চৌবে বলেন, ভারতীয় প্রাণীতত্ত্ব সর্বেক্ষণের উচিত দেশের গাঙ্গেয় সমভূমির গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমিগুলিকে নিয়ে গবেষণা করা এবং তার সংরক্ষণে মনোযোগ দেওয়া। তিনি এই লক্ষ্যে বিজ্ঞানীদের নিয়ে ‘সরোবর মিত্র’ নামে একটি কর্মসূচি চালু করার প্রস্তাব দেন।

অনুষ্ঠানে ৬টি বইয়ের আনুষ্ঠানিক প্রকাশ হয়।

গবেষণা এবং শিক্ষা সংক্রান্ত সহযোগিতার বিষয়ে ভারতীয় প্রাণীতত্ত্ব সর্বেক্ষণ ভুটান সরকার, আইআইটি যোধপুর এবং বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে তিনটি সমঝোতাপত্রে স্বাক্ষর করে। ভুটান সরকারের সঙ্গে সমঝোতাটি রেড পান্ডার সংখ্যা গণনা সম্পর্কিত, আইআইটি যোধপুর ও বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সমঝোতাপত্রগুলি গবেষণা সহযোগিতা এবং পড়ুয়া বিনিময় সম্পর্কিত। অনুষ্ঠানে বিশ্ব পরিবেশ দিবস, মিশন লাইফ এবং আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য দিবসে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

উদযাপনের অঙ্গ হিসেবে ভারতীয় প্রাণীতত্ত্ব সর্বেক্ষণ ২ ও ৩ জুলাই, ২০২৩, প্রাণী শ্রেণীবিন্যাস শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করেছে। এতে দেশ বিদেশের ৪০০ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করবেন। প্রাণী শ্রেণীবিন্যাস, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জীবজগতের বিভিন্ন দিক নিয়ে বক্তব্য রাখবেন ১২ জন বিশিষ্ট বক্তা। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ দেন ভারতীয় প্রাণীতত্ত্ব সর্বেক্ষণের অধিকর্তা ডঃ ধৃতি বন্দ্যোপাধ্যায়। উদ্বোধনী ভাষণ দেন বন মহানির্দেশক ও বিশেষ সচিব চন্দ্র প্রকাশ গোয়েল।