ওয়েব ডেস্ক ; ৫ আগস্ট : সম্প্রতি দক্ষিণবঙ্গ সীমান্তের অধীনে ১৪৩ তম ব্যাটালিয়নের বর্ডার ফাঁড়ি তারালির জওয়ানদের উপর মারাত্মক আক্রমণ করে জোরপূর্বক গবাদি পশু পাচারের প্রচেষ্টা হল ব্যর্থ, বিএসএফ জওয়ানরা আত্মরক্ষায় গুলি চালিয়ে একজন গরু পাচারকারীকে ধরতে সফল হয়েছে। বিএসএফ জওয়ানরা পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগণা এবং মালদা জেলায় ভারত বাংলাদেশ সীমান্তে বিভিন্ন অভিযানে গরু পাচারকারীদের খপ্পর থেকে মোট ৪৩টি গরু ও মহিষকে মুক্ত করেছে।

তথ্য অনুযায়ী, গোয়েন্দা বিভাগের সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে সীমান্ত ফাঁড়ি তারালী-১ এর জওয়ানরা আইবিবিআরের সামনে কৃষি জমিতে অ্যামবুশ করার সময় ১৫-১৬ জন চোরাকারবারীকে গরু নিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশের দিকে যেতে দেখে। সঙ্গে সঙ্গে দুষ্কৃতীদের তাড়া করে জওয়ানরা। এর সাথে তারা নৌকায় করে নদীতে টহলরত অন্যান্য জওয়ানদের সতর্ক করে দেয়। সব চোরাকারবারিদের চারদিক থেকে স্থলে ও জলে নৌকায় করে ঘিরে ফেলা হয় এবং চোরাকারবারিদের চ্যালেঞ্জ করা হয়। চোরাকারবারীরা আক্রমণ করে জওয়ানকে, আত্মরক্ষার্থে জওয়ান পাচারকারীদের দিকে ১ রাউন্ড গুলি চালায়। এতে চোরাকারবারীরা আতঙ্কিত হয়ে অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে বাঁশের গুচ্ছ, ঘন ফসলি জমি ও আশপাশের বাড়িঘরে সব গবাদিপশু ফেলে পালানোর চেষ্টা করে। জওয়ানরা ১ ভারতীয় চোরাকারবারী ইশারুল (নাম পরিবর্তিত) কে ধরেছে, যিনি পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার হাকিমপুরের বাসিন্দা। এর পরে, সমস্ত জওয়ানরা এলাকাটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তল্লাশি চালিয়ে ১৪টি ষাঁড় উদ্ধার করে।

জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত চোরাকারবারী জানায়, এক অজ্ঞাত ভারতীয় চোরাকারবারী তাকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে এসব পশু বাংলাদেশে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেয়। যার জন্য তিনি রাজি হন। কিন্তু বাংলাদেশে পাচার করার আগেই বিএসএফ তাদের সব গবাদি পশুসহ ধরে ফেলে।

এছাড়াও একই দিনে অন্যান্য ঘটনায়, মালদা জেলার অ্যাডহক ব্যাটালিয়নের জেজে পুর, মধুপুর, কেদারিপাড়া এবং আডডাঙ্গা সীমান্ত ফাঁড়ির জওয়ানরা ১৯টি মহিষ এবং উত্তর ২৪ পরগনায় নিযুক্ত ১৪৩ ব্যাটালিয়নের সীমান্ত ফাঁড়ি তারালি ও আমোদিয়ার জওয়ানরা পাচারকারীদের খপ্পর থেকে ১০টি গরু ও মহিষ উদ্ধার করে।

দক্ষিণবঙ্গ সীমান্তের জনসংযোগ কর্মকর্তা শ্রী এ.কে. আর্য, ডিআইজি বলেছেন যে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে চোরাচালান বন্ধ করতে বিএসএফ কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। এ কারণে এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের অনেক অসুবিধায় পড়তে হয়। আরও বলেন, আমরা কোনো অবস্থাতেই আমাদের এলাকা থেকে চোরাচালান হতে দেব না।