ওয়েব ডেস্ক ; ৮ ফেব্রুয়ারি : ফলের মাছি (টেফ্রিটিডে) বিশ্বব্যাপী কৃষির জন্য একটি বড় সমস্যা, যা ফসলের ফলন, খাদ্য নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রভাব ফেলে। জুলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (জেডএসআই), কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের গবেষকদের যৌথ উদ্যোগে একটি গবেষণায় ফল-মাছি নিয়ন্ত্রণের একটি নতুন কৌশল তৈরি করা গিয়েছে যা এই পতঙ্গ দমনের প্রচেষ্টাতে বিপ্লব ঘটাতে পারে।
আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন জার্নাল বিএমসি জিনোমিক্সে প্রকাশিত গবেষণাপত্রে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে সংগৃহীত ফল মাছির ওপর একটি সমীক্ষা করা হয়। গবেষক দলটি কুমড়ো, শশা এবং লাউয়ের মতো ফসলের ওপরে বসা ফলের মাছির মাইটোকন্ড্রিয়াল সিওআই জিনের সিকোয়েন্স করে ফেলেছে। বিশ্লেষণে নিউক্লিওটাইড অবস্থানে ৩০টি অনন্য পরিবর্তনশীল স্থান লক্ষ্য করা গিয়েছে।
জেডএসআই-এর অধিকর্তা ডঃ ধৃতি ব্যানার্জী এই গবেষণার গুরুত্বের ওপর আলোকপাত করে বলেন, ফলের মাছি একটি ধ্বংসাত্মক কীট এবং পশ্চিমবঙ্গে যেখানে গ্রামাঞ্চলে পরিবারের ৭০%-র বেশি মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল সেখানে আমাদের কাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই নতুন পদ্ধতি কেবল ফসল রক্ষা করবে না, রাসায়ণিক কীট নাশকের ওপর আমাদের নির্ভরতাও কমাবে। কীট-পতঙ্গ নিয়ন্ত্রণে সঠিক ব্যবস্থা আনার ফলে আমরা পরিবেশের ক্ষতি কমাতে পারি এবং কৃষি পেশাদারদের হাতে সুনির্দিষ্ট সরঞ্জাম তুলে দিয়ে ক্ষমতায়নে সাহায্য করতে পারি। এই গবেষণা ফলের মাছি নিয়ন্ত্রণে একটি সম্ভাবনাময় পথ নির্দেশ করে।
ফলের মাছি : খাদ্য নিরাপত্তা ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী আতঙ্ক
ফলে মাছি সংক্রমণ বিশ্বব্যাপী কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি বড় সমস্যা। সরাসরি মাছির লার্ভা থেকে অথবা পরোক্ষভাবে ক্ষতিকারক অণুজীব বা পচনশীল পদার্থ যেটি স্ত্রী মাছির ডিম পাড়ার স্থান দিয়ে ফল ও সবজির মধ্যে প্রবেশ করে এবং ফলে পচন ধরা ত্বরান্বিত করে- ফলে, বছরে বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্ভাবনা থেকে যায়।
নতুন গবেষণা ফলের মাছির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একটি যুগান্তকারী হাতিয়ার। এই নতুন পদ্ধতি দ্রুত, নির্ভুল এবং নির্ভরযোগ্য প্রজাতি শনাক্তকরণে সহায়তা করে, ফসলের ক্ষতি হ্রাস করতে সাহায্য করে। বিশ্বব্যাপী খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে এটি অবশ্যই বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
