ওয়েব ডেস্ক; ১ ফেব্রুয়ারি : এদিন সংসদে ২০২৬-২৭ বাজেট ভাষণে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন বলেছেন, সরকার ধারাবাহিক বিকাশ, মানুষের দক্ষতায়ন এবং সর্বাত্মক উন্নয়নের লক্ষ্যে দায়বদ্ধ।

ভারতকে সারা বিশ্বের অন্যতম বায়োফার্মা উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে বায়োফার্মা শক্তি (স্ট্র্যাটেজি ফর হেলথ কেয়ার অ্যাডভান্সমেন্ট থ্রু নলেজ, টেকনোলজি অ্যান্ড ইনোভেশন) ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। এক্ষেত্রে আগামী পাঁচ বছরের জন্য ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষ তরুণ পেশাদার গড়ে তুলতে বেশ কয়েকটি প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। বর্তমানের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনাকে আরও জোরদার করা হবে এবং সহায়ক স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে কর্মরত পেশাদারদের (এএইচপি) দক্ষতর করে তুলতে সরকারি ও বেসরকারি ক্ষেত্রে আরও নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে। আগামী পাঁচ বছরে এ ধরনের আরও ১ লক্ষ পেশাদার তৈরি করা সরকারের লক্ষ্য। স্বাস্থ্য ও পরিচর্যা পরিমণ্ডলকেও আরও জোরদার করে তুলতে চায় সরকার। এক্ষেত্রে প্রবীণদের পরিচর্যার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আগামীদিনে এইসব ক্ষেত্রে আরও ১.৫ লক্ষ পেশাদারকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

সারা বিশ্বে ভারতকে চিকিৎসা-পর্যটনের অন্যতম কেন্দ্র করে তুলতে পাঁচটি আঞ্চলিক মেডিকেল হাব গড়ে তোলার কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী। এর ফলে, কর্মসংস্থানের পালেও হাওয়া লাগবে।

বাজেট ভাষণে অর্থমন্ত্রী বলেন, ভারতের যোগ-বিজ্ঞান এখন সারা বিশ্বে সমাদৃত। একই কথা প্রযোজ্য আয়ুর্বেদ-বিজ্ঞান নিয়েও। এই বিষয়টিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে নতুন তিনটি অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট আয়ুর্বেদ গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। এছাড়াও, আয়ুষ ফার্মেসি এবং ওষুধ পরীক্ষা ব্যবস্থাপনাকেও আরও জোরদার করে তোলা হবে। গুজরাটের জামনগরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গ্লোবাল ট্র্যাডিশনাল মেডিসিন সেন্টারে তথ্য-ভিত্তিক গবেষণার প্রসারে নেওয়া হবে উদ্যোগ।

দেশে জাতীয় স্তরে মানসিক পরিচর্যার প্রতিষ্ঠান কম রয়েছে বলে অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন। সেই খামতি মেটাতে গড়ে উঠবে NIMHANS-2। রাঁচি এবং তেজপুরে জাতীয় মানসিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলিকে আঞ্চলিক স্তরের সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা হবে বলে জানানো হয়েছে। জেলা হাসপাতালগুলির আপৎকালীন পরিষেবা ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত করা হবে বলে বাজেট ভাষণে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।