ওয়েব ডেস্ক; ১৪ ফেব্রুয়ারি : সরকার দেশের কিশোরীদের শিক্ষা, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে। এর জন্য বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
শিশুদের মধ্যে লিঙ্গের অনুপাত যথাযথ রাখতে ২০১৫ সালের ২২ জানুয়ারি ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’ কর্মসূচির সূচনা করা হয়। শিশুকন্যাদের সম্পর্কে প্রচলিত ধারণার পরিবর্তন ঘটাতে সংশ্লিষ্ট সকলকে প্রভাবিত করার জন্য এই প্রকল্পের সূচনা করা হয়। দেশের গ্রামাঞ্চলে ছোট ছোট মেয়ে এবং মহিলাদের জীবনযাত্রা সহজ করার জন্য স্বচ্ছ ভারত মিশনের আওতায় ১১ কোটি ৮০ লক্ষ শৌচাগার নির্মাণ করা হয়েছে। সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনার মাধ্যমে শিশুকন্যাদের ক্ষুদ্র সঞ্চয়ের বিষয়ে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এছাড়াও, ২০২০ সালের জাতীয় শিক্ষানীতি এবং ২০০৯ সালের শিক্ষার অধিকার আইনে বিদ্যালয় স্তরে সমগ্র শিক্ষা অভিযানকে কার্যকর করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কস্তুরবা গান্ধী বালিকা বিদ্যালয় প্রকল্পের সাহায্যে ১০-১৮ বছর বয়সী তপশিলি জাতি, তপশিলি উপজাতি, অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণী, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারের মেয়েদের বিদ্যালয় শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। ‘মিশন সক্ষম অঙ্গনওয়াড়ি’ এবং ‘পোষণ ২.০’ প্রকল্পের আওতায় উচ্চাকাঙ্ক্ষী জেলা এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সকল রাজ্যের ১৪-১৮ বছর বয়সী নাবালিকাদের জন্য ‘স্কিম ফর অ্যাডোলেসেন্ট গার্লস’-এর সূচনা করা হয়েছে ২০২২ সালের ১ এপ্রিল। ‘বিজ্ঞান জ্যোতি কর্মসূচি’র আওতায় প্রযুক্তি, ইঞ্জিনিয়ারিং, বিজ্ঞান ও গণিত শাখায় একাদশ এবং দ্বাদশ শ্রেণীর মেধাবী ছাত্রীদের পড়াশোনায় সহায়তা করা হয়। ‘প্রধানমন্ত্রী কৌশল বিকাশ যোজনা’র আওতায় মহিলাদের কারিগরি শিক্ষার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। দীনদয়াল অন্ত্যোদয় যোজনা – ন্যাশনাল রুরাল লাইভলিহুড মিশনের মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলে মহিলাদের পরিচালিত স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে সহায়তা করা হয়।
মাতৃত্বকালীন সুবিধা আইন, ২০১৭ অনুসারে প্রথম দুটি সন্তানের জন্মের পর ১২ সপ্তাহের পরিবর্তে ২৬ সপ্তাহ সবেতন মাতৃত্বকালীন ছুটির ব্যবস্থা করা হয়েছে। পঞ্চায়েত ব্যবস্থাপনায় ৩৩ শতাংশ আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত করার উদ্দেশ্যে সংবিধানের ৭৩তম ধারায় সংশোধন করা হয়। ২০২৩ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর লোকসভা এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল দিল্লি সহ দেশের প্রতিটি রাজ্যের বিধানসভায় মহিলাদের আসন সংরক্ষণের জন্য নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়মের বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রকের সূত্র অনুসারে, ২০১৪-১৫ সময়কালে দেশে কন্যাসন্তানের জন্মের হার ছিল প্রতি হাজার পিছু ৯১৮। ২০২৪-২৫ সময়কালে তা বৃদ্ধি পেয়ে ৯২৯-এ পৌঁছায়। PC&PNDT আইন অনুসারে দেশের প্রতিটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে কন্যাভ্রুণকে রক্ষা করার জন্য জন্মের আগে লিঙ্গ নির্ধারণ পরীক্ষা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
লোকসভায় এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে এ তথ্য জানিয়েছেন নারী ও শিশুবিকাশ প্রতিমন্ত্রী সাবিত্রী ঠাকুর।
