ওয়েব ডেস্ক; ১ এপ্রিল :
প্রধান বিষয়
পিএমএওয়াই-গ্রামীণ-এর প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে রাজ্যগুলিকে মোট ৪.১৫ কোটি বাড়ির লক্ষ্য দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩.৯০ কোটি বাড়ি অনুমোদিত হয়েছে এবং ২.৯৯ কোটি বাড়ির কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে।
২০২৯ সালের মধ্যে মোট ৪.৯৫ কোটি গ্রামীণ বাড়ি নির্মাণের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
উপভোক্তাদের সহায়তার জন্য মোট ৪,০৩,৮৮৬.১২ কোটি টাকা সরাসরি হস্তান্তর করা হয়েছে।জিও-ট্যাগিং, অস্বাভাবিকতা শনাক্তকরণ এবং আধারভিত্তিক মুখ যাচাইকরণের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর ব্যবস্থা স্বচ্ছতা বাড়িয়েছে।
স্বচ্ছ ভারত মিশন-গ্রামীণ, জল জীবন মিশন, প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনা এবং পিএম সূর্য ঘর : মুফত বিজলি যোজনার সঙ্গে সমন্বয়ের ফলে গ্রামীণ জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়েছে।
ভূমিকা
গত এক দশকে গ্রামীণ আবাসন ক্ষেত্রে ভারতের যাত্রা একটি বড় পরিবর্তনের কাহিনি। একটি পাকা বাড়ি শুধু মাথা গোঁজার ঠাঁই নয়, এটি নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং ভবিষ্যতের ভিত্তি।
প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা-গ্রামীণ ১ এপ্রিল ২০১৬ থেকে কার্যকর হয়েছে। এর লক্ষ্য, যেসব পরিবার গৃহহীন অথবা কাঁচা বা জীর্ণ বাড়িতে বাস করেন, তাঁদের পাকা বাড়ি এবং প্রাথমিক সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দেওয়া।
এই প্রকল্পের আওতায় বাড়ির ন্যূনতম আয়তন ২৫ বর্গমিটার। এর মধ্যে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে রান্না করার জন্য আলাদা জায়গাও রাখা হয়েছে।
এক দশকের অগ্রগতি
গত দশ বছরে এই প্রকল্পের পরিসর ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে।
২০২৬-এর ২৬ মার্চ পর্যন্ত প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে মোট ৪.১৫ কোটি বাড়ির লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছে। এর মধ্যে ৩.৯০ কোটি বাড়ি অনুমোদিত এবং ২.৯৯ কোটি বাড়ি সম্পূর্ণ হয়েছে।
এই প্রকল্পে সহায়তার জন্য মোট ৪,০৩,৮৮৬.১২ কোটি টাকা হস্তান্তর করা হয়েছে।
এই অগ্রগতি প্রমাণ করে, গ্রামীণ এলাকায় সর্বজনীন আবাসনের লক্ষ্যে প্রকল্পটি ধারাবাহিকভাবে এগোচ্ছে।
বাস্তবায়ন কাঠামো ও সংস্কার
এই প্রকল্পে উপভোক্তারা নিজেরাই তাঁদের বাড়ি নির্মাণ করেন। ফলে প্রকল্পটি পরিবারভিত্তিক অংশগ্রহণের উপর দাঁড়িয়ে আছে।
সরাসরি অর্থ হস্তান্তর
আর্থিক সহায়তা সরাসরি উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়। এতে টাকা পৌঁছতে দেরি হয় না এবং অপচয় কমে।
জিও-ট্যাগিং
নির্মাণের প্রতিটি ধাপে সময় ও তারিখসহ ছবি আপলোড করা হয়। এর ফলে, কাজের অগ্রগতি সরাসরি নজরদারিতে রাখা যায়।
স্থানীয় তদারকি
প্রতিটি অনুমোদিত বাড়ির জন্য স্থানীয় স্তরে একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী থাকেন। তিনি উপভোক্তার সঙ্গে যোগাযোগ রেখে নির্মাণের কাজ এগিয়ে নিয়ে যান।
ব্লক ও জেলা পর্যায়ে পরিদর্শন
ব্লক পর্যায়ের আধিকারিকরা প্রায় ১০% বাড়ি পরিদর্শন করেন। জেলা পর্যায়ে ২ শতাংশ বাড়ি পরীক্ষা করা হয়। এতে গুণগত মান নিশ্চিত হয়।
সামাজিক নিরীক্ষা
প্রতি গ্রাম পঞ্চায়েতে বছরে অন্তত একবার সামাজিক নিরীক্ষা করা হয়। এতে স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ থাকে এবং প্রকল্পের জবাবদিহিতা বাড়ে।
জাতীয় স্তরের নজরদারি
গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রকের আধিকারিকরাও তৃণমূল স্তরে গিয়ে বাড়ি পরিদর্শন করেন। তাঁরা কাজের অগ্রগতি ভোক্তা নির্বাচনের সঠিক বিষয়গুলি যাচাই করেন।
আওয়াসসফট প্ল্যাটফর্ম
আওয়াসসফট একটি দ্বিভাষিক ওয়েবভিত্তিক ব্যবস্থা। ভোক্তা নির্বাচন থেকে অর্থ হস্তান্তর এবং নির্মাণ পর্যবেক্ষণ পর্যন্ত সব তথ্য এখানে সংরক্ষিত থাকে।
গ্রামীণ পরিবারে প্রভাব
এই প্রকল্প গ্রামীণ পরিবারের জীবনে বড় পরিবর্তন এনেছে।
উন্নতমানের জীবনযাপন
পরিবারগুলি এখন নিরাপদ, সুস্থায়ী এবং আবহাওয়া তারতম্যের সঙ্গে সহনশীল পাকা বাড়িতে বসবাস করছে।
শৌচাগারের সুবিধা
স্বচ্ছ ভারত মিশন-গ্রামীণ-এর সঙ্গে সমন্বয়ের ফলে শৌচাগার নির্মাণে মত ১২,০০০ টাকা পর্যন্ত সহায়তা দেওয়া হয়। এতে স্বাস্থ্যবিধি উন্নত হয়েছে।
কর্মসংস্থান সহায়তা
এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এমজিএনআরইজিএ-র মাধ্যমে ৯০ থেকে ৯৫ কর্মদিবস পর্যন্ত অদক্ষ শ্রমের মজুরি নিশ্চিত করা হয়। এতে কর্মসংস্থানও তৈরি হয়।
পরিচ্ছন্ন রান্নার জ্বালানি
প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনার মাধ্যমে অনেক পরিবার এলপিজি সংযোগ পেয়েছে। এতে স্বাস্থ্যঝুঁকি কমেছে।
বিদ্যুৎ ও পানীয় জল
অন্যান্য সরকারি প্রকল্পের সঙ্গে সমন্বয়ে ভোক্তারা বিদ্যুৎ ও পাইপলাইনের মাধ্যমে পানীয় জলের সুবিধা পাচ্ছেন।
নবীকরণযোগ্য শক্তি
কিছু ক্ষেত্রে সৌর লণ্ঠন ও ছাদে সৌর বিদ্যুৎ ব্যবস্থাও যুক্ত করা হয়েছে। এতে পরিবেশবান্ধব শক্তির ব্যবহার বাড়ছে।
দক্ষতা উন্নয়ন
মানসম্মত বাড়ি নির্মাণের জন্য গ্রামীণ রাজমিস্ত্রি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু হয়েছে।
২০২৫-এর ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত এই কর্মসূচিতে ৩,৭৫,২৬৫ জনের নাম নথিভুক্ত করেছেন এবং ৩,০২,৩৭৭ জন প্রশিক্ষিত রাজমিস্ত্রি হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন।
নারীর ক্ষমতায়ন
এই প্রকল্পে বাড়ির মালিকানা নারীর নামে বা স্বামী-স্ত্রীর যৌথ নামে দেওয়ার উপর জোর দেওয়া হয়। এর ফলে, নারীর সম্পত্তির অধিকার ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি পেয়েছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর নজরদারি
আধুনিক প্রযুক্তি এই প্রকল্পকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করেছে।
ছবি যাচাই
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে বাড়ির দেওয়াল, ছাদ, দরজা, জানালার মতো অংশ চিহ্নিত করা হয়। এর ভিত্তিতে প্রকৃত সম্পূর্ণ বাড়ির ছবি নির্বাচন করা হয়।
জালিয়াতি প্রতিরোধ
একই এলাকার বাড়ির ছবি তুলনা করে যদি অস্বাভাবিক মিল পাওয়া যায়, তা হলে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। এতে জালিয়াতি রোধ করা যায়।
আধারভিত্তিক মুখ যাচাইকরণ
উপভোক্তার পরিচয় নিশ্চিত করতে আধার-ভিত্তিক মুখ যাচাইকরণ ব্যবহৃত হচ্ছে। এতে প্রকৃত উপভোক্তাদেরই সুবিধা পৌঁছচ্ছে।
লাইভনেস শনাক্তকরণ
চোখের পলক বা নড়াচড়ার মতো বৈশিষ্ট্য দেখে নিশ্চিত করা হয়, যাচাইকরণটি বাস্তব সময়ে হচ্ছে।
আগামীদিনের পথ
প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে ৩.৯০ কোটি অনুমোদিত বাড়ির মধ্যে ২.৯৯ কোটি বাড়ি সম্পূর্ণ হয়েছে।
এই অগ্রগতির ভিত্তিতে ২০২৯ সালের মধ্যে ৪.৯৫ কোটি গ্রামীণ বাড়ির লক্ষ্যে পৌঁছনোর পথ আরও সুদৃঢ় হয়েছে।
উপসংহার
প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা-গ্রামীণ শুধুমাত্র গৃহ নির্মাণের প্রকল্প নয়, এটি মর্যাদা, নিরাপত্তা এবং উন্নত জীবনযাত্রার ভিত্তি।
আবাসনের সঙ্গে শৌচাগার, বিদ্যুৎ, জল, রান্নার গ্যাস এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ যুক্ত হওয়ায় এই প্রকল্প গ্রামীণ ভারতের চেহারা বদলে দিচ্ছে।
২০২৯-এর সুস্পষ্ট রূপরেখা নিয়ে এই প্রকল্প গ্রামীণ ভারতে “সকলের জন্য আবাসন” লক্ষ্যকে বাস্তবে রূপ দিতে এগিয়ে চলেছে।
