ওয়েব ডেস্ক; ২ এপ্রিল : লোকসভায় সাংসদ বাপি হালদার উত্থাপিত প্রশ্নের লিখিত উত্তরে রেল, তথ্য ও সম্প্রচার এবং বৈদ্যুতিন ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানান, রেল মন্ত্রক দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে স্টেশনগুলির পুনর্নির্মাণের উদ্দেশ্যে অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্প চালু করেছে। এই প্রকল্পে স্টেশন উন্নয়নের জন্য মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন এবং ধাপে ধাপে তার বাস্তবায়নের ব্যবস্থা রয়েছে। এই মাস্টার প্ল্যানে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:

  • স্টেশনে প্রবেশপথ ও চলাচল এলাকার উন্নয়ন
  • শহরের উভয় প্রান্তের সঙ্গে স্টেশনের সংযোগ স্থাপন
  • স্টেশন ভবনের উন্নয়ন অপেক্ষাকক্ষ, শৌচাগার, বসার ব্যবস্থা ও পানীয় জলের সুবিধা উন্নত করা
  • যাত্রী চলাচল অনুযায়ী প্রশস্ত ফুট ওভার ব্রিজ/এয়ার কনকোর্স নির্মাণ
  • লিফট, এস্কালেটর ও র‌্যাম্পের ব্যবস্থা
  • প্ল্যাটফর্মের পৃষ্ঠতল উন্নয়ন ও ছাউনি নির্মাণ
  • ‘One Station One Product’–এর মতো প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় পণ্যের জন্য কিয়স্ক স্থাপন
  • পার্কিং ও মাল্টিমোডাল বা বহুব্যবস্থার সংযোগ
  • দিব্যাঙ্গজনদের জন্য উপযোগী পরিকাঠামো
  • উন্নত যাত্রী তথ্য ব্যবস্থা
  • প্রয়োজনে এক্সিকিউটিভ লাউঞ্জ, ব্যবসায়িক বৈঠকের নির্দিষ্ট স্থান, ল্যান্ডস্কেপিং প্রভৃতি সুবিধা

সাংসদের উত্থাপিত প্রশ্নে – অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্প (ABSS)–এর অধীনে অনুমোদিত ১০১টি স্টেশনের মধ্যে মাত্র তিনটির কাজ সম্পন্ন হয়েছে কি না, স্টেশন নির্বাচন করার জন্য সরকারের নির্ধারিত মানদণ্ড কি এবং বাকি স্টেশনগুলির কাজ সম্পন্ন হতে বিলম্বের কারণ কি – এই বিষয়ে উত্তরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান যে, এ পর্যন্ত অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্পের আওতায় দেশে মোট ১৩৩৮টি স্টেশন উন্নয়নের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে, যার মধ্যে ১০২টি স্টেশন পশ্চিমবঙ্গে অবস্থিত।
পশ্চিমবঙ্গে অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্পের অধীনে উন্নয়নের জন্য চিহ্নিত স্টেশনগুলির নাম নিম্নরূপ:

আদ্রা, আলিপুরদুয়ার জংশন, আলুয়াবাড়ি রোড, অম্বিকাকালনা, আনারা, অন্ডাল জংশন, আন্দুল, আসানসোল জংশন, আজিমগঞ্জ, বাগনান, বালি, বালুরঘাট, ব্যান্ডেল জংশন, বনগাঁ জংশন, বাঁকুড়া, বরাভূম, বারাসত, বর্ধমান, বারাকপুর, বেলদা, বহরমপুর কোর্ট, বেথুয়াডহরি, ভালুকা রোড, বিন্নাগুড়ি, বিষ্ণুপুর, বোলপুর শান্তিনিকেতন, বার্নপুর, ক্যানিং, চন্দননগর, চাঁদপাড়া, চন্দ্রকোনা রোড, ডালগাঁও, ডালখোলা, ডানকুনি, ধুলিয়ান গঙ্গা, ধূপগুড়ি, দীঘা, দিনহাটা, দমদম জংশন, ফালাকাটা, গড়বেতা, গেদে, হলদিয়া, হলদিবাড়ি, হরিশ্চন্দ্রপুর, হাসিমারা, হিজলি, হাওড়া জংশন, জলপাইগুড়ি, জলপাইগুড়ি রোড, জঙ্গিপুর রোড, ঝালিদা, ঝাড়গ্রাম, জয়চাঁদি পাহাড় জংশন, কালিয়াগঞ্জ, কল্যাণী, কল্যাণী ঘোষপাড়া, কামাখ্যাগুড়ি, কাটোয়া জংশন, খাগড়াঘাট রোড, খড়গপুর জংশন, কলকাতা, কৃষ্ণনগর সিটি জংশন, কুমেদপুর জংশন, মধুকুন্ডা, মধ্যমগ্রাম, মালদা কোর্ট, মালদা টাউন, মেচেদা, মেদিনীপুর (মিদনাপোর), নবদ্বীপ ধাম, নৈহাটি জংশন, নিউ আলিপুরদুয়ার, নিউ কোচবিহার, নিউ ফরাক্কা জংশন, নিউ জলপাইগুড়ি জংশন, নিউ মাল জংশন, ওন্দাগ্রাম, পানাগড়, পাণ্ডবেশ্বর, পাঁশকুড়া জংশন, পুরুলিয়া জংশন, রামপুরহাট জংশন, রানাঘাট, সাঁইথিয়া জংশন, শালবনি, সামসি, সাঁতরাগাছি, শিয়ালদহ, শালিমার, শান্তিপুর, শেওড়াফুলি জংশন, শ্রীরামপুর, শিলিগুড়ি জংশন, সীতারামপুর, সিউড়ি, সোনারপুর জংশন, সুইসা, তমলুক, তারকেশ্বর, তুলিন, উলুবেড়িয়া।

সম্পূর্ণ হওয়া স্টেশনসমূহ:

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান, পশ্চিমবঙ্গে নিম্নলিখিত স্টেশনগুলির উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হয়েছে:

আনারা, বরাভূম, হলদিয়া, হলদিবাড়ি, জয়চাঁদি পাহাড় জংশন, কল্যাণী ঘোষপাড়া, কামাখ্যাগুড়ি, পানাগড়, সিউড়ি, তমলুক।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান যে, অন্যান্য স্টেশনগুলির উন্নয়ন কাজও দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। কিছু স্টেশনের অগ্রগতি:

  • আলুয়াবাড়ি রোড স্টেশন: প্ল্যাটফর্ম ১ ও ২–এর সারফেসিং, প্ল্যাটফর্ম ২–এর সম্প্রসারণ, অ্যাপ্রোচ রোড ও বাউন্ডারি ওয়ালের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। স্টেশন ভবন, প্ল্যাটফর্ম শেল্টার ও ১২ মিটার ফুট ওভার ব্রিজের কাজ চলছে।
  • ডালখোলা স্টেশন: প্ল্যাটফর্ম সারফেসিং, শেল্টার ও ১২ মিটার ফুট ওভার ব্রিজ সম্পন্ন হয়েছে। সার্কুলেটিং এরিয়া, অ্যাপ্রোচ রোড ও লিফটের কাজ চলছে।
  • বালুরঘাট স্টেশন: স্টেশন ভবন উন্নয়ন, পোর্টিকো, প্ল্যাটফর্ম সম্প্রসারণ, অপেক্ষাকক্ষ, সার্কুলেটিং এরিয়া ও অ্যাপ্রোচ রোডের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। লিফট ও ফুট ওভার ব্রিজের কাজ চলছে।
  • জলপাইগুড়ি স্টেশন: প্ল্যাটফর্ম ১–এর সম্প্রসারণ ও সারফেসিং, শেল্টার, বাউন্ডারি ওয়াল ও ফুট ওভার ব্রিজ সম্পন্ন হয়েছে। সার্কুলেটিং এরিয়া বা আশপাশের এলাকা, লিফট ও এস্কেলেটরের কাজ চলছে।
  • নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন: পার্সেল/রেল মেইল সার্ভিস অফিস, ডিপার্চার বিল্ডিং (চতুর্থ তলা পর্যন্ত), অ্যারাইভাল ভবন এবং পডিয়াম পার্কিং–১ সম্পন্ন হয়েছে। ডিপার্চার বিল্ডিংয়ের পঞ্চম ও ষষ্ঠ তলা, এলিভেটেড রোড, পোডিয়াম পার্কিং–২, এয়ার কনকোর্স এবং অ্যারাইভাল ভবনের ফিনিশিং-এর কাজ চলছে।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বৈষ্ণব জানান, ভারতীয় রেলে স্টেশন উন্নয়ন/পুনর্নির্মাণ/উন্নীতকরণ/আধুনিকীকরণ একটি নিরবচ্ছিন্ন ও চলমান প্রক্রিয়া এবং প্রয়োজন, অগ্রাধিকারের ক্রম ও অর্থের প্রাপ্যতার ভিত্তিতে এই সংক্রান্ত কাজগুলি সম্পন্ন করা হয়। স্টেশন উন্নয়ন বা আধুনিকীকরণ সংশ্লিষ্ট স্টেশনের শ্রেণীবিভাগ, অবস্থা, যাত্রীচাপ ইত্যাদি বিবেচনায় নিয়ে সম্পাদিত হয়।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আরও জানান, স্টেশন উন্নয়ন বা উন্নীতকরণ একটি জটিল প্রক্রিয়া, যেখানে যাত্রী ও ট্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এজন্য অগ্নিনিরাপত্তা ছাড়পত্র, ঐতিহ্য সংক্রান্ত অনুমোদন, গাছ কাটার অনুমতি, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র-সহ বিভিন্ন আইনগত অনুমোদন প্রয়োজন হয়। এছাড়াও, ব্রাউনফিল্ড–সংক্রান্ত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ, যেমন জল ও নিকাশী লাইন, অপটিক্যাল ফাইবার কেবল, গ্যাস পাইপলাইন, বিদ্যুৎ ও সিগন্যাল কেবল স্থানান্তর, অবৈধ দখল, যাত্রী চলাচলে বিঘ্ন না ঘটিয়ে ট্রেন পরিষেবা চালু রাখা, রেললাইনের নিকটে কাজের ফলে গতি নিয়ন্ত্রণ, উচ্চ ভোল্টেজ বিদ্যুৎ লাইনের উপস্থিতি ইত্যাদি, কাজের অগ্রগতিকে প্রভাবিত করে এবং সম্পূর্ণ হওয়ার সময়সীমা বৃদ্ধি করে।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান, অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্প-সহ স্টেশন উন্নয়ন/উন্নীতকরণ/আধুনিকীকরণ সাধারণত প্ল্যান হেড–৫৩ ‘Customer Amenities’–এর অধীনে অর্থায়িত হয়। এই ক্ষেত্রে বরাদ্দ ও ব্যয়ের হিসাব রেল জোনভিত্তিকভাবে সংরক্ষিত হয়, স্টেশন বা প্রকল্পভিত্তিক কিংবা রাজ্যভিত্তিকভাবে নয়।
পশ্চিমবঙ্গ চারটি রেল জোনের অধীন—ইস্টার্ন রেলওয়ে, নর্থইস্ট ফ্রন্টিয়ার রেলওয়ে, সাউথ ইস্টার্ন রেলওয়ে এবং মেট্রো রেলওয়ে। এই জোনগুলির জন্য অর্থবর্ষ ২০২৫–২৬–এ ₹১,১৮৪ কোটি (সংশোধিত হিসাব) বরাদ্দ করা হয়েছে, যার মধ্যে এবছর ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ₹১,২৩১ কোটি ব্যয় করা হয়েছে।