ওয়েব ডেস্ক; ২৮ জুন : ভারতে রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়া প্রতিরোধের প্রচেষ্টাকে ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা ‘অ্যানিমিয়া মুক্ত ভারত অভিযান – পরিচালন নির্দেশিকা’ প্রকাশ করবেন। নতুন দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে ২৯শে জুন অনুষ্ঠিতব্য কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ পরিষদের (সিসিএইচএফডব্লিউ) ১৬তম বৈঠকে এই নির্দেশিকা প্রকাশ করা হবে।
এই সূচনাটি রক্তাল্পতার বিরুদ্ধে ভারতের লড়াইয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে। কারণ, কর্মসূচিটি ‘অ্যানিমিয়া মুক্ত ভারত’ থেকে ‘অ্যানিমিয়া মুক্ত ভারত অভিযান’-এ রূপান্তরিত হচ্ছে, যা এটিকে আরও ব্যাপক, জন-কেন্দ্রিক এবং প্রযুক্তি-নির্ভর উদ্যোগে পরিণত করার প্রতিফলন স্বরূপ। এই সূচনার মাধ্যমে কর্মসূচিটির রূপান্তর আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে এবং এটি একটি সামগ্রিক বা সর্বাঙ্গীন পদ্ধতির রূপ নেবে; যেখানে কেবল আয়রন সাপ্লিমেন্ট বা পরিপূরক প্রদানই নয়, বরং রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা, সঠিক খাদ্যাভ্যাস, ডিজিটাল ট্র্যাকিং এবং ‘জন সচেতনতা’-র মাধ্যমে সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণও সুনিশ্চিত করবে।
এই নির্দেশিকাগুলি বর্তমানে চালু ‘৬x৬x৬’ কৌশলকে প্রসারিত করে ‘৭x৭x৭’ কাঠামোয় উন্নীত করবে। এর আওতায় সপ্তম সুবিধাভোগী গোষ্ঠী, সপ্তম হস্তক্ষেপ বা পদক্ষেপ এবং সপ্তম প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা যুক্ত করা হবে। জীবনের একেবারে প্রাথমিক পর্যায় থেকেই রক্তাল্পতা মোকাবিলার গুরুত্ব বিবেচনা করে, কম ওজনে জন্ম নেওয়া শিশুদের (০-৬ মাস বয়সী) সপ্তম সুবিধাভোগী গোষ্ঠী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
সপ্তম পদক্ষেপ বা হস্তক্ষেপ হিসেবে ‘সঠিক খাদ্যাভ্যাস’ পদ্ধতিটি চালু করা হবে, যা দৈনন্দিন অভ্যাস হিসেবে আয়রন-সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যপূর্ণ খাবার গ্রহণের বিষয়টিকে উৎসাহিত করবে। অন্যদিকে, ডিজিটাল ট্র্যাকিং-সমর্থিত একটি শক্তিশালী পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন কাঠামো সপ্তম প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করবে।
এই অভিযানের একটি মূল বৈশিষ্ট্য হলো ‘T3’ পদ্ধতি (টেস্ট বা পরীক্ষা, ট্রিট বা চিকিৎসা ও টক বা আলোচনা) থেকে ‘T4’ পদ্ধতিতে (টেস্ট বা পরীক্ষা, ট্রিট বা চিকিৎসা ও টক বা আলোচনা এবং ট্র্যাকিং বা অনুসরণ) উত্তরণ। সংশোধিত এই কৌশলে হিমোগ্লোবিন পরীক্ষার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে; পাশাপাশি জাতীয় প্রোটোকল অনুযায়ী আয়রনের ঘাটতিজনিত রক্তাল্পতার চিকিৎসা, রেফারেল ও ফলো-আপের জন্য সুবিধাভোগীদের সুশৃঙ্খলভাবে অনুসরণ (ট্র্যাকিং) এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট পরামর্শ প্রদানের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মায়েদের মধ্যে তীব্র রক্তাল্পতা এবং সাধারণ চিকিৎসায় যাদের অবস্থার উন্নতি হচ্ছে না (নন-রেসপন্ডার), তাদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্লিনিক্যাল পদক্ষেপ হিসেবে ‘ফেরিক কার্বোক্সিমালটোজ’ (এফসিএম) ও ‘আয়রন সুক্রোজ’ ব্যবহার করে ইন্ট্রাভেনাস আয়রন থেরাপি অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
এই নির্দেশিকাগুলোর মাধ্যমে বিভিন্ন সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর জন্য রক্তাল্পতা সংক্রান্ত পরিষেবাগুলোর তদারকির লক্ষ্যে একটি শক্তিশালী ডিজিটাল ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। গর্ভবতী মহিলাদের হিমোগ্লোবিন পরীক্ষার তথ্য ‘জননী’ পোর্টালের মাধ্যমে নথিভুক্ত করা হবে এবং শিশুদের তথ্য আরবিএসকে ও ‘ইউ-উইন’ পোর্টালের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হবে। এই প্ল্যাটফর্মগুলোকে একটি সমন্বিত ‘এএমবি অভিযান পোর্টাল’-এর আওতায় নিয়ে আসা হবে, যা সামগ্রিক তদারকি, বিশ্লেষণ এবং তথ্য-প্রমাণ-ভিত্তিক পরিকল্পনা প্রণয়নকে সহজতর করবে।
১৬তম সিসিএইচএফডব্লিউ বৈঠকের সময় এই পরিচালন নির্দেশিকা প্রকাশের বিষয়টি পুষ্টি এবং মা ও শিশু স্বাস্থ্যের মানোন্নয়নে সরকারের অব্যাহত প্রতিশ্রুতিকে পুনর্ব্যক্ত করবে এবং একটি স্বাস্থ্যকর ও অ্যানিমিয়া মুক্ত ভারত গড়ার পথে অগ্রগতিকে আরও ত্বরান্বিত করবে।
