ওয়েব ডেস্ক; ৬ জুলাই : ডিরেক্টরেট অফ রেভিনিউ ইন্টেলিজেন্স (ডিআরআই) ,১৯৮৫ সালের এনডিপিএস আইনের আওতায় পশ্চিমবঙ্গে ও ত্রিপুরায় দুটি পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমাণ কোডিন-যুক্ত কাশির সিরাপের বোতল বাজেয়াপ্ত করেছে। মাদক পাচার রোধ এবং মাদকের সরবরাহ নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়।
ডিআরআই আধিকারিকরা পশ্চিমবঙ্গের ডানকুনিতে একটি গুদামে তল্লাশি চালিয়ে ১০৪টি সিল করা লোহার ড্রাম থেকে ৫৬,২২৫ বোতল কোডিন-যুক্ত কাশির সিরাপ উদ্ধার করেন। ধরা পড়ার হাত থেকে বাঁচতে ড্রামগুলোর ভেতরে চায়না ক্লে পাউডারের (এক ধরণের সাদা মাটি বা খনিজ গুঁড়ো) স্তরের নিচে এই বোতলগুলো লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। ১৯৮৫ সালের এনডিপিএস আইনের সংশ্লিষ্ট ধারার অধীনে পুরো চালানটি বাজেয়াপ্ত করা হয়।
২ জুলাই, ডিআরআই-এর আধিকারিকরা আগরতলাগামী একটি ট্রেনের পার্সেল ভ্যানে নিয়ে যাওয়া একটি চালান আটক করেন। পাচারের উদ্দেশ্যে আনা এই নিষিদ্ধ সামগ্রীগুলো অত্যন্ত কৌশলে ৮০টি ধাতব ড্রামের ভেতরে লুকানো ছিল । সব মিলিয়ে ৫৫,৬২৬ বোতল কোডিন-যুক্ত কাশির সিরাপ উদ্ধার ও বাজেয়াপ্ত করা হয়। রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স ( আরপিএফ) এবং আসাম রাইফেলসের সাহায্যে এই অভিযানটি পরিচালিত হয়। চালানটি নিতে আসা একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সামগ্রিকভাবে, এই দুটি অভিযান থেকে প্রায় ১.১১ লক্ষ বোতল কোডিন-যুক্ত কাশির সিরাপ বাজেইয়াপ্ত করা হয়েছে এবং একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কোডিন হলো আফিম থেকে প্রাপ্ত একটি উপাদান। ওষুধ তৈরিতে এর নিয়ন্ত্রিত বৈধ চিকিৎসাগত ব্যবহার রয়েছে। তবে, অবৈধ ব্যবহারের উদ্দেশ্যে সরিয়ে নেওয়া হলে কোডিন-যুক্ত কাশির সিরাপের অপব্যবহারের ঝুঁকি থাকে। তাই মাদক পাচারকারী চক্রগুলো প্রায়শই এগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে থাকে।
এই বিপুল পরিমান কাশির সিরাপের বোতলগুলি বাজেয়াপ্ত করার ঘটনা থেকে প্রমাণ হয় যে, সংগঠিত পাচারকারী চক্রগুলো অভিনব সব গোপন করার পদ্ধতি ব্যবহার করে মাদক উপাদানযুক্ত ওষুধগুলোকে অবৈধ পাচারের কাজে লাগানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে ডিআরআই এ ধরনের নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
