ওয়েব ডেস্ক; ১৮ জুলাই : ভারতের নির্বাচন কমিশন (ইসিআই) প্রথম সর্বভারতীয় মিডিয়া সম্মেলন ২০২৬-এর আয়োজন করে। সম্মেলনের মূলভাবনা ছিল, “অংশীদারদের যুক্ত করা, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা: নির্বাচনে গণমাধ্যমের ভূমিকা”। দেশের বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলো থেকে ৩৮০ জনেরও বেশি গণমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি এই সম্মেলনে যোগ দেন।
সম্মেলনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন যে, ভারতে নির্বাচন ভারতের সংবিধান, নির্বাচনী আইন এবং বিভিন্ন সময়ে জারি করা ভারতের নির্বাচন কমিশনের নির্দেশাবলী অনুসারে অনুষ্ঠিত হয়। তিনি বলেন যে, ভারতের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা সমগ্র নির্বাচনী প্রক্রিয়াটি একই সঙ্গে নিরীক্ষণ করেন। সিইসি জ্ঞানেশ কুমার বলেন যে, প্রায় ৯৫ কোটি ভারতীয়কে নিয়ে গঠিত ভারতের ভোটার তালিকা একটি জীবন্ত নথি যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গতিশীলভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে। ভোটার তালিকা তৈরির ভিত্তি হিসেবে থাকা বিধিবদ্ধ সুরক্ষাব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন যে, ১২ লক্ষেরও বেশি বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও) এবং ১৫ লক্ষেরও বেশি বুথ লেভেল এজেন্ট (বিএলএ) নিরীক্ষক হিসেবে এই প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে জড়িত।
জ্ঞানেশ কুমার আরও বলেন যে, সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে এযাবৎকালের সর্বোচ্চ ভোটদানের হার দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রতি ভারতীয় ভোটদাতাদের আস্থা এবং ভারতীয় গণতন্ত্রের প্রাণবন্ততার প্রমাণ। তিনি বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের জন্য ভারতের সকল ভোটদাতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন।
এই সম্মেলনের লক্ষ্য হলো নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিভিন্ন দিক এবং রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের মতো প্রধান অংশীদারদের যুক্ত করে ভারতে কীভাবে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতার সঙ্গে নির্বাচন পরিচালিত হয়, সে সম্পর্কে একটি সুবিবেচিত বোঝাপড়া তৈরি করা।
সংবিধানে প্রদত্ত স্বচ্ছতার ব্যবস্থা, ১৯৫০ ও ১৯৫১ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইন এবং নির্বাচন কমিশন ( ইসিআই) দ্বারা সময়ে সময়ে জারি করা নির্দেশাবলী, ইসিআইএনইটি প্ল্যাটফর্ম ও নির্বাচনে প্রযুক্তির ভূমিকা, গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক বিধান এবং নির্বাচনকালীন গণমাধ্যম সংক্রান্ত আইনসমূহের একটি বিস্তৃত পর্যালোচনার মাধ্যমে সম্মেলনটি শুরু হয়।
অংশগ্রহণকারীদের বুথ লেভেল এজেন্ট ,পোলিং এজেন্ট এবং কাউন্টিং এজেন্টদের ভূমিকা ও দায়িত্ব সম্পর্কে অবহিত করা হয়। ভারতে নির্বাচনের সমকালীন নিরীক্ষক হিসেবে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ সহজতর করা এবং নির্বাচনের বিভিন্ন পর্যায়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকার ওপর আলোকপাত করা হয়।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে, অংশগ্রহণকারীদের দলবদ্ধভাবে ভোটার তালিকা তৈরি করা, ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া এবং গণনা প্রক্রিয়ার একটি প্রদর্শনীও দেখানো হয়। এই প্রদর্শনী গণমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত পেশাদারদের বিভিন্ন বিধিবদ্ধ ফর্ম সম্পর্কে হাতে-কলমে অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ করে দেয়। এটি বিভিন্ন অংশীদার দ্বারা সমকালীন নিরীক্ষার ভিত্তি প্রদান করে। অধিবেশনগুলোর পরে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের একটি প্রশ্নোত্তর পর্বও অনুষ্ঠিত হয়।
