শুভাবরি ওয়েব ডেস্ক, ২৮ জুলাই, কলকাতা :
ঝুলন পূর্ণিমা, ঝুলন যাত্রা হলো দোলনা উৎসব যা হিন্দু দেবতা কৃষ্ণ এবং দেবী রাধাকে উৎসর্গীকৃত। এটি শ্রাবণ মাসে (জুলাই-আগস্ট) জনপ্রিয়ভাবে হিন্দু বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের মানুষের সাথে সাথে বাকি হিন্দুরা ও উদযাপন করেন। এই উৎসবটি সাজানো দোলনা, গান এবং নৃত্যের প্রদর্শনের জন্য পরিচিত। রাধা-কৃষ্ণের প্রেম ভাবকে হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষেরা উৎসাহ ও উদ্দীপনার সাথে উদযাপন করেন।
কথিত আছে, বৃন্দাবনে গোপীদের সাথে ভগবান শ্রী কৃষ্ণের দোলনায় লীলা থেকে ঝুলন যাত্রার অনুপ্রেরণা এসেছে। এই লীলার উল্লেখ ভাগবত পুরাণ, এবং গীত গোবিন্দে পাওয়া যায়। বর্ষার দোলনা বা ‘সাওয়ান কে ঝুলে’-এর রূপকটি তখন থেকে কবি এবং গীতিকাররা ভারতীয় উপমহাদেশে বর্ষাকালে বিরাজমান রোমান্টিক অনুভূতি বর্ণনা করার জন্য ব্যবহার করে আসছেন।
জনপ্রিয় কৃষ্ণ সাহিত্য ‘হরি ভক্তি বিলাস’ (শ্রীকৃষ্ণের প্রতি ভক্তির প্রদর্শন)-এ শ্রীকৃষ্ণকে উৎসর্গ করে বিভিন্ন উৎসবের অংশ হিসেবে ঝুলন যাত্রার উল্লেখ আছে। ভক্তরা গ্রীষ্মকালে ভগবানকে নৌকায় বসিয়ে, শোভাযাত্রা বের করেন। তাঁর শরীরে চন্দন লাগিয়ে, চামর দিয়ে বাতাস করে, রত্নখচিত মালা পরিয়ে, সুস্বাদযুক্ত খাবার নিবেদন করে, মনোরম চন্দ্রালোকে তাঁকে দোল দেওয়ার মাধ্যমে তাঁর সেবা করেন।
ভারতের সমস্ত রাজ্যের মধ্যে উত্তরপ্রদেশের মথুরা , বৃন্দাবন এবং পশ্চিমবঙ্গের নবদ্বীপ এবং মায়াপুর ঝুলন যাত্রা উদযাপনের জন্য বিখ্যাত। ঝুলনের তেরো দিন ধরে শ্রাবণ মাসের (জুলাই-আগস্ট) শুক্লপক্ষের তৃতীয়া থেকে পূর্ণিমা পর্যন্ত, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার কৃষ্ণভক্ত ভারতের উত্তর প্রদেশের মথুরা ও বৃন্দাবন এবং পশ্চিমবঙ্গের নবদ্বীপ এবং মায়াপুরের পবিত্র শহরগুলিতে ভিড় করেন।
রাধা ও কৃষ্ণের বিগ্রহগুলোকে আসন থেকে বের করে সোনা ও রুপো দিয়ে তৈরি জমকালো দোলনায় রাখা হয়। বৃন্দাবনের শ্রী রূপ-সনাতন গৌড়ীয় মঠ, বাঁকে বিহারী মন্দির ও রাধা-রমণ মন্দির, মথুরার দ্বারকাধীশ মন্দির এবং মায়াপুরের ইসকন মন্দির ও নবদ্বীপ এর কয়েকটি স্থানে এই উৎসবটি সবথেকে জাঁকজমকের সাথে উদযাপিত হয়।
