ওয়েব ডেস্ক; ৮ আগস্ট : রাষ্ট্রপতি শ্রীমতি দ্রৌপদী মুর্মু আজ (৮ আগস্ট) নয়াদিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবন কালচারাল সেন্টারে আয়োজিত দ্বাদশ জাতীয় তাঁত দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে যোগ দেন এবং সন্ত কবীর হ্যান্ডলুম অ্যাওয়ার্ড ও জাতীয় তাঁত পুরস্কার ২০২৫ প্রদান করেন। এই উপলক্ষে ভারতের সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময় তাঁত বয়ন ঐতিহ্যের স্মারক হিসেবে চারটি বিশেষ ডাকটিকিটও প্রকাশ করা হয়।

তাঁর ভাষণে রাষ্ট্রপতি বলেন যে, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে তাঁত শিল্প ভারতের সভ্যতার বিবর্তনের যাত্রাপথে এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে রয়েছে। এটি আমাদের দেশের অনন্যসাধারণ বৈচিত্র্যকে প্রতিফলিত করে এবং আমাদের আঞ্চলিক স্বকীয়তাকে সংরক্ষণ করেছে। তাঁত শিল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নারীর ক্ষমতায়ন, শিল্প-সংস্কৃতির বিকাশ এবং প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসার প্রসারে সহায়তা করে। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং আত্মনির্ভরশীলতার চেতনার সঙ্গেও তাঁত শিল্পের গভীর যোগসূত্র রয়েছে।

রাষ্ট্রপতি বলেন যে, ১৯০৫ সালের ৭ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে ‘স্বদেশী আন্দোলন’ শুরু হয়েছিল। বঙ্গভঙ্গের প্রতিবাদ হিসেবে এই আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল, দেশীয় পণ্য ও শিল্পের প্রসার ঘটানো এবং বিশেষ করে দেশের তাঁত শিল্পীদের সহায়তা করা। এই ঐতিহাসিক ঘটনার স্মরণে ভারত সরকার ২০১৫ সাল থেকে ৭ অগাস্ট দিনটিকে ‘জাতীয় তাঁত দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে। তিনি জাতীয় তাঁত দিবস উপলক্ষে এই ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত সকলকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, এই অনুষ্ঠানটি সেই বৈচিত্র্যের উদযাপন, যা আমাদের দেশের সাংস্কৃতিক ঐক্যের পরিচয় বহন করে। এটি সরকার এবং তাঁত শিল্পীদের সেই যৌথ প্রচেষ্টাকে স্বীকৃতি জানানোর একটি উপলক্ষ, যা ভারতের তাঁত শিল্পকে উচ্চমানের ভাবমূর্তি প্রদান করছে।

তিনি সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন যে, এই ক্ষেত্রটিতে একটি ‘স্বীকৃত সাংস্কৃতিক অর্থনীতি’তে রূপান্তরের সরকারি প্রচেষ্টার ফলে ভারতীয় হস্তচালিত তাঁত শিল্পের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হচ্ছে।

রাষ্ট্রপতি বলেন যে, অনেক প্রতিভাবান তরুণ উদ্যোক্তা এই ক্ষেত্রটিতে প্রবেশ করছেন। তিনি বলেন, সরকারি প্রকল্প ও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তরুণদের সক্রিয় সহায়তা ও দিকনির্দেশ প্রদান করা প্রয়োজন, যাতে তাঁদের উদ্দীপনা ও দক্ষতা এই ক্ষেত্রের দীর্ঘমেয়াদী ও বহুমুখী সাফল্য নিশ্চিত করতে পারে। তরুণ উদ্যোক্তা, ডিজাইনার এবং স্টার্টআপগুলি ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পের সাথে আধুনিক প্রবণতা, ব্র্যান্ড এবং আন্তর্জাতিক মূল্য-শৃঙ্খলের সংযোগ ঘটিয়ে এই ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, আধুনিক ডিজিটাল সমাধানের মাধ্যমে বাজারের সুযোগ আরও কার্যকর করা সম্ভব। তাছাড়া, ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিশ্ব বাজারে ভারতীয় হস্তচালিত তাঁত পণ্যের পৌঁছনোর সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা যেতে পারে। তিনি দৃঢ় আস্থা প্রকাশ করেন যে, হস্তচালিত তাঁত শিল্প দেশের অন্তর্ভুক্তিমূলক অগ্রগতি ও স্বনির্ভরতার ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *