ওয়েব ডেস্ক; ৯ আগস্ট: ৯ আগস্ট দিল্লির ক্যান্টনমেন্টের বেস হাসপাতালে আয়োজিত ‘সিন্দুর মহারক্তদান যাত্রা’ রক্তদান শিবিরে ভাষণ দেওয়ার সময় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, “অপারেশন সিন্দুর আমাদের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অতুলনীয় বীরত্বের নিদর্শন। এটি বিশ্বজুড়ে এই বার্তা পৌঁছে দিয়েছে যে, ভারতের নারীদের সিন্দুরের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা রক্ষায় ভারত যে কোনও পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।” প্রতিরক্ষামন্ত্রী পাকিস্তান-ভিত্তিক সন্ত্রাসবাদী ও তাদের মদতদাতাদের খতম করার জন্য এবং যারা ভারতের দিকে কুদৃষ্টি দেওয়ার দুঃসাহস দেখিয়েছে তাদের কঠোর পরিণতির মুখোমুখি করার বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য ভারতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রশংসা করেন।

‘সিন্দুর মহারক্তদান যাত্রা’-র প্রসঙ্গ টেনে রাজনাথ সিং বলেন, যেখানে ‘অপারেশন সিন্দুর’ সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছিল, সেখানে এই বিশাল রক্তদান শিবিরটি সহমর্মিতা ও মানবিকতার প্রতীক। এই শিবিরে মহারাষ্ট্রের প্রায় ১,০০০ কুস্তিগীর ও ক্রীড়াবিদ রক্তদাতা হিসেবে অংশ নেন এবং প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রতি সংহতি ও নিঃস্বার্থ সেবার মনোভাব প্রদর্শন করেন।

রক্তদাতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, আজ দান করা রক্ত ভবিষ্যতে প্রয়োজনে থাকা সৈনিক ও তাঁদের পরিবারের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য ভাণ্ডার হিসেবে কাজ করবে। তিনি রক্তদানকে ‘জীবনদান’ ও ‘মহা-দান’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং উল্লেখ করেন যে, বিজ্ঞান ও চিকিৎসাক্ষেত্রে অভূতপূর্ব অগ্রগতি সত্ত্বেও মানুষের রক্তের কোনো কৃত্রিম বিকল্প এখনও তৈরি করা সম্ভব হয়নি। যেহেতু রক্ত কেবল মানবদেহেই উৎপন্ন হতে পারে এবং একজন মানুষই অন্যজনকে তা দান করতে পারেন, তাই রক্তদানকে তিনি অন্যতম মহৎ দান হিসেবে উল্লেখ করেন।

রাজনাথ সিং জোর দিয়ে বলেন, প্রত্যেক রক্তদাতা ও গ্রহীতা নিজ নিজ অবস্থান থেকে দেশের সেবা করছেন। তিনি সাধারণ মানুষকে, বিশেষ করে যুবসমাজকে, রক্তদানকে একটি সংস্কৃতি হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “২০৪৭ সালে যখন আমরা স্বাধীনতার শতবর্ষ উদযাপন করব, তখন আমাদের লক্ষ্য কেবল একটি উন্নত অর্থনীতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়; আমাদের এমন এক সহমর্মী সমাজের স্বপ্নও দেখতে হবে যেখানে মানুষ সুস্থ ও নিরাপদ থাকবে এবং প্রয়োজনে রক্তর মতো মূল্যবান সম্পদ সহজে পাওয়া যাবে।”

যুবসমাজকে শারীরিক সুস্থতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, একজন সুস্থ ও ফিট ব্যক্তি সমাজের জন্য আরও বড় সম্পদ হয়ে ওঠেন এবং রক্তদানের মতো মহৎ কাজে অংশগ্রহণের জন্য আরও ভালোভাবে প্রস্তুত থাকেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ‘খেলো ইন্ডিয়া’ ও ‘ফিট ইন্ডিয়া’-র মতো উদ্যোগের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকার নাগরিকদের, বিশেষ করে যুবসমাজকে, শারীরিক সুস্থতাকে জীবনযাত্রার অংশ হিসেবে গ্রহণ করতে উৎসাহিত করছে। মহারাষ্ট্রের বীরত্ব ও সহমর্মিতার দীর্ঘস্থায়ী ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরে রাজনাথ সিং বলেন, ছত্রপতি শিবাজী মহারাজের আদর্শ ও উত্তরাধিকার প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শারীরিক শক্তির প্রকৃত সার্থকতা নিহিত রয়েছে অন্যদের সুরক্ষা ও দেশের নিরাপত্তাবিধানের মধ্যে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ছত্রপতি শিবাজী মহারাজের ভূমির ক্রীড়াবিদ ও কুস্তিগীরদের এই অবদান দেশের প্রতি এক মহৎ সেবা হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে; আয়ুষ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী (স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত) প্রতাপ রাও যাদব; মহারাষ্ট্র সরকারের শিল্পমন্ত্রী উদয় রবীন্দ্র সামন্ত; সাংসদ ড. শ্রীকান্ত লতা একনাথ শিন্ডে; সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরজ শেঠ; এএফএমএস-এর ডিরেক্টর জেনারেল সার্জন ভাইস অ্যাডমিরাল আরতি সারিন; অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল ভিপিএস কৌশিক; বেস হসপিটাল, দিল্লি ক্যান্টনমেন্টের কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল বিশাল চৌধুরী এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন সামরিক ও অসামরিক বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

এএফএমএস-এর ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত রক্ত মজুত রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সামরিক হাসপাতালগুলিকে নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের পাশাপাশি সামরিক অভিযান, আঘাতজনিত চিকিৎসা (ট্রমা) এবং জরুরি পরিস্থিতির প্রয়োজনেও সেবা দিতে হয়। প্রায় ৫০০ জন স্বেচ্ছাসেবী রক্তদাতার অংশগ্রহণ ‘আত্মস্বার্থের ঊর্ধ্বে সেবা’র আদর্শকে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করেছে এবং নিয়মিত স্বেচ্ছায় রক্তদানের মাধ্যমে জীবন রক্ষায় প্রতিটি যোগ্য নাগরিক যে ভূমিকা পালন করতে পারেন, তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *