ওয়েব ডেস্ক; ২০ অক্টোবর: জাতীয় অসামরিক বিমান চলাচল নীতি ২০১৬-এর অধীনে ২০১৬ সালের ২১ অক্টোবর ২০১৬ ‘উড়ান’ (Ude Desh ka Aam Nagrik – UDAN) প্রকল্প চালু হয়। ২০১৬ সালের ৭৪টি বিমানবন্দর থেকে বেড়ে ২০২৬ সাল নাগাদ বিমানবন্দরের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬৬টিতে, যা ভারতকে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অভ্যন্তরীণ বিমান পরিবহন ক্ষেত্রে পরিণত করেছে। এ বছর ৪ জুলাই এই প্রকল্পের নতুন পর্ব বা ‘সংশোধিত উড়ান’ চালু করা হয়, যা কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ অংশীদারিত্ব এবং বিমান পরিকাঠামো জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

উড়ান প্রকল্পের প্রথম দশক

২০১৭ সালের এপ্রিলে শিমলা থেকে দিল্লিতে প্রথম উড়ান চালুর মাধ্যমে এই প্রকল্পের যাত্রা শুরু হয়। গত ১০ বছরের অর্জনসমূহ:

কার্যকর রুট ও বিমানবন্দর:* উল্লেখ্য, ৬৮৭টি আঞ্চলিক রুট এবং ৯৫টি অ্যারোড্রোম (১৭টি হেলিপোর্ট ও দুটি ওয়াটার অ্যারোড্রোম সহ) চালু হয়েছে।
পরিষেবা ও যাত্রী সংখ্যা:* বস্তুত, ৩.৬৮ লক্ষেরও বেশি ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে এবং ১.৭২ কোটি যাত্রী যাতায়াত করেছেন।
ভায়াবিলিটি গ্যাপ ফান্ডিং (VGF):* এবছর ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ৫,০৯১.২৩ কোটি টাকা VGF হিসেবে বিতরণ করা হয়েছে।
কর্মসংস্থান:* অসামরিক বিমান চলাচল ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান ২০১৪ সালের ৩০ লক্ষ থেকে বেড়ে ২০২৬ সালে ৭৭ লক্ষে এসে পৌঁছেছে।

উত্তর-পূর্ব ভারতে উড়ান

উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ি এলাকায় ৯০টি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত রুট এবং ১২টি এরোড্রোম চালু করা হয়েছে, যা দুর্গম এলাকার যাতায়াত সহজ করেছে।

উড়ান প্রকল্পের পরবর্তী পর্যায়ে উত্তরণ

অর্থবছর ২০২৬-২৭ থেকে ২০৩৫-৩৬ পর্যন্ত ১০ বছরের জন্য ২৮,৮৪০ কোটি টাকা বরাদ্দে এই প্রকল্পের নতুন পর্ব রূপায়িত হচ্ছে।

সংশোধিত উড়ানের প্রধান দিকসমূহ:

অ্যারোড্রোম উন্নয়ন (CAPEX):* মোট ১২,১৫৯ কোটি টাকা খরচে ১০০টি এয়ারস্ট্রিপ তৈরি করা হবে (প্রতিটি বিমানবন্দরের জন্য ১০০ কোটি টাকা)।
রক্ষণাবেক্ষণ সহায়তা:* ৪৪১টি এরোড্রোমের জন্য তিন বছরের পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ ২,৫৭৭ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
আধুনিক হেলিপোর্ট:* ৩,৬৬১ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০টি আধুনিক হেলিপোর্ট নির্মাণ করা হবে।
উড়ান পরিচালনায় আর্থিক সহায়তা:* বিমান সংস্থাগুলির জন্য ১০ বছরে ১০,০৪৩ কোটি টাকার VGF বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
স্বদেশী বিমান উৎপাদন:* ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর অধীনে হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (HAL)-এর নির্মিত দুটি ধ্রুব হেলিকপ্টার এবং দুটি ডর্নিয়ার বিমান ক্রয়ের জন্য ৪০০ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে।

নতুন পর্বের রূপরেখা

পরবর্তী ধাপে কেন্দ্র, রাজ্য ও ভারতীয় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের (AAI) মধ্যে ২১টি সমঝোতাপত্র (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এ ছাড়া, ‘চ্যালেঞ্জ মোড পোর্টাল’-এর সাহায্যে রাজ্যগুলি প্রয়োজন অনুযায়ী স্থান মনোনীত করতে পারবে।

উড়ান এনে দিল আঞ্চলিক পরিবর্তন

পূর্ণিয়া বিমানবন্দর (বিহার): ২০২৫ সালে চালু হওয়া বিহারের দ্বিতীয় দীর্ঘতম রানওয়ে সমৃদ্ধ এই বিমানবন্দরটি সীমাঞ্চল ও কোশী অঞ্চলের ১০টিরও বেশি জেলার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ তৈরি করেছে। কলকাতা ও পাটনায় ভ্রমণের সময় কয়েক ঘণ্টায় নেমে এসেছে।
তেজু বিমানবন্দর (অরুণাচল প্রদেশ):২০২১ সালে সীমান্তবর্তী লোহিত জেলায় চালু হওয়া এই বিমানবন্দরটি প্রায় ২ লক্ষ মানুষকে ওয়ান-স্টপ এয়ার কানেক্টিভিটি দিয়েছে এবং আদা, এলাচ ও চাল রপ্তানিতে সাহায্য করছে।
দেওঘর বিমানবন্দর (ঝাড়খণ্ড):* ২০২২ সালের জুলাইয়ে শুরু হওয়া এই বিমানবন্দরটি বাবা বৈদ্যনাথ ধামের তীর্থযাত্রীদের ভ্রমণের সময় কমিয়েছে। এটি এই অঞ্চলের চিকিৎসা পরিষেবা এবং পর্যটন শিল্পকে গতিশীল করেছে।
কিষানগড় বিমানবন্দর (রাজস্থান):* ২০১৭ সাল থেকে শ্বেতপাথর (মার্বেল) এবং এই ক্ষেত্রের শিল্প ক্ষেত্রে ইতালি, ইউএই এবং আমেরিকায় সরাসরি এয়ার কার্গো রপ্তানি সহজ হয়েছে। এখানে ২০২২ সালে ফ্লাইং ট্রেনিং অর্গানাইজেশন (FTO) গড়ে উঠেছে।

আগামীর দিগন্ত

গত এক দশকে উড়ান প্রকল্প দেশের আঞ্চলিক বিমান যোগাযোগকে পুনর্সংজ্ঞায়িত করেছে। সংশোধিত উড়ান প্রকল্পের মাধ্যমে পরিকাঠামো উন্নয়ন, আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিতকরণ এবং দেশীয় বিমান তৈরির ওপর জোর দিয়ে ভারতের প্রত্যন্ত অঞ্চলকে প্রধান অর্থনৈতিক কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত করার কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *