ওয়েব ডেস্ক; ২৩ অক্টোবর : কৃষি ও পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির সংযোগস্থলে রয়েছে কৃষিজমির উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর এক উদ্ভাবনী পদ্ধতি। অ্যাগ্রি-ভোল্টেয়িক্স একই জমিতে ফসল চাষের পাশাপাশি, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের-ও সুযোগ করে দেয়। এর ফলে, কৃষকরা আয়ের বিভিন্ন উৎস গড়ে তুলতে পারেন এবং একই সঙ্গে ভারতের পরিচ্ছন্ন শক্তির ব্যবহারে রূপান্তরের ক্ষেত্রেও অবদান রাখতে পারেন। খাদ্য উৎপাদন ও সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকে একত্রিত করার মাধ্যমে এই পদ্ধতি জমির কার্যকর ব্যবহার, কৃষিক্ষেত্রে প্রতিকূলতা মোকাবিলার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ এলাকায় সুস্থায়ী সমৃদ্ধি অর্জনের একটি সম্ভাবনাময় পথ খুলে দেয়।
কৃষিক্ষেত্রে সৌরশক্তি ও পরিচ্ছন্ন ভবিষ্যৎ
ভারতের অর্থনীতিতে কৃষির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। দেশের প্রায় ৪৬.১ শতাংশ মানুষের জীবিকার অন্যতম প্রধান উৎস হল কৃষি। ২০২৫-২৬ সালে কৃষি ও সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের মোট মূল্য সংযোজন (জিভিএ) ৫২.০৮ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এই গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রের ধারাবাহিক উন্নয়ন বজায় রাখতে সেচ এবং কৃষিকাজের অন্যান্য কার্যক্রমের জন্য নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী শক্তির প্রয়োজন। সৌরশক্তি ভারতের পরিচ্ছন্ন শক্তির ব্যবহারে রূপান্তরকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি, কৃষিক্ষেত্রের দৈনন্দিন শক্তির চাহিদা পূরণেও সহায়তা করতে পারে।
ভারতের বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে কৃষিকাজের সঙ্গে সৌরশক্তির সংযুক্তিকরণের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। ২০২৩-২৪ সালের ভূমি ব্যবহার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে নথিভুক্ত মোট এলাকার পরিমাণ ৩০৬.৯৬ মিলিয়ন হেক্টর, যার প্রায় ৫৫ শতাংশ কৃষিজমি। নিট কর্ষিত জমির পরিমাণ ১৩৮.৯৯ মিলিয়ন হেক্টর, অন্যদিকে মোট কর্ষিত জমির পরিমাণ ২১৭.৮৮ মিলিয়ন হেক্টর। এই বিপুল পরিমাণ জমিতে কৃষি উৎপাদনের পাশাপাশি, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে। কৃষকরা সৌরশক্তি ব্যবহার করে সেচের পাম্প চালাতে, প্রচলিত বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা কমাতে এবং উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহের মাধ্যমে সম্ভাব্য অতিরিক্ত আয় করতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ, সৌরশক্তিচালিত সেচের পাম্প দিনের বেলায় ফসলে জল দেওয়ার জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারে এবং ডিজেলচালিত বিকল্পের ওপর নির্ভরতা কমাতে পারে।
অ্যাগ্রি-ভোল্টেয়িক্স একই জমিতে ফসল চাষ ও সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকে একত্রিত করে এই সংযুক্তিকরণকে আরও এগিয়ে নিয়ে যায়। ফসলের সারির উপরে বা মাঝখানে সৌর প্যানেল স্থাপন করে কৃষিকাজ চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি, বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। ফসলের ধরন, প্যানেলের নকশা এবং স্থানীয় পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে আংশিক ছায়া মাটির আর্দ্রতা হ্রাস কমাতেও সহায়তা করতে পারে। এই পদ্ধতি জমির কার্যকর ব্যবহার বাড়াতে, কৃষকদের আয়ের উৎসে বৈচিত্র্য আনতে এবং খাদ্য ও শক্তি- উভয় ক্ষেত্রেই নিরাপত্তা জোরদার করতে পারে। গবেষণা, মাঠপর্যায়ে প্রদর্শনী এবং নীতি প্রণয়নের মাধ্যমে ভারত বিভিন্ন কৃষি পরিস্থিতির উপযোগী করে অ্যাগ্রি-ভোল্টেয়িক্স ব্যবস্থাকে গড়ে তোলার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। কৃষকদের জীবিকাকে ভারতের বৃহত্তর পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তোলার ক্ষেত্রে এটি একটি সম্ভাবনাময় পথ।
“পাওয়ারিং দ্য গ্লোবাল সাউথ” ভাবনাকে সামনে রেখে ২০২৬ সালের ২১ থেকে ২৩ অক্টোবর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত সপ্তম অ্যাগ্রিভোল্টেয়িক্স বিশ্ব সম্মেলন সৌরশক্তি ও কৃষির সংযুক্তিকরণকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার একটি আন্তর্জাতিক মঞ্চ হিসেবে কাজ করছে। শিল্প, গবেষণা, নীতি প্রণয়ন ও অর্থায়ন ক্ষেত্রের অংশীদারদের একত্রিত করে এই সম্মেলনে অ্যাগ্রি-ভোল্টেয়িক্সের উদীয়মান সম্ভাবনাগুলির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর লক্ষ্য হল জমির কার্যকর ব্যবহার বাড়ানো, কৃষিক্ষেত্রে সুস্থায়িত্ব জোরদার করা এবং স্বল্প-কার্বন অর্থনীতির দিকে রূপান্তরে সহায়তা করা।
অ্যাগ্রি-ভোল্টেয়িক্স: কৃষি ও পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির মধ্যে সেতুবন্ধন
অ্যাগ্রিসোলার বা দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য সৌরশক্তি নামেও পরিচিত অ্যাগ্রি-ভোল্টেয়িক্স জমির কার্যকর ব্যবহার বাড়ায়, ফসলের জন্য ছায়ার ব্যবস্থা করে এবং কৃষকদের অতিরিক্ত সুবিধা প্রদান করে।
অ্যাগ্রি-ভোল্টেয়িক্স ব্যবস্থার নকশা ও কার্যপদ্ধতি
অ্যাগ্রি-ভোল্টেয়িক্স ব্যবস্থায় স্থানীয় কৃষি পরিস্থিতির উপযোগী করে কৃষি পরিকাঠামোর সঙ্গে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়। এই প্রযুক্তি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের মাধ্যমে কাজ করে:
উঁচু সৌর কাঠামো: সৌর প্যানেল সরাসরি মাটিতে বসানোর পরিবর্তে এমন উঁচু কাঠামোর ওপর স্থাপন করা হয়, যাতে নিচে থাকা ফসলের কাছে সূর্যের আলো ও বৃষ্টির জল পৌঁছাতে পারে। কৃষিকাজের জন্য ব্যবহৃত এই উঁচু সৌর প্যানেলগুলির নিচ দিয়ে কৃষকেরা সহজেই কৃষি সরঞ্জাম নিয়ে চলাচল করতে পারেন।
আংশিক ছায়া: সৌর প্যানেল ফসলের জন্য ছায়া তৈরি করে, যা অতিরিক্ত তাপ থেকে ফসলকে রক্ষা করতে এবং মাটি থেকে জলের বাষ্পীভবন কমাতে সাহায্য করে। বিশেষত, উষ্ণ বা শুষ্ক অঞ্চলে এর ফলে, গাছের বৃদ্ধির জন্য তুলনামূলক শীতল ও স্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি হয়।
জমির দ্বৈত উৎপাদনশীলতা: অ্যাগ্রি-ভোল্টেয়িক্সে ফসল চাষ বা পশুপালনের সঙ্গে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকে যুক্ত করে জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়। এর মাধ্যমে কৃষিকাজের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যায় এবং উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে বিক্রি করে আয়ের অতিরিক্ত উৎসও তৈরি করা সম্ভব হয়।
ভারতে অ্যাগ্রি-ভোল্টেয়িক্সের বিকাশ
২০২৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত ভারতে ৩৬টি অ্যাগ্রি-ভোল্টেয়িক্স প্রকল্প চালু ছিল, যেগুলির স্থাপিত বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৩৭.৫৪ মেগাওয়াট। পাশাপাশি, আরও ১০টি পরীক্ষামূলক প্রকল্পের কাজ চলছিল। এই প্রকল্পগুলি বিভিন্ন কৃষি-জলবায়ু অঞ্চলে বিস্তৃত। এর মধ্যে রয়েছে উঁচু কাঠামো, ফসলের সারির মধ্যবর্তী স্থানে প্যানেল স্থাপনের বিন্যাস এবং সূর্যের অবস্থান অনুসারে প্যানেলের দিক পরিবর্তনকারী ট্র্যাকিং ব্যবস্থা। কৃষি উৎপাদনের সঙ্গে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকে যুক্ত করার ক্ষেত্রে ভারতের ক্রমবিকাশমান দৃষ্টিভঙ্গি এই প্রকল্পগুলিতে প্রতিফলিত হয়েছে।
ভারতে অ্যাগ্রি-ভোল্টেয়িক্সের সম্ভাবনা
ভারতে অ্যাগ্রি-ভোল্টেয়িক্সের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। অনুমান অনুযায়ী, দেশে অ্যাগ্রি-ভোল্টেয়িক্সের সম্ভাব্য ক্ষমতা ৩,০০০ গিগাওয়াট থেকে প্রায় ১৪,০০০ গিগাওয়াট পর্যন্ত হতে পারে। কৃষি ও পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির সংযোগস্থলে এই বিপুল সম্ভাবনার বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ। অ্যাগ্রি-ভোল্টেয়িক্স ব্যবস্থা কৃষকদের আয়ের উৎসেও বৈচিত্র্য আনতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে, প্রতি একরে বার্ষিক আয় প্রায় ৬০,০০০ টাকা থেকে বেড়ে ১ লক্ষ টাকারও বেশি হতে পারে।
অ্যাগ্রি-ভোল্টেয়িক্সের বিকাশের সম্ভাবনা
জমির উপযুক্ততা: জিআইএস-ভিত্তিক জাতীয় সমীক্ষায় পরিবেশগত, কৃষিতাত্ত্বিক ও প্রযুক্তিগত মানদণ্ড প্রয়োগের পর ৪৭.৩৫ মিলিয়ন হেক্টর ‘সীমাবদ্ধ কৃষিজমি’ অ্যাগ্রি-ভোল্টেয়িক্সের জন্য উপযুক্ত বলে চিহ্নিত হয়েছে। এর মাধ্যমে জলবায়ুজনিত প্রতিকূলতা মোকাবিলায় সক্ষম জমির একটি সতর্কতামূলক মূল্যায়ন তুলে ধরা হয়েছে।
ফসলের উপযোগিতা: সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থার পাশাপাশি, ফল, শাকসবজি, মশলা ও ঔষধি গাছ চাষের সম্ভাবনা রয়েছে।
উচ্চ সম্ভাবনাময় রাজ্যগুলির মধ্যে রয়েছে মহারাষ্ট্র, রাজস্থান, অন্ধ্রপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, কর্ণাটক ও উত্তরপ্রদেশ। কৃষিজমির প্রাপ্যতা, সৌরশক্তির সম্ভাবনা এবং অনুকূল কৃষি-জলবায়ুগত পরিস্থিতির কারণে এই রাজ্যগুলি সম্মিলিতভাবে ভারতে অ্যাগ্রি-ভোল্টেয়িক্সের মাধ্যমে সম্ভাব্য বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার প্রায় ৫০ শতাংশের অধিকারী।
মাঝারি সম্ভাবনা রয়েছে ওড়িশা, তামিলনাড়ু, কেরল, তেলঙ্গানা, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গে।
বৃহৎ পরিসরে এই ব্যবস্থা চালু করার ক্ষেত্রে দেশের দক্ষিণ, পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলে সৌর বিকিরণ, জমির প্রাপ্যতা এবং উদ্যানপালনের ব্যাপকতার সবচেয়ে অনুকূল সমন্বয় দেখা যায়।
অ্যাগ্রি-ভোল্টেয়িক্সের বিকাশে সরকারি উদ্যোগ
ভারত সরকার সারা দেশে অ্যাগ্রি-ভোল্টায়িক্সের ব্যবহার ও প্রসার এগিয়ে নিয়ে যেতে বিভিন্ন নীতিগত পদক্ষেপ, গবেষণা, প্রযুক্তির বিকাশ এবং বাস্তবায়নমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
প্রধানমন্ত্রী কিষাণ উর্জা সুরক্ষা এবং উত্থান মহাভিযান (পিএম-কুসুম): ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে চালু হওয়া এই প্রকল্প কৃষিক্ষেত্রে সৌরশক্তির ব্যবহার উৎসাহিত করে, ডিজেলের ওপর নির্ভরতা কমায় এবং কৃষকদের আয়ের উৎসে বৈচিত্র্য আনার সুযোগ তৈরি করে। এই প্রকল্পে প্রায় ৩৪,৪২২ কোটি টাকা কেন্দ্রীয় আর্থিক সহায়তার সংস্থান রয়েছে। পাশাপাশি, এটি বিকেন্দ্রীভূত সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন এবং কৃষিকাজে ব্যবহৃত পাম্পগুলিকে সৌরশক্তিচালিত করার সুযোগ করে দেয়। এর ফলে, কৃষিকাজের সঙ্গে সৌরশক্তির সংযুক্তিকরণের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়।
অ্যাগ্রি-ভোল্টায়িক্স উৎকর্ষ কেন্দ্র: ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ সোলার এনার্জি, ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ অ্যাগ্রিকালচারাল রিসার্চের অধীন ইন্ডিয়ান অ্যাগ্রিকালচারাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সহযোগিতায়, অ্যাগ্রি-ভোল্টেয়িক্স সংক্রান্ত গবেষণা, প্রদর্শন এবং দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য একটি উৎকর্ষ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছে। এই কেন্দ্রের অধীনে একাধিক পরীক্ষামূলক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে, যার মধ্যে ইন্ডিয়ান অ্যাগ্রিকালচারাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটে ১০০ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি অ্যাগ্রি-ভোল্টায়িক্স ব্যবস্থাও রয়েছে।
ইন্ডিয়া অ্যাগ্রি-ভোল্টেয়িক্স অ্যালায়েন্স
ন্যাশনাল সোলার এনার্জি ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া (এনএসইএফআই)-এর নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া অ্যাগ্রি-ভোল্টেয়িক্স অ্যালায়েন্স (আইএএ) হল একটি বহুপক্ষীয় মঞ্চ, যার লক্ষ্য সৌরশক্তি উৎপাদন ও কৃষিকাজের জন্য একই জমির দ্বৈত ব্যবহারকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। ২০২৩ সালে চালু হওয়ার পর এই অ্যালায়েন্সের সদস্যসংখ্যা ৪০ ছাড়িয়েছে। নীতিগত উদ্যোগ, গবেষণা এবং মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের মাধ্যমে অ্যাগ্রি-ভোল্টেয়িক্সের প্রসারে এটি বিভিন্ন সরকারি মন্ত্রক ও শিল্পক্ষেত্রের অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করে। জমির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, কৃষকদের আয়ের উৎসে বৈচিত্র্য আনা এবং গ্রামীণ এলাকায় শক্তির প্রাপ্যতা জোরদার করার লক্ষ্যে এই অ্যালায়েন্স জ্ঞানভিত্তিক উপকরণ তৈরি করে, পরীক্ষামূলক প্রকল্পকে উৎসাহিত করে এবং বৃহত্তর পরিসরে প্রয়োগযোগ্য ব্যবসায়িক মডেল গড়ে তুলতে সহায়তা করে।
রাজ্যভিত্তিক উদ্যোগ
বিভিন্ন রাজ্য নিজ নিজ অঞ্চলের উপযোগী প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষিক্ষেত্রে সৌরশক্তির ব্যবহার সহজতর করছে।
মুখ্যমন্ত্রী সৌর কৃষি বাহিনী যোজনা ২.০, মহারাষ্ট্র: কৃষি গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সরবরাহে সহায়তার জন্য এই প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৩৫,০০০ একর সরকারি ও বেসরকারি জমিতে ১৬,০০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প গড়ে তোলা হচ্ছে।
কিষাণ সূর্যোদয় যোজনা, গুজরাট: কৃষকদের বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে এই প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষিকাজের জন্য দিনের বেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সৌরশক্তি ও অন্যান্য অপ্রচলিত শক্তি উৎপাদন কেন্দ্র পর্যায়ক্রমে চালু করার মাধ্যমে প্রতিদিন ভোর ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত, অর্থাৎ সর্বোচ্চ ১৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।
সূর্য রাইথা প্রকল্প, কর্ণাটক: এই প্রকল্পের মাধ্যমে সৌরশক্তিচালিত সেচ পাম্পের ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে এবং উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ বিক্রি করে কৃষকদের আয়ের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। সৌর পাম্পের সাহায্যে কৃষকেরা ফসলে জল দেওয়ার জন্য বিদ্যুৎ পেতে পারেন এবং ডিজেলচালিত পাম্পের ওপর নির্ভরতা কমাতে পারেন।
ভারত সরকার রাজ্য সরকারগুলির সঙ্গে যৌথভাবে নীতিগত পদক্ষেপ ও নির্দিষ্ট কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষিক্ষেত্রে সৌরশক্তির ব্যবহার এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও কৃষি উৎপাদন একই স্থানে করার সুযোগ তৈরি করে এই উদ্যোগগুলি ভারতে অ্যাগ্রি-ভোল্টেয়িক্সের বিকাশের পথ প্রশস্ত করছে।
কৃষি ও পরিচ্ছন্ন শক্তির সমন্বয়ে সমৃদ্ধির পথ
অ্যাগ্রি-ভোল্টেয়িক্স পরিবেশগত সুস্থায়িত্ব এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি, কৃষকদের জীবিকাকে আরও শক্তিশালী করার সুযোগ দেয়। খাদ্য উৎপাদনের সঙ্গে পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি উৎপাদনকে যুক্ত করার মাধ্যমে এই পদ্ধতি জমির আরও কার্যকর ব্যবহার, উপযুক্ত পরিস্থিতিতে জল সংরক্ষণ এবং আর্থিক স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করতে পারে। পিএম-কুসুম-সহ ভারত সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ এবং অ্যাগ্রি-ভোল্টেয়িক্সের প্রসারের জন্য প্রস্তাবিত পদক্ষেপগুলি গ্রামীণ উন্নয়নের সঙ্গে পরিচ্ছন্ন শক্তির লক্ষ্যগুলিকে যুক্ত করার প্রচেষ্টার প্রতিফলন। এই ব্যবস্থার বাস্তবায়ন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কৃষি উৎপাদনশীলতা ও শক্তির চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে স্থানীয় পরিস্থিতির উপযোগী নকশা, বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং কৃষকদের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। এই পদ্ধতি ভারতের আরও স্থিতিস্থাপক ও সুস্থায়ী ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সহায়তা করতে পারে। এর ফলে, আর্থিক স্থিতিস্থাপকতাও বাড়ার সম্ভাবনা থাকছে।
