ওয়েব ডেস্ক; ২৪ অক্টোবর : কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল জার্মানিতে তাঁর দুই দিনের সরকারি সফর শেষ করেছেন। ২৩ অক্টোবর বার্লিনে তিনি বেশ কয়েকটি কর্মসূচিতে অংশ নেন। জার্মান সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, ব্যবসায়িক নেতৃবৃন্দ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং জার্মানিতে বসবাসরত ভারতীয় সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি। এই আলোচনাগুলোর মূল লক্ষ্য ছিল বাণিজ্য, বিনিয়োগ, আধুনিক উৎপাদন ব্যবস্থা,গবেষণা এবং উদ্ভূত প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ভারত ও জার্মানির মধ্যে সহযোগিতাকে জোরদার করা।
গোয়েল জার্মান ফেডারেল চ্যান্সেলরিতে অর্থনৈতিক ও আর্থিক নীতি বিষয়ক উপদেষ্টা এবং জি৭/জি২০ শেরপা, লেভিন হোলের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। আলোচনায় দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং ভারত ও জার্মানির মধ্যে অর্থনৈতিক ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার সুযোগগুলোর পর্যালোচনা করা হয়।
তিনি পৃথকভাবে সিমেন্স হেলথিনিয়ার্স এজি-এর সিইও বার্নড মন্ট্যাগ; বারটেলসম্যান-এর কার্যনির্বাহী পর্ষদ সদস্য ও বারটেলসম্যান ইনভেস্টমেন্টস-এর সিইও কার্স্টেন কোসফেল্ড; এবং ভক্সওয়াগন এজি-এর সিএফও ও স্কোডা অটো-এর সিইও হোলগার পিটার্সের সঙ্গেও বৈঠক করেন। এই বৈঠকগুলোতে উভয় দেশের মধ্যে ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব, বিনিয়োগ এবং শিল্পগত সহযোগিতা সম্প্রসারণের সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
এছাড়াও, গোয়েল জার্মানির বিশিষ্ট শিল্প গবেষণা প্রতিষ্ঠানের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে একটি গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নেন, যেখানে উন্নত শিল্প প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি, তাঁর সফরসঙ্গী ভারতীয় ব্যবসায়িক প্রতিনিধি দলের সদস্যরা জার্মান শিল্প প্রতিনিধি ও বিভিন্ন শিল্প সংগঠনের সঙ্গে ক্ষেত্রভিত্তিক গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নেন। দ্বিপাক্ষিক ব্যবসায়িক সহযোগিতার সম্ভাবনার দিক খুঁজে দেখাই ছিল এর উদ্দেশ্য।
গোয়েল বার্লিনে বসবাসরত ভারতীয় সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন তিনি।
গবেষণা ও উদ্ভাবন পরিমন্ডলের সঙ্গে যুক্ত কর্মসূচির অংশ হিসেবে, গোয়েল জার্মানিতে অবস্থানরত ভারতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গবেষক এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তিনি ফ্রাউনহোফার ইনস্টিটিউট-এর প্রধানদের সঙ্গে একটি গোলটেবিল বৈঠকেও অংশ নেন। সেখানে মাইক্রোইলেক্ট্রনিক্স, পাওয়ার ইলেকট্রনিক্স, লজিস্টিকস, স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিং, শিল্প উদ্ভাবন এবং ব্যাটারি প্রযুক্তির মতো বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনায় ভারত ও জার্মানির মধ্যে গবেষণা সহযোগিতা এবং শিল্প-শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অংশীদারিত্ব জোরদার করার পথগুলো নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়।
