ওয়েব ডেস্ক; ২৪ অক্টোবর : রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স (আরপিএফ)-এর আয়োজনে গভর্নমেন্ট রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি) প্রধানদের অষ্টম সর্বভারতীয় সম্মেলন ২৩ অক্টোবর নতুন দিল্লিতে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এই সম্মেলনটি উদীয়মান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা, সর্বোত্তম কর্মপদ্ধতি বিনিময় এবং আরপিএফ, জিআরপি ও রাজ্য পুলিশের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করার একটি মঞ্চ হিসেবে কাজ করেছে।

উচ্চপর্যায়ের এই সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন আরপিএফ-এর ডিরেক্টর জেনারেল সোনালী মিশ্র। এতে রেলওয়ে বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সিইও সতীশ কুমার, রেলওয়ে বোর্ডের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ এবং বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের জিআরপি প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

একটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল সেন্টার ফর রেলওয়ে ইনফরমেশন সিস্টেমস (সিআরআইএস) কর্তৃক রেলমদদ প্ল্যাটফর্মে জিআরপি কর্মীদের যুক্ত করা। এর মূল লক্ষ্য হলো যাত্রীদের অভিযোগ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া উন্নত করা, সময়মতো তথ্য আদান-প্রদান নিশ্চিত করা এবং অভিযোগের ওপর নজরদারি জোরদার করা।

রেলওয়ের নিরাপত্তা ও যাত্রীদের সুরক্ষা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

সাউথ সেন্ট্রাল রেলওয়ের “পিঙ্ক পেট্রোল: আইজ ইন দ্য স্কাই, শক্তি অন দ্য গ্রাউন্ড” শীর্ষক উদ্যোগটি তুলে ধরা হয়। এটি নারীদের নেতৃত্বে পরিচালিত একটি মডেল, যেখানে ‘শক্তি’ কাঠামোর আওতায় ড্রোন-সহায়তাভিত্তিক নজরদারি এবং দ্রুত সাড়া প্রদানকারী দলের সমন্বয় ঘটানো হয়েছে।

ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনাকে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এটি মোকাবিলায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে টহল বৃদ্ধি, নজরদারি জোরদার, অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন এবং আরপিএফ ও জিআরপি-এর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়। এছাড়া, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণকে অপরাধ দমনের কার্যকর উপায় হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

সম্মেলনে দীপাবলি, ছট পূজা ও অন্যান্য উৎসবের সময় ভিড় ব্যবস্থাপনার বিষয়েও আলোচনা হয়। নর্দার্ন রেলওয়ের দিল্লি ডিভিশন তাদের সমন্বিত প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরে, যেখানে দিল্লি পুলিশ, জিআরপি এবং দিল্লি মেট্রো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করা হয়। এর আওতায় সিসিটিভি নজরদারি, নিয়মিত ঘোষণা প্রচার, ব্যারিকেড স্থাপন, যাত্রীদের অপেক্ষার জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ এবং বিশেষ নিয়ন্ত্রণ কক্ষ পরিচালনার মতো ব্যবস্থা নেওয়া হয়। উৎসবের মতো ভিড়পূর্ণ সময়ে যাত্রীদের নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল চলাচল নিশ্চিত করতে আগাম পরিকল্পনা, যাত্রীদের যাতায়াত ব্যবস্থার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তা কর্মীদের সুসমন্বিত মোতায়েনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সেন্ট্রাল রেলওয়ের পুনে ডিভিশন ‘প্রজেক্ট দিশা’ তুলে ধরে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো রেললাইনের পাশে বসবাসকারী শিশুদের শিক্ষামূলক ও বিনোদনমূলক কার্যক্রম, নিরাপত্তা বিষয়ক সচেতনতামূলক সেশন এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে রেলওয়ের নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত করা। এনজিও, ন্যাশনাল সার্ভিস স্কিম (এনএসএস)-এর স্বেচ্ছাসেবক এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে রেল নিরাপত্তা ও দায়িত্বশীল আচরণ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা হচ্ছে, যা পাথর নিক্ষেপ, চুরি, অননুমোদিত প্রবেশ এবং অন্যান্য অনিরাপদ কর্মকাণ্ড রোধে সহায়তা করছে।

এছাড়া, আরপিএফ ও জিআরপি-এর যৌথ প্রশিক্ষণ, নাশকতা প্রতিরোধ এবং মাদক শনাক্তকরণের ক্ষেত্রে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদানের বিষয়েও আলোচনা হয়। ডিজিটাল প্রমাণের যথাযথ ব্যবস্থাপনা, সুনির্দিষ্ট কার্যপদ্ধতি অনুসরণ, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, তদন্ত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সহায়তার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়।

সম্মেলনে রেলওয়ে বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সিইও তাঁর বক্তব্যে ভারতীয় রেলওয়েতে প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জগুলো কার্যকরভাবে মোকাবিলা করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ, আরপিএফ, জিআরপি এবং রাজ্য পুলিশের মধ্যে সমন্বিত প্রচেষ্টা, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, উদ্ভাবন এবং অভিন্ন অঙ্গীকারের প্রয়োজনীয়তার ওপর আলোকপাত করেন। তিনি যাত্রীদের আস্থা অর্জন, সৌজন্যমূলক ও পেশাদার পুলিশি কার্যক্রম নিশ্চিত করা এবং উৎপাদনশীলতা ও কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনকে কাজে লাগানোর ওপরও জোর দেন।

ডিজি/আরপিএফ-এর সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সম্মেলনটি শেষ হয়; তিনি রেল নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য গোয়েন্দা-নির্ভর পুলিশি কর্মসূচির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *