নিবন্ধ পর্ব:১
সজল কান্তি দাশগুপ্ত
বদলে গিয়েছে মানুষের জীবন। covid-19 অর্থাৎ নোভেল করোনা ভাইরাসের মহামারির ফলে সারা বিশ্বজুড়ে আবাল-বৃদ্ধ-বণিতার জীবন হঠাৎ বদলে গিয়েছে।
এই পরিবর্তনের জন্য কেউ কোন ভাবেই প্রস্তুত ছিল না। মহামারি আটকাবার প্রাথমিক পর্ব হিসেবে সারাদেশব্যাপী নেমে এসেছিল এক দীর্ঘমেয়াদী লকডাউন। দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোকে একেবারে পঙ্গু । বিশেষ করে নিম্নবিত্ত এবং নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারগুলি আজ চরম অর্থ সংকটের মুখে। বহু মানুষ চাকরি হারিয়েছেন, ব্যবসা হারিয়েছেন, হারিয়েছে দুবেলা-দুমুঠো আহারের সংস্থান।
এমতাবস্থায় সমাজের একটা বৃহত্তর, অংশ শিশু থেকে বৃদ্ধের জীবনে নেমে এসেছে এক চরম হতাশা। এই ভয়ঙ্কর সঙ্কটময়তার মধ্যে শিশুদের মানসিক টানাপোড়েন একটু অন্যরকম। কেননা বাস্তব পরিস্থিতিকে উপলব্ধি করে তার সাথে মানিয়ে নিয়ে লড়াই করবার ক্ষমতা শিশুদের কম। ফলে শিশুদের হতাশা, মানসিক যন্ত্রণা, তাদের বিষন্নতা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বড়রা উপলব্ধি করতে উঠতে পারে না। অনেক ক্ষেত্রে উপলব্ধি করতে চায়ও না। আর শিশুরাও ভয়ে, সঙ্কোচে সঠিকভাবে প্রকাশ করতে পারে না।
করোনা আবহে শিশুরা হারিয়েছে স্কুল, স্কুলের পরিবেশ, ক্লাসরুম, শিক্ষক, বন্ধুবান্ধব, তাদের সাথে হৈ-হুল্লোড়, খেলাধুলো, উন্মুক্ত পার্ক, পরিবেশ, এদিক ওদিক ঘুরে বেড়ানো, আত্মীয়-স্বজন, তাদের বাড়িতে যাতায়াত, তাদের স্পর্ষ, আরো আরো অনেক কিছু। কিন্তু রয়ে গিয়েছে পড়াশোনা পরীক্ষার চাপ, অভিভাবকদের ২৪ ঘন্টা অনুশাসন। তার সাথে জুটেছে অনলাইন ক্লাস সারাদিনের। নির্দিষ্ট কয়েক ঘণ্টা মাথা গুঁজে রাখার ফলে কোমর ব্যথা করে। স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকাদের কাছে অনলাইনে ক্লাস, প্রাইভেট টিউটরের কাছে অনলাইনে ক্লাস, মাঝে মাঝে স্কুলের প্রজেক্ট, অনলাইনে পরীক্ষা।
