গৃহবন্দি জীবনের ছেলে-মেয়েদের মানসিক স্বাস্থ্য পর্ব:১

নিবন্ধ পর্ব:২

সজল কান্তি দাশগুপ্ত

শিশুরা কি সত্যি সত্যি এসবের জন্য প্রস্তুত ছিল!! তাদের অপরিণত মন এই পরিবর্তনটাকে কিভাবে নিয়েছে আমরা কি ভেবে দেখেছি?? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থারএকটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশের শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য টোল খাচ্ছে। বাড়ছে আত্মহত্যা প্রবণতা। আমাদের দেশের প্রায় ১২ কোটি শিশু পড়ুয়ার একটা বড় অংশকে গ্রাস করেছে একাকীত্ব। তারা মানসিক অবসাদের শিকার। তারা জানে না কিভাবে এর থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে। জানে না কতদিন তাদের কাটাতে হবে এইভাবে। তার মধ্যে কিছু কিছু স্কুল, বিশেষ করে প্রাইভেট স্কুলগুলো অতি সক্রিয়তা দেখাতে গিয়ে চাপিয়ে দিচ্ছে অনলাইন পরীক্ষা, নানা রকমের প্রজেক্ট এর পরীক্ষা। আশানুরূপ ফল না হলে জুটছে অভিভাবক ও শিক্ষকদের বকুনি। সত্যই ছাত্রছাত্রীরা আজ অসহায়। আরেকটি ঘটনা, বেশ কিছু স্কুল একটা নির্দিষ্ট রুটিনে অনলাইন ক্লাসগুলো নিচ্ছে। কিন্তু কিছু কিছু স্কুলের ক্ষেত্রে এমন ঘটনাও ঘটেছে, শিক্ষক-শিক্ষিকারা যখন তখন ক্লাস নিচ্ছেন। সেগুলো স্কুলের সিদ্ধান্ত, না শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত সেটা জানা যায়নি। ফলে ছাত্রছাত্রীরা পড়ছে সমস্যায়। তারা তাদের নিজস্ব রুটিন অনুযায়ী চলতে পারছে না।আরো একটি বিষয় ঠিকমত মানা হচ্ছে না। ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে মোবাইল বা ল্যাপটপ এ ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা তাদের দৈহিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের পক্ষে খুবই ক্ষতিকর। অনেক ছেলে-মেয়েরা পড়তে পড়তে বলছে তাদের ঘাড় ব্যথা করছে, পিঠ ব্যথা করছে, কারো মাথা ধরে যাচ্ছে, কারো চোখ দিয়ে জল পড়ছে। এসব কথা ভেবে কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক একটি নির্দেশিকা জারি করেছে। সেখানে বলা হয়েছে প্রাক প্রাথমিক ক্লাস হবে ৩০ মিনিট, প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণীতে দুটি ক্লাস হবে ৪৫ মিনিট করে, নবম থেকে দ্বাদশ পর্যন্ত চারটি ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট করে ক্লাস হবে। প্রশ্ন হল, এই নির্দেশিকা কি সঠিকভাবে মানা হচ্ছে, এই নিয়মে পড়লে ছাত্র-ছাত্রীরা সিলেবাস শেষ করতে পারবে? স্কুলের ক্লাস এবং প্রাইভেট টিউটরের ক্লাস মিলিয়ে মোট যে সময় ধরে ছেলেমেয়েদের ক্লাস করতে হয় সেটা কি আদৌ কেন্দ্রীয় নির্দেশিকা সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ?বর্তমান পরিস্থিতিতে ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের আরো কতদিন এমন জীবন যাপনের মধ্য দিয়ে যেতে হবে সেই ব্যাপারে কেউ সঠিকভাবে কিছু বলতে পারছে না। তাই তাদের ভালো থাকার জন্য নিজেদেরকেই প্রস্তুত করতে হবে। কি করে ভালো থাকা যায় তা খুঁজে বার করতে হবে। কেননা প্রতিটি ছেলে মেয়ে আলাদা, তাদের ভালো লাগা, না লাগাও ভিন্ন। তবে প্রত্যেককেই ধীরে ধীরে মানিয়ে চলার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। ভালো থাকার জন্য যার যা ভাল লাগে, যেমন ছবি আঁকা, বই পড়া, গান শোনা, আবৃত্তি, বাদ্যযন্ত্র, গল্প-কবিতা- লেখা প্রভৃতির চর্চার মধ্য দিয়ে সময় হবে। কেউ কেউ বাড়ির কাজে হাত লাগাতে পারে। তাতে একটা সুঅভ্যাস গড়ে উঠবে। ছুটিটাকে কাজে লাগিয়ে স্বনির্ভর হয়ে উঠতে পারে অনেকেই। পরিবেশ দূষণের কথা মাথায় রেখে বাগান বানানো বা পরিচর্যা করা একটা ভালো কাজ হতে পারে। সময়ও কাটবে সুন্দর। সমস্ত কিছুর মধ্যে একটি কাজ যেন ছেলেমেয়েরা অবশ্যই করে, সেটা হলো শরীর চর্চা। মনের সাথে দেহ সুস্থ রাখা অত্যন্ত জরুরী। এই সব ক্ষেত্রে অভিভাবকদের সহযোগিতা অত্যন্ত প্রয়োজন। কেননা তাদের উৎসাহ এবং অনুপ্রেরণা থাকলে তবেই ছোট ছেলেমেয়েরা মানসিক অবসাদ কাটিয়ে গৃহবন্দী জীবনে মানসিক ও দৈহিক ভাবে সুন্দর ও সুস্থ থাকতে পারবে।