সরোজ ঘোষ
‘পথের পাঁচালী’ ভারতীয় চলচ্চিত্রে সরকারি আর্থিক অনুদানে নির্মিত প্রথম ছবি। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ডঃ বিধান চন্দ্র রায় প্রথম সরকারি তহবিল থেকে অর্থ বরাদ্দ করে দিয়েছিলেন ‘পথের পাঁচালী’র জন্য। আর সেই সুবাদে এই ছবি ‘কান’ ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে ‘শ্রেষ্ঠ মানবিক দলিল’ হিসেবে বিশ্ববন্দিত হয়েছিল।
সেই বছরই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসব থেকে বারোটি আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করেছিল এই ছবি। ভারতের নবধারার বা আর্ট ফিল্মের পথিকৃৎ হিসেবে ‘পথের পাঁচালী’ বিশ্বের দরবারে ভারতীয় চলচ্চিত্রকে সম্মানের আসনে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছিল।
ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু সত্যজিতের গুণমুগ্ধ ছিলেন। তিনি ‘পথের পাঁচালী’, ‘অপুর সংসার’ দেখেছেন। তারপর দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে সত্যজিৎ রায়কে বলেছিলেন, ‘আপনার অপুর খবর কি? অপুর খবর পেতে আমি উৎসুক’। শোনা যায়, নেহেরুজীর কথা রাখতে ‘অপরাজিত’ করেছিলেন সত্যজিৎ রায়।
‘অপরাজিত’ সত্যজিতের ‘অপু’ ট্রিলজির তৃতীয় ছবি। সত্যজিতের প্রথম ছবি হওয়ার কথা ছিল রবীন্দ্রনাথের ‘ঘরে বাইরে’। কোনো প্রডিউসার রাজি হননি এই ছবিতে টাকা ঢালতে। পরে অবশ্য ১৯৮৪ সালে সৌমিত্র, স্বাতীলেখা, ভিক্টর ব্যানার্জিকে নিয়ে ‘ঘরে বাইরে’ তৈরি করেছিলেন।
‘পথের পাঁচালী’র জন্য কারো উপর ভরসা না করে নিজের টাকা ও বন্ধু-বান্ধবদের থেকে ধার-কর্জ করে টাকা নিয়ে শুটিং শুরু করলেন। মাঝে মাঝে শুটিং বন্ধ থাকে টাকার যোগান এর অভাবে। এক সময় পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে এল যে শুটিং আর এগোলো না। টাকার অভাবে শুটিং বন্ধ হয়ে পড়ে রইল।
