১৯৬৯ সাল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর হাত ধরে ব্যাংক জাতীয়করণ হয়। দিনটি ছিল ১৯ জুলাই। জনসাধারণের কষ্টার্জিত টাকা সুরক্ষিত করার জন্য ব্যাংক জাতীয়করণ করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন নীতিতে এই জাতীয়করণ হওয়া রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকগুলি ধীরে ধীরে বেসরকারিকরণ করা হচ্ছে, এতে শুধুমাত্র সাধারণ মানুষ নয় তার সাথে ব্যাংক কর্মচারীরাও যে বহু সমস্যার মধ্যে পরবেন সেই অভিযোগ তোলেন সঞ্জয় দাস,সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ,আইনবফ,রাজ্য সম্পাদক আইবক,সর্বভারতীয় সভাপতি ফেডারেশন অফ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া অফিসার্স এসোসিয়েশন । সঙ্গে ছিলেন সৌম্য দত্ত,সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক আইবক, সুভোজ্যতি চট্টোপাধ্যায়,সভাপতি,আইবক,রাজ্য শাখা।
আজ সাংবাদিক সম্মেলনে সঞ্জয় বাবু বলেন, ১৯৬৯ সালের ব্যাংক জাতীয়করণ আইন এবং ১৯৭০/৮০ র ব্যাংকিং কম্পানি ইকুইজিশন এন্ড ট্রান্সফার অফ প্রপার্টি আইন সংশোধনের প্রস্তাব আনা হতে পারে সংসদের বাদল অধিবেশনে এমনটাই আশঙ্কা করছি। এর ফলে দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের পক্ষে অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর ও চরম ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে বলে আমি মনে করছি। তিনি আরো বলেন যেখানে ৮ হাজারের মতন সারাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের শাখা ছিল প্রথম দিকে সেই শাখা বেড়ে প্রায় দেড় লাখের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। করোনাকালে ব্যাংকের কর্মীরা অনবরত পরিশ্রম করে সাধারণ মানুষকে পরিষেবা দিয়ে গেছেন। সরকারের সমস্ত জনকল্যাণমূলক পরিকল্পনাগুলি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক সফল করেছে। ব্যাংক বেসরকারিকরণ হলে শিক্ষা ঋণ সহ বহু প্রকল্প থেকে সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হবেন বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
সঞ্জয় বাবুর কথায় বেসরকারিকরণের বিরুদ্ধে আমরা বারবার প্রতিরোধ গড়ে তুলছি। সাধারণ মানুষের কাছে আরও বেশি মাত্রায় পৌঁছে যাচ্ছি। এই বেসরকারিকরণ নিয়ে তার প্রতিবাদে পশ্চিমবঙ্গ অল ইন্ডিয়া ব্যাংক অফিসার কনফেডারেশন দুদিন ধরে রাস্তায় নেমে তুমুল প্রচার চালাচ্ছেন পুস্তিকা বিলি করছেন ও অটোরিকশা মাইক লাগিয়ে জনমত সংগ্রহ জন্য মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছেন।
ভ্যাক্সিনেশন নিয়ে সঞ্জয়বাবু রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন রাজ্যের সমস্ত রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের কর্মচারী এবং অস্থায়ী কর্মচারী ইতিমধ্যেই ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে।
এছাড়া বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় ব্যাংকের কিছু কিছু পরিষেবা যেমন পাস বই মুদ্রণ ঠিকঠাকভাবে হচ্ছে না সেই অভিযোগ নিয়ে সঞ্জয়বাবু বলেন করোনার জন্য শারীরিক দূরত্বও মানতে গিয়ে এমনিতেই কর্মীরা রোস্টার ডিউটি করছেন তার ওপর কর্মী নিয়োগ আগের থেকে অনেক কমে গেছে। এছাড়া রয়েছে সংক্রমনের ভয়। সঞ্জয়বাবু ব্যাংক সংযুক্তিকরণ নিয়ে বলেন, এই সংযুক্তিকরণ এর ফলে প্রায় সাড়ে তিন হাজার ব্যাংকের শাখা কমে গিয়েছে। তার সাথে বিভিন্ন রকম সমস্যা হচ্ছে। গ্রাহকরা ঠিকঠাকভাবে পরিষেবা পাচ্ছেন না। অনেক শিক্ষিত যুবক বেকার হয়ে যাবেন , এর ফলে বেকারত্ব বৃদ্ধি পাবে।
বেসরকারিকরণের বিরুদ্ধে বারবার প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন বলেও সঞ্জয়বাবু সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন । কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আওয়াজ পৌঁছে দিতে চান সঞ্জয় বাবু। আগামী দিনে আরও বড় লড়াইয়ের দিকে এগোনোর হুঁশিয়ারি দিলেন সঞ্জয় দাস।
