গত ২০ আগস্ট, দক্ষিণবঙ্গ সীমান্তের অধীনে ৭৮ ব্যাটালিয়নের সতর্ক জওয়ানরা ২ ভারতীয় চোরাচালানীদের সঙ্গে ৪ গবাদি পশুকে সীমান্ত চৌকি সোভাপুর টিপি এলাকা থেকে ধরেছে। যখন ওই দুজন চোরাচালানী চারটি গবাদি পশু নিয়ে গঙ্গা নদী পার হয়ে বাংলাদেশে যাওয়ার চেষ্টা করছিল।
ঐ দিন সকালে বিএসএফ গোয়েন্দারা তথ্য পেয়েছিল যে ২ জন ভারতীয় চোরাচালানকারী ৪টি গবাদি পশু নিয়ে সীমা চৌকি সোভাপুর টিপির চর এলাকা হয়ে বাংলাদেশে যাওয়ার চেষ্টা চলেছে। সেই তথ্য কোম্পানি কমান্ডার, সীমা চৌকি সোভাপুরের সাথে তাৎক্ষণিকভাবে শেয়ার করা হয় এবং তিনি অবিলম্বে একটি নৌকা টহল দল গঠন করেন এবং নির্ধারিত এলাকায় চেক করার জন্য দলটি পাঠান। সকানদীর চর এলাকায় এইচএইচটিআই (নাইট ক্যামেরা) দ্বারা কিছু চোরাচালানকারীদের সাথে গরুর চলাচল লক্ষ্য করে । এর পর বিএসএফ নৌকা পার্টি তাদের নদীতে ঘিরে ফেলে এবং একটি ভারতীয় চোরাচালানীর সাথে ৪ টি গবাদি পশু জব্দ করে। পরে, এলাকায় তল্লাশি করে আরও ১ জন ভারতীয় চোরাচালানকারী ধরা পড়ে, যে চর এলাকাতেই লুকিয়ে ছিল, এবং সে প্রথম ধরা পড়া চোরাচালানীর সহযোগী ছিল।
গ্রেফতারকৃত পাচারকারীদের জিজ্ঞাসাবাদে তাদের পরিচয়
1) মাসুদ রানা, পিতা – ফাসুদ্দিন শেখ, গ্রাম – দেওনাপুর, ডাক – দেওনাপুর, থানা – বৈষ্ণব নগর জেলা- মালদা
ii) আমির শেখ (২৯ বছর) পিতা- সুবল শেখ গ্রাম- শোভাপুর
থানা- বৈষ্ণব নগর, মালদা ভারত বলে প্রকাশ পায়।
চোরাচালানকারীরা জানিয়েছে যে তারা দেওনাপুর গ্রামের আনোয়ার শেখ পিতা -অফিসার শেখের সাথে দেখা করেছিল। আনোয়ার বলেছিল যে ভারত থেকে বাংলাদেশে এই ৪ টি গবাদি পশু অতিক্রম করার পর তারা ১০,০০০/- ভারতীয় টাকা পাবে। তাদের বাংলাদেশে গিয়ে এই গবাদি পশু মাস্টার শেখকে দিতে বলা হয়েছিল, যে গ্রাম- মনোহরপুর, ডাক: হাসানপুর, বাংলাদেশর বাসিন্দা। চোরাচালানকারীরা বলে যে তারা যখন চোরাচালানের পরিকল্পনা করত, তখন তারা বিএসএফ -এর সজাগ দায়িত্ব দেখে পার করতে সাহস পায়নি । আজ তাড়াতাড়ি গবাদি পশু চোরাচালানের জন্য নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল কিন্তু নদীর মাঝখানে বিএসএফের হাতে ধরা পড়ে।
গ্রেফতারকৃত ভারতীয় চোরাচালানীদের পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য বৈষ্ণবনগর থানায় হস্তান্তর করা হবে।
৭৮ ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডিং অফিসার বিশ্ববন্ধু বলেন, গরু চোরাচালানীরা বন্যার সুযোগ নিয়ে তার এলাকায় পাচারের চেষ্টা করে কিন্তু সতর্ক বিএসএফ কর্মী এবং আধুনিক নাইট ক্যামেরার সাহায্যে তাদের পরিকল্পনা নস্যাৎ করা হয় এবং ভবিষ্যতেও করা হবে।
