শাশ্বতী মাইতি

লক্ষ্মী অর্থাৎ মঙ্গলময়ী, সর্বদা মঙ্গল ও শুভ কিছুকে উদ্দেশ্য করে আমরা এই লক্ষ্মী শব্দ ব্যবহার করি।মৃন্ময়ী লক্ষ্মী প্রতিমার পুজো আজ ঘরে ঘরে হবে, কিন্তু প্রতিটা ঘরে ঘরে যে জীবন্ত লক্ষ্মীর অধিষ্ঠান তাকে যদি স্নেহ-মমতা-ভালবাসা-শ্রদ্ধা দিয়ে আমরা বরণ করতে না পারি তাহলে এই মাটির লক্ষী প্রতিমার আয়োজন বৃথা। ‘কোজাগরী’ শব্দটি এসেছে কো জাগতী অর্থাৎ কে জেগে আছো কথা থেকে। বলা হয় যার কিছু নেই সে পাওয়ার আশায় জেগে আছে,আর যার আছে সে না হারানোর আশায় জাগে।কথিত আছে,এই কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর পূর্নিমা রাতে লক্ষীদেবী খোঁজখবর নেন-দেখতে বেরোন কে জেগে আছে? “নিশীথে বরদা লক্ষ্মী জাগরত্তিতিভাষিনী তস্মৈ বিত্তং প্রযচ্ছামি অক্ষৈঃ ক্রীড়াং করতি যঃ”। ‘অক্ষ ক্রীড়া’ কথাটির অর্থ পাশা খেলা-যে জেগে অক্ষ ক্রীড়া করে লক্ষী তাকে ধন সম্পদ দান করেন। কিন্তু আসল কথা কি?আসল কথা হল জেগে থাকা। জেগে থাকা মানে নিজেদের শুভচেতনার চোখ খুলে রাখা,আর সেই শুভশক্তির জাগরণে যে প্রাপ্তি সেটাই আসলে মায়ের চোখে কৃপা পাওয়া। আমরা যে বৈষয়িক অর্থ বুঝি মা লক্ষ্মীর কাছে সেই বৈষয়িক অর্থের প্রেক্ষাপট অনেক বৃহৎ, যেটা আপাতদৃষ্টিতে বোঝা মুশকিল।

*আমার তো কিছু নেই আমি পাওয়ার আশায় জেগে থাকবো-চলার শক্তির আশায় জেগে থাকবো- সততা-স্বচ্ছতা-মানবিকতার পাহারায় জেগে থাকবো।সব জাগতে রহো-মানবিকতাই শ্রেষ্ঠ সম্পদ ইয়েভি কহো। ‌‌