মমতা দে
আজ দুপুরে মিনিট পনেরো কারেন্ট অফ ছিল। কী যে অসহ্য লাগছিল!! কীভাবে কখন যেন অভ্যাসের দাস হয়ে গেছি!! অথচ কিছুদিন আগে পর্যন্তও ঘন ঘন লোডশেডিং হত। সেই অবস্থা চলত ঘন্টার পর ঘন্টা। ইনভার্টার তো অনেক পরের গল্প! আর আজকাল তো কলকাতায় অন্তত ইনভার্টারের দরকার পড়ে না।
ছোটবেলার দিনগুলো ভীষণ মনে পড়ে। মন জুড়ে গরমকালের অনেক স্মৃতি আছে, কিন্তু গরমের অসহ্য অনুভূতির কোন স্মৃতি নেই। আমার তখন চার, বোনের আড়াই। রোজ বিকেলে মা হালকা গোলাপী বা হালকা হলুদ হাতাকাটা সুতীর জামা পড়িয়ে পাউডার মাখিয়ে দিত। আমি বোনের হাত ধরে আমাদের ভাড়া বাড়ির পাশে অরুণাচল সংঘের মাঠে গিয়ে খেলতাম। মাঠের ওপারেই ছিল বাবার মামাবাড়ি। বাবার নয় মামা। শেষের দিকের মামারা প্রায় বাবার বয়সী। সেই মামাদের একজনের ছেলেও আমাদের সাথে খেলায় যোগ দিত। খেলতে খেলতে বারবার রাস্তার দিকে তাকাতাম। দোতলা বাস দেখলেই খেলা ছেড়ে খানিকটা এগিয়ে যেতাম। বাস দেখার জন্য নয় কিন্তু। আসলে বাবা ফিরেছে নাকি, সেটাই দেখতাম। বাবার কর্মস্থল ছিল সাঁতরাগাছি। আর তখন না ছিল ফ্লাইওভার, না ছিল মেট্রো। সেকেন্ড হুগলী ব্রিজই বা কোথায়? কলকাতায় তখন প্রবল যানজট। বাবার ফিরতে ফিরতে কোন কোন দিন বিকেল পেরিয়ে সন্ধ্যা হয়ে যেত। বাবা ফেরার সময় কখন আম, কখন জলযোগের কাপকেক বা রসগোল্লা নিয়ে আসত। বিকেলের সেটাই ছিল টিফিন।
