গর্ভাবস্থায় রক্তচাপ বাড়ার কোনও সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও পর্যন্ত জানা যায়নি। কিন্তু এটি প্রমাণিত যে গর্ভবতী মহিলাদের প্রতি ১০০ জনের মধ্যে দশ জনের রক্ত চাপ বাড়ে। চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা খুবই জরুরী – জানালেন কলম্বিয়া এশিয়া হাসপাতালের বিশিষ্ট স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আভিনিবেশ চট্টোপাধ্যায়।

গর্ভাবস্থায় ব্লাড প্রেসার বাড়লে অনেক সময় প্রস্রাব দিয়ে প্রোটিন বেরিয়ে যায়। সেইজন্য এই সময় হাই ব্লাড প্রেশার ধরা পড়লে ইউরিন টেস্ট করে এটা দেখে নেওয়া হয়।এই দুই সমস্যাকে একসঙ্গে বলে প্রিএক্লাম্পশিয়া। এই অবস্থা মা ও সন্তান দুজনের জন্যেই ঝুঁকিপূর্ণ।তাই দ্রুত চিকিৎসা শুরু করতে হয়।

সন্তান গর্ভে আসার ২০ সপ্তাহের কাছাকাছি সময়ে রক্তচাপের হেরফের হওয়ার ঝুঁকি খুব বেশি। আবার প্রেগনেন্সিতে ব্লাড প্রেসার স্বাভাবিক না থাকলে হবু মা ও গর্ভস্থ সন্তানের নানান রকম বিপদের ঝুঁকি বাড়ে। এই সময় প্রয়োজন হলে হবু মাকে ভর্তি রেখে নিয়মিত মনিটরিং করার দরকার হতে পারে।তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ওষুধের সাহায্যে রক্তচাপ ঠিক রাখা যায়।

চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের ধারণা, গর্ভাবস্থায় বিভিন্ন হরমোনের মাত্রার পরিবর্তন ও স্ট্রেসের জন্য রক্তচাপ বৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকে। যাঁদের বংশে উচ্চ রক্তচাপের ইতিহাস আছে তাঁদের হাই ব্লাড প্রেশারের ঝুঁকি বেশি থাকে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রসবের দু-তিন মাসের মধ্যে মায়েদের রক্তচাপ স্বাভাবিক হয়ে যায়।কিন্তু এঁদের মধ্যে কারো কারো ব্লাড প্রেশার আর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে না। এ ক্ষেত্রে তাকে নিয়মিত রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ওষুধ খাওয়ার সঙ্গে ওজন স্বাভাবিক রাখতে হবে। সঠিক ডায়েট ও নুন কম খাওয়ার মতো কিছু নিয়মও মেনে চলতে হবে। কারণ গর্ভাবস্থায় রক্তের চাপ অনিয়ন্ত্রিত হলে বা বেশি থাকলে প্রিএক্লাম্পশিয়ার মত সমস্যার ঝুঁকি খুব বেশি হয়।

যে মহিলারা হাইপারটেনশন নিয়েই অন্তঃসত্ত্বা হন তাঁদের রক্তচাপ অনেক সময় আরও বেড়ে যায়। তাছাড়া প্রিএক্লাম্পশিয়ার ঝুঁকিও অন্যদের তুলনায় এঁদের অনেক বেশি থাকে। ১৮ বছরের কম বয়সে মা হতে গেলেও এই জটিল সমস্যার সম্ভাবনা থাকে।আবার যাঁদের প্রথম সন্তানের জন্মের সময় রক্তচাপ বেড়ে গিয়েছিল, দ্বিতীয় সন্তানের ক্ষেত্রেও যথেষ্ট ঝুঁকি থাকে।ডায়াবিটিস থাকলেও গর্ভাবস্থায় রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে।এ ছাড়া বেশি বয়সে প্রথমবার মা হতে গেলে প্রিএক্লামশিয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

এ দেশে প্রসূতিদের মৃত্যুর একটা বড় কারণ উচ্চ রক্তচাপ। সাধারণত হবু মা কিন্তু রক্তচাপ বৃদ্ধি বুঝতে পারেন না। আসলে উচ্চ রক্তচাপের সে রকম নির্দিষ্ট কোনও উপসর্গ নেই। তবে রক্তচাপ বাড়তে শুরু করলে মাথা ঘোরা, মাথার যন্ত্রণা, হাঁপিয়ে ওঠা, কাজে অনীহা, দুর্বলতা ও পা ফোলার মত কিছু সাধারণ লক্ষণ দেখা যায়। তাই গর্ভে সন্তান এলেই হবু মায়ের রক্তচাপ নিয়মিত চেক করতে হয়। কোনও উপসর্গ দেখলে অবিলম্বে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।​ ।রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখার একমাত্র উপায় নির্দিষ্ট মাত্রার ওষুধ খাওয়া।সন্তান গর্ভে এলে ওষুধ খাওয়ার ব্যাপারে কিছু নিয়ম মেনে চলতে হয়।কিন্তু রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ওষুধ না খেলে ক্ষতির সম্ভাবনা বাড়ে।অনেক নিরাপদ ওষুধ আছে যা মা ও শিশুর জন্যে উপযুক্ত। চিকিৎসকের নির্দেশ ছাড়া কিন্তু কখনোই ওষুধ খাওয়া বন্ধ করা যাবে না। গর্ভস্থ ভ্রূণ ও মায়ের সুস্থতার জন্যে উচ্চ রক্তচাপে ওষুধ খাওয়া জরুরি।
হেল্প লাইনঃ ০৩৩-৩৯৮৯৮৯৬৯