আজ সিঙ্গুরের কামারকুন্ডুর ভারতী সংঘে এক গ্রাম সভার আয়োজন করা হয় ব্যাংক অফিসার্স সংঘটন এর পক্ষ থেকে।সভায় উপস্থিত ছিলেন আইবক এর রাজ্য শাখার সম্পাদক সঞ্জয় দাস । আজ দেশব্যাপী কৃষক আন্দোলনের বিজয় উৎসব কে সামনে রেখে তারা রাজ্যের কৃষক আন্দোলনের পীঠস্থান সিঙ্গুর কে বেছে নিয়েছেন বলে জানান তারা।সভায় উপস্থিত ছিলেন গ্রামে র পঞ্চায়েত প্রধান ও উপপ্রধান । গ্রামীণ অর্থনীতিতে সরকারি ব্যাংক এর প্রভাব এবং মানুষের আর্থিক অগ্রগতি তে তার ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়। সরকারী ব্যাংকের সহায়তায় গ্রামীণ অর্থনীতি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে কিভাবে স্বনির্ভর হয়েছে সে ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করেন নেতৃবৃন্দ।
এমত অবস্থায় কেন্দ্রীয় সরকার ,সংসদ এর শীতকালীন অধিবেশনে ব্যাংকিং সংশোধন বিল ২০২১, পাস করিয়ে নিয়ে সরকারি ব্যাংক গুলোকে বেসরকারি ঋণ খেলাপিদের হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করছে , একথা উঠে আসে সভা থেকে । এর বিরোধিতা করে আগামী ১৬ ও ১৭ ডিসেম্বর সংযুক্ত মোর্চার ডাকে সারা ভারত ব্যাপী ব্যাংকের ধর্মঘটে সাধারণ জনগন কে সামিল হওয়ার আহ্বান করা হয় । সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মাননীয় সঞ্জয় দাস মনে করান কি ভাবে ব্যাংক রাষ্ট্রীয়করণের মাধ্যমে দেশের সাধারণ মানুষ কে ব্যাংকিং পরিসেবা এর অন্তর্ভুক্ত করে দেশে সবুজ বিপ্লব শ্বেত বিপ্লব ও মৎস্য বিপ্লব ঘটানো হয়েছিল এবং আজ খাদ্যশস্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে।আজ এই বিল পাস করানোর মাধ্যমে সরকার দেশ তথা দেশের সাধারণ কৃষক, সীমান্ত কৃষক ,ক্ষুদ্র ও ছোট মজদুর, ক্ষুদ্র ও ছোট ব্যবসায়ী ,ছোট মাঝারি শিল্পের মালিক দের সেই পুরনো মহাজনী ব্যবস্থায় পাঠাতে চাইছেন । ব্যাংক বেসরকারিকরণের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কস্টার্জিত জমা টাকার সুরক্ষা বিঘ্নিত হবে। আত্মনির্ভর হওয়ার প্রচেষ্টা জলে চলে যাবে যেভাবে অতীতে নানান ব্যাংক এবং হালে পিএমসি ,ইয়েস ব্যাংক এর মতন ব্যাংকে এর ওপর ভরসা করে মানুষের টাকা জলে গেছে। যাকে উদ্ধার করতে রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংককে পাশে দাঁড়াতে হয়েছে। বেসরকারিকরণের ফলে আমজনতার সমূহ ক্ষতি হবে।
এই গ্রাম সভায় দাড়িয়ে আগামী দিনে সরকারের এই কালা আইন এর বিরোধিতা স্বরূপ সারা বাংলায় আরো গ্রাম সভা করার পরিকল্পনা করা হয় ।
